রংপুরের মিঠাপুকুরে শালবনে হচ্ছে ইকোপার্ক

 


রংপুর প্রতিনিধি

উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার শালবনে। সরকারিভাবে গড়ে উঠছে ইকোপার্ক। এটি হবে এ উপজেলার অন্যতম পর্যটন ও বিনোদনকেন্দ্র।  মিঠাপুকুরে শাল্টি গোপালপুর এলাকার শালবনকে ঘিরে চলছে পার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ।

ইকোপার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শেষ হয়েছে। এখন তৃতীয় ধাপের কাজ চলছে। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সীমানা প্রাচীরের কাজ অর্ধেক শেষ হয়েছে। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে চলছে তোড়জোড়।


রংপুর বিভাগীয় বন অফিস সূত্রে জানা গেছে, বনবিভাগের ২২৬ একর এলাকা নিয়ে ২০১৩ সালে শুরু হয় ইকোপার্কের অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ। ওই সময় ২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় পাকা সড়ক, ২০টি ব্রেঞ্চ, দোলনা, পিকনিক স্পট, দর্শনার্থীদের বিশ্রাম কক্ষ, ওভারহেড পানির ট্যাঙ্ক, ছাতা, গোলঘর। এছাড়া পার্কের ভেতর খনন করা হয়েছে ক্যানেল । কাজ পুরোপুরি শেষ না হতেই দর্শনার্থীদের আগাগোনা বেড়েছে এই পার্কে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে চাহিদা ধরা হয়েছে ১শ’ কোটি টাকা।

২০১৩ সালের ১২ আগস্ট ইকোপার্কটি উদ্বোধন করেন রংপুর-৫ আসনের এমপি এইচএন আশিকুর রহমান। সাত বছরে সেখানে বেশ কিছু স্থাপনা ও অবকাঠামো দৃশ্যমান রয়েছে। 

মিঠাপুকুরের এ শালবনে রয়েছে প্রায় ১৫০ বছরের পুরানো শাল গাছ। মাঝেমধ্যে উলডট, বাঁশ ও বেত বাগান করা হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রজাতির বন্যপ্রাণী রয়েছে এ বনে। জাতীয় উদ্যান ঘোষণার পর এখানে শোভাবর্ধনকারী ও ভেষজ উদ্ভিদের বাগান সৃজন কর্মসূচি চলমান।

সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং জীববৈচিত্র সংরক্ষণে পার্কটি দর্শনার্থীদের কাছে টানবে। পার্কের কার্যক্রম পুরোদমে চালু না হওয়ায় এখনো সেখানে বহিরাগতদের পাশাপাশি স্থানীয়রা ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করতে পারছে। ইকোপার্ক জনসাধারণের জন্য এখনো উন্মুক্ত না হলেও বিভিন্ন দিবসে সেখানে মানুষের ঢল নামে। এরই মধ্যে পার্কটিতে অবমুক্ত করা হয়েছে অজগর, তক্ষক ও বনবিড়াল। এ কারণে নিরাপত্তা রক্ষায় পার্কের গভীর অরণ্যে জনসাধারণের প্রবেশে বিধিনিষেধ রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা রকি মাহমুদ বলেন, আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হয়েছে। ইকোপার্কের অনেক কাজ এখনো বাকি। কাজ শেষে পার্কটি চালু করা হলে অনেকের কর্মসংস্থান হবে। 

গোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিরুল কবীর বলেন, তৃতীয় ধাপে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ কাজ চলছে। অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হলে পার্কটি দৃষ্টিনন্দন হবে।

শাল্টি গোপালপুর বনবিট কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, জীববৈচিত্র সংরক্ষণ ও ইকোট্যুরিজম উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় মিঠাপুকুর ইকোপার্কে উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ২০১৩ সালে ইকোপার্ক নির্মাণে প্রথম বরাদ্দ মেলে। এরপর দুই ধাপে উন্নয়ন কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে তৃতীয় ধাপের উন্নয়ন কাজ চলছে।


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 475768978167141792

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item