জোরকদমে চিলাহাটি- বদলে গেছে হলদিবাড়ি

নিজস্ব প্রতিনিধি-ভারতের হলদীবাড়ির সঙ্গে বাংলাদেশের নীলফামারীর ডোমার উপজেলার চিলাহাটি সীমান্ত দিয়ে সরাসরি ব্রডগেজ রেল যোগাযোগ স্থাপনে বাংলাদেশে অংশের নির্মান কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ও ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট নির্মানের জন্য  মাটিভরাটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে ইমিগ্রেশন চেকপোষ্ট নির্মান কাজ।
অন্যদিকে রেল লাইন বসানোর জন্য বেড নির্মান শেষ হয়েছে।
৭টি ব্রীজের কাজ সম্পন্ন হবার পথে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানাগেছে, ব্রীজ নির্মান শেষ হলে মার্চের প্রথম সপ্তাহ থেকে চিলাহাটি থেকে হলদীবাড়ী সীমান্ত পর্যন্ত বাংলাদেশ অংশে ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার এবং ২ দশমিক ৬৩৬ কিলোমিটার লুপ লাইনসহ মোট ৯ দশমিক ৩৬০ কিলোমিটার রেলপথে বসানো হবে ব্রডগেজ লাইন।
ইতোমধ্যে লাইনগুলো বিদেশ থেকে আমদানি করে চিলাহাটিতে নিয়ে আসা হয়েছে।এপ্রিলের প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে শুরু হবে পাথর বসানোর কাজ।
নির্মান কাজের প্রজেক্ট ম্যানেজার রোকনুজ্জামান শিহাব বলেছেন,আমরা নির্ধারিত সময়ের আগেই এই কাজ সমাপ্ত করতে সক্ষম হবো।
        অন্যদিকে ভারত সরকার ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে তাদের অংশে ৪ দশমিক ৩৪ কিলোমিটার রেলপথের নির্মানকাজ শেষ করে। ওই অংশে ২০১৭ সালের ৫ নভেম্বর কাজ শুরু করে ও সমাপ্ত করে ২০১৮ সালের ১৪ মার্চ।
সেদিন পরীক্ষামূলক ইঞ্জিন চালিয়েছে তারা। হলদিবাড়ি স্টেশন আধুনিকায়নের কাজও  এ বছরের (২০২০) শুরুতে সমাপ্ত হয়েছে ।
ভারতীয় গনমাধ্যম সূত্রে জানাগেছে  হলদিবাড়ি স্টেশন এখন নতুন সাজে সজ্জিত। ইতিমধ্যে উদ্বোধন হয়েছে  ৪ টি প্ল্যাটফর্ম,রানিং রুম,স্টেশনের নতুন ভবন ,টিকিট কাউন্টার,যাত্রী প্রতীক্ষালয় ও টিটি রুম।
লেগেছে নতুন গ্লো সাইনবোর্ড। বসেছে ইলেকট্রিক সিগন্যাল। এখন চলছে স্টাফ কোয়ার্টার, ও লুপ লাইন পাতার কাজ।

 বাংলাদেশ অংশে গত বছরের (২০১৯) ২১ সেপ্টেম্বর রেলপথ মন্ত্রী এ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন এমপি, চিলাহাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই রেলপথের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশস্থ ভারতীয় হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাস।
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে এই কাজের প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। যা প্যাকেজ মূল্যে প্রকল্পটির কাজ চলছে ৬৮ কোটি ৮২ লাখ ৬০ হাজার টাকায়।
উল্লেখ যে, চিলাহাটি-হলদিবড়ি রুটটি চালু হলে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে এটি হবে আন্তর্জাতিকভাবে তৃতীয় রেলপথ। বিগত সময়ে কলকাতা থেকে ছেড়ে আসা ট্রেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের ভেতর ঢুকে খানিকটা পথ অতিক্রম করার পরে আবার ভারতে প্রবেশ করত। এছাড়া নীলফামারীর চিলাহাটি থেকে প্রতিদিন সকাল ও বিকেলে ভারতের হলদিবাড়ি হয়ে নিউজলপাইগুড়ি পর্যন্ত চলাচল করত পার্সপোট ট্রেন। কিন্তু ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তুলে ফেলা হয়েছিল রেলপথটি। ৫৫ বছর পরে সেই পথ আবার চালু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারত। বর্তমানে ঢাকা কলকাতা, খুলনা কলকাতা যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল করছে। চিলাহাটি-হলদিবড়ি রুটটি চালু হলে ভারত বাংলাদেশের মধ্যে যাত্রী পরিবহনে এটি হবে আন্তর্জাতিকভাবে তৃতীয় রেলপথ। বাংলাদেশ ও ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় উন্নয়ন সহযোগিতায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া পুরানো সীমান্ত রেলওয়ে সংযোগ পুনরায় চালুর উদ্যোগে ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনা ভারত সফরের সময় এই রেলপথের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়।





পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 7646879659631314868

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item