ড্রাগন চাষে সাবলম্বী কৃষক ইসমাইল


এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ

দিনাজপুরের পার্বতীপুরে বিদেশী ফল ড্রাগণ চাষে আগ্রহ বাড়ছে এলাকার কৃষকদের। অনেকেই ড্রাগন চাষ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে ড্রাগন চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন এলাকার কৃষক ইসমাইল কাজী। অন্য ফসলের তুলনায় অল্প সময়ে ভালো ফলন পাওয়ায় ড্রাগন ফল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অনেক কৃষক।  এর মধ্যে কৃষক ইসমাইলের ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় চাষীরা।

জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার ৬ নম্বর মোমিনপুর ইউনিয়নের হয়বৎপুর এলাকার মৃত দানেশ কাজী ও মতিজন নেছার ছেলে ইসমাইল কাজী। বছর খানেক আগে খবরের কাগজে ড্রাগণের চাষের সফলতার বিষয়ে খবর দেখে তার জমিতে ড্রাগন চাষে অনুপ্রানিত হন। পরামর্শের জন্য যোগাযোগ করেন উপজেলা কৃষি অফিসে। এমন উদ্যোক্তা পেয়ে শতভাগ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান খান। এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় ইসমাইল কাজী নামের ওই কৃষককে ড্রাগন চাষের ওপর প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করেন তিনি। প্রশিক্ষন শেষে তার জমিতে করা হয় ড্রাগণের প্রদর্শণী প্লট। এর পর গতবছর ইসমাইল কাজী তার ৬০ শতক জমিতে শুরু করেন ড্রাগণ ফলের চাষ। কৃষি অফিস থেকে চারা ও সার সরবরাহ করায় উপকরণ হিসেবে তাকে শুধু কিনতে হয় খুটি ও টায়ার। ফলে অল্প খরচেই ড্রাগন চাষের সুযোগ পান তিনি। ক্যান্সার প্রতিরোধকর ও সুস্বাদু হওয়ায় বাজারে এ ফলের চাহিদাও রয়েছে ব্যাপক। বাজারে পাইকেরীতে কেজি প্রতি এ ফল বিক্রি হয় ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। 

পোকার সংক্রমণ কম হওয়ায় এর উৎপাদন খরচও কম হয়ে থাকে। ফলে অন্য ফসলের চেয়ে ড্রাগন চাষ তুলনামূলকভাবে লাভবান হয়ে থাকে। পার্বতীপুরের মাটি ড্রাগন ও মাল্টাসহ বিভিন্ন ফসল চাষের জন্য উপযোগী হওয়ায় দিন দিন এ জাতীয় ফল চাষের দিকে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা।


যোগাযোগ করা হলে ইসমাইল কাজী ড্রাগন চাষ সম্পর্কে বলেন, ড্রাগন চাষ কর প্রথম বছরই ভালো ফলন পেয়েছি। বাজারে এর চাহিদাও বেশি হওয়ায় বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি। পার্বতীপুরের মাটি এসব বিদেশী ফল চাষের জন্য উপযুক্ত হওয়ায় চিরাচয়িত ধান, গম ছেড়ে ব্যতিক্রমী অর্থকরী ফসল হিসেবে ফল চাষের জন্য কৃষকদের আহবান জানিয়েছেন তিনি। তার মতে, একই জমিতে অন্য ফসল উৎপদনের চেয়ে ফল চাষ করে কয়েকগুণ বেশি লাভ করা সম্ভব। ইসমাইল কাজী আরও বলেন, কৃষি অফিসের সার্বিক সহযোগীতায় এখন পর্যন্ত প্রায় দেড় লক্ষাধিক টাকার ড্রাগন বিক্রি করতে সক্ষম হয়েছেন। আগামী বছর এর পরিমান ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা হবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।


এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পার্বতীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিবুজ্জামান খান বলেন, কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগীতায় কৃষক ইসমাইল কাজী তার বাগানে ড্রাগনের চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। আগামী বছর তার বাগানের ফলন আরও বেশি হবে। পার্বতীপুরের মাটি উর্বর ও ফল চাষের জন্য উপযোগী। ইসমাইল কাজীর মতো কৃষকদের সহযোগীতায় বাংলাদেশকে আমদানী নির্ভর না থেকে দেশের মাটিতে বিদেশী ফল উৎপাদনের উদ্যোক্তা তৈরীর লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে কৃষি বিভাগ ।


পুরোনো সংবাদ

দিনাজপুর 7231240493034246417

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item