সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুর্য আটোয়ারীর শতবর্ষী বৃদ্ধাকে বাড়ির জন্য দিলেন জমি


সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়:

শতবর্ষী বৃদ্ধার পাশে দাঁড়াল সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুর্য। পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর এলাকার বাসিন্দা শতবর্ষী ইশারন নেছা স্বাধীনতার পরপরই হারিয়েছেন স্বামী মজত আলীকে। নিজের চার মেয়েকে বিয়ে দিয়ে স্বামী বিয়োগের পর থাকতেন সৎ ছেলের কাছে। সৎ ছেলে মারা গেলে সর্বস্ব বিক্রি করে চলে যান একই ইউনিয়নের পাখরতলা গ্রামে মেয়ে আজিমার বাড়িতে। ১৫-১৬ বছর ধরে সেখানেই রয়েছেন। ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। বয়সের ভাড়ে এখন তেমন হাঁটতেও পারেননা। এর মধ্য গত এক মাস আগে এক মেয়ের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পড়ে পায়ে আঘাত পান তিনি। এর পর থেকে চলাচল করতে পারেননা এই বৃদ্ধা। এই অবস্থায় শয্যাশায়ী মা'কে দেখভালে অসুবিধা হওয়ায় মেয়ে আজিমা তাকে রেখে আসে সৎ ভাই জাহিরুলের বাড়িতে। জাহিরুল ও তার ছেলে সলেমান বৃদ্ধাকে এক মাস দেখাশুনা করার পর তাকে আবার রেখে যান আজিমার বাড়ি। কয়েকদিন পর আজিমা আবার রেখে আসে জাহিরুলের বাড়ি। এভাবে এক পর্যায়ে তাঁরা গত বুধবার সন্ধ্যায় তাদের মা'কে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে রেখে চলে যায়। রাত হলেও তাকে কেউ বাড়িতে নেয়নি। স্থানীয়দের নজরে এলে কয়েকজন যুবক বৃদ্ধার খাবারের ব্যবস্থা করেন। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যরা তার মেয়ে আজিমার বাড়িতে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে আজিমা আবারও তার মাকে মির্জাপুর উত্তরা বাজারের একটি দোকানের সামনে রেখে চলে যায়। সেখানে বসে বসে কাঁদছেন ওই বৃদ্ধা। সন্ধ্যায় ঝড় বৃষ্টি শুরু হলেও কোনো সন্তানই তাকে ফিরিয়ে নেয়নি।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ। এরপর মির্জাপুর বাজারের মাদ্রাসার বারান্দা থেকে বৃদ্ধা ইশারন নেছাকে উদ্ধার করে মেয়ে আজিমা বেগমের বাড়িতে তুলে দেন তাঁরা। 
পরে শুক্রবার বিকেলে পঞ্চগড় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় খাদ্য দ্রব্যাদি পৌঁছে দেয়া হয় ইশারন নেছার কাছে। 
বৃদ্ধা ইশারন নেছা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আমার কেউ নেই। প্রয়োজনে আপনারা আমার স্বামীর ভিটায় একটা ঘর তুলে দিন। আমি সেখানেই যেন মরতে পারি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) সুদর্শন কুমার রায় বলেন, প্রতিটি মানবিক কাজ এগিয়ে যাওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তাই খবর পেয়ে পুলিশ বৃদ্ধা ইশারন নেছার পাশে দাঁড়িয়েছে। খবর পেয়ে পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন সাবিনা ইয়াসমিন শতবর্ষী বৃদ্ধার বাড়িতে গিয়ে নগদ কুড়ি হাজার টাকা ও দুই বান্ডল ঢেউ টিন সহায়তা করলেও ছিলো না মাথা গোঁজার ঠাই এক টুকরো জমি। দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াল একই এলাকার তসলিম উদ্দিনের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও পঞ্চগড়বাসী কল্যান সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক
মোঃ রবিউল ইসলাম সূর্য, বৃদ্ধা কে মাথা গোঁজার ঠাই এক টুকরো জমি দিয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। রবিউল ইসলাম সুর্য জানান, মানুষ মানুষের জন্য,আমি শুধু সে দায়িত্ব টাই পালন করেছি মাত্র। আমি বৃদ্ধা কে মাথা গোঁজার এক টুকরো জমি দিয়েছি, এটা আমাদের দায়িত্ব।

পুরোনো সংবাদ

পঞ্চগড় 8568619837850503264

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item