কিশোরগঞ্জে সরকারী বালুতে চলছে হরিলুট কারবার ,কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার


মোঃ শামীম হোসেন বাবু কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে নদী খননের স্তুপ করা কোটি টাকার বালুতে চলছে হরিলুট কারবার। পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের অবহেলার কারনে  সরকার রাজস্ব হারালেও আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে বালু দশ্যুরা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দাবি আমরা বালুর পরিমান নির্ধারন করে পত্রিকায় টেন্ডার দিয়েছি এর বাইরে আমাদের করার আর কিছুই নেই। বাকিটা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপার। 

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায় ছোট বড় নদী খাল ও জলাশয় পুণঃখনন প্রকল্পের আওতায় নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় চাঁড়ালকাঁটা নদীর ২৫ কিলোমিটার অংশ খননের জন্য প্রায় ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। সরকারীভাবে নদী খননের ঠিকাদার ওই বছরের প্রথম দিকে নদী খনন শুরু করে নদীর খননকৃত বালু নদীর দুই পাড়ে স্তুপ করে রাখে। সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী নদীর খননকৃত বালু অবৈধভাবে যাতে কেউ বিক্রি করতে না পারে সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড মাইকিং করে এবং বিভিন্ন স্থানে সাইনবোর্ড লাগিয়ে নিষেধাঙ্গা জারি করে। নিষেধাঙ্গা জারির পর প্রশাসনের তরপ থেকে  দৃশ্যমান কোন অভিযান না থাকায় বালু দশ্যরা দিনে রাতে সমানতালে বালু বিক্রি করছে। 


সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী( কিশোরগঞ্জে দায়িত্বপ্রাপ্ত) মোফাখারুল ইসলাম জানান, নীলফামারী জেলার পানি সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যাবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ উপজেলার চাঁড়ালকাটা নদীর খননকৃত বালুর পরিমান নির্ধারন করে ১২৫৭ নম্বর স্বারকে সভার সিদান্ত অনুযায়ী টেন্ডার আহবান করা হয়। টেন্ডারে ৯ টি লটে বালুর পরিমান নির্ধারন করা হয় ৫ কোটি ৯ লাখ ৫০ হাজার ৯৯৮ দশমিক ছয় সাত ঘনফুট। সমপরিমান বালুর সরকারী মুল্য নির্ধারন করা হয় ৩ কোটি ১১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৬৬৫ দশমিক ছয় চার টাকা। সরকারী বালু লুটের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, বালু চুরি হলে আমাদের করার কি আছে এঁটা স্থানীয় প্রশাসনের ব্যাপার। তবে তিনি আরো বলেন, লট বড় হওয়ার কারনে অনেকেই সিডিউল কেনেনি তাই আমরা চেষ্টা করছি ছোট ছোট লটে টেন্ডার করা যায়কিনা সে বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করছি। 

গত বৃহপতিবার রাত ১০ টার দিকে বাহাগিলি ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় বাহাগিলি ঘাট ব্রীজের পুর্বদিক থেকে স্থানীয় বালুদশ্য জগুল চন্দ্রের নেতৃত্বে স্ক্যাবেটর দিয়ে দশচাকার জ্যাম ট্রাকে করে বালু নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।


এসময় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রফিকুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি বিষয়টি কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রাকিবুজ্জামানকে জানাতে বলেন, এছাড়াও বাহাগিলি ইউনিয়নের পাগলাটারী গ্রামের শামীম বাদশা, আশরাফুল, আইকুল, বাহাগিলি গুচ্ছগ্রাম, নিতাই ইউনিয়নের আশি গ্রামে মানিকুল ইসলাম, নিতাই পাড়ঘাট,মুশরুত পানিয়ালপুকুর, পুটিমারী ইউনিয়নের কালিকাপুর শালটিবাড়িতে আলমগীর, আসাদুল ও শাহিনের নেতৃত্বে  ২০ থেকে ২৫ টি পয়েন্ট থেকে দিনরাত সমানতালে বালু লুট করলেও প্রশাসন নিরব ভুমিকা পালন করছে। 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার ভুমি রাকিবুজ্জামানের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমরা বালু ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরী করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম জানান, সরকারী বালু বিক্রির জন্য টেন্ডার আহবান করেছি। টেন্ডারের মাধ্যমে তিনটি লট বিক্রি হয়েছে। বাকিগুলো বিক্রির চেষ্টা করছি। বালু লুটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে। 


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 4004113100039270826

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item