তিস্তার গর্জন থেমে গেছে প্রকৃতির মহিমায়


নুরুল আলম ডাকুয়া, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: 

কালের বিবর্তনে বদলে গেছে তিস্তার রুপ ও গর্জন। প্রকৃতি যেন আপন মহিমায় তিস্তাকে থামিয়ে দিয়েছে। শুধু তিস্তায় নয় বাংলার বুক জুড়ে প্রবাহমান নদীগুলো একই দশায় পরিণত হয়েছে। সে কারণে পৃথিবীর ভারসাম্য পরিবর্তন হয়ে গেছে। প্রতিদিনের দাবী নদী বাঁচাও দেশ বাঁচাও। তবুও নদীর বুকে নির্মাণ করা হচ্ছে বসত বাড়ী, কলকারখানা, পাঁকা রাস্তা, বিনোদন পার্ক, পাওয়ার প¬ান্টসহ নানাবিধ অবকাঠামো এবং চাষা হচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতের মাছ। দেখা দিয়েছে তিস্তার নাব্যতা সংকট। যার কারণে হাজারও নৌ শ্রমিক ও জেলে বেকার হয়ে পড়েছে। বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে অন্য পেশা বেঁচে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে শ্রমিকরা। পাশাপাশি নাব্যতা সংকটে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। হারিয়ে যেতে বসেছে নদীতে বসবাসরত বিভিন্ন প্রাণীকুল। স্বাধীনতার পর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার তারাপুর, বেলকা, হরিপুর, চন্ডিপুর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের উপর দিয়ে প্রবাহিত তিস্তা নদী ড্রেজিং, খনন ও সংস্কার করা হয়নি। সে কারণে দিনের পর দিন উজান থেকে নেমে আসা পলি জমে খর স্রোতে রাক্ষুসি অগভীর তিস্তা নদী ভরাট হয়ে ধূ-ধূ বালুচর এবং আবাদি জমিতে পরিণত হয়েছে। তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়ে অসংখ্য নালা, খাল ও শাখা নদীতে রুপ নিয়েছে। শুকনা মৌসুমে নদীপথে চলাচল অত্যন্ত দুরহ ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। নাব্যতা সংকটের কারণে নদীপথে চলাচলের একমাত্র মাধ্যম হচ্ছে পায়ে হেঁটে, ঘোড়ার গাড়ীতে, বাঁশের সাঁকা, মোটর সাইকেল ও বাইসাইকেল। নষ্ট হচ্ছে নৌকা, জাল, বাশের তৈরি মাছ ধরার যন্ত্র। নৌ শ্রমিকরা এখন বাপ দাদার পেশ ছেড়ে দিয়ে রিক্সা, ভ্যান, অটোবাইক চালিয়ে অনেকে রাজমিস্ত্রির ও বিভিন্ন কলকারখানায় দিনমজুরের কাজ করছে। নদী ড্রেজিং, খনন ও সংস্কার না করায় গতিপথ পরিবর্তন হয়ে প্রতিবছর হাজারও একর জমি বসতবাড়িসহ নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে। হারিয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, পাখিসহ ঐতিহ্যবাহী প্রাণীকুল। এ কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে দিনের পর দিন। বন্ধ হয়ে গেছে নৌ পথের ব্যবসা-বাণিজ্য। সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মীরগঞ্জ, বেলকা, রামডাকুয়া, তারাপুর, হরিপুর, শ্রীপুর, লালচামার ও কাপাসিয়া খেয়াঘাট থেকে রংপুরের পীরগাছার তাম্বুলপুর, তিস্তা সেতু, হারাগাছ, কুড়িগ্রামের উলিপুর, চিলমারি, কাশিম বাজার, থানারহাট, রৌমারি, ভুরুঙ্গামারি, যাদুর চর, জামালপুরের বাহাদরাবাদ, নারায়নগঞ্জ, চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। উপজেলার বেলকা ইউনিয়নের নৌ শ্রমিক সুশীল কুমার বলেন নদী ভরে যাওয়ায় এখন আর নৌকা চলে না। শুধু মাত্র বর্ষাকালে ২-৩ মাস নৌকা চলাচল করা যায়। সে কারণে তারা মাঝি মাল¬ার পেশা ছেড়ে দিয়েছে। হরিপুর ইউনিয়নের আকবর আলী বলেন, নদীতে আর মাছ পাওয়া যায় না। মুল নদী এখন নালা ও খালে রুপ নিয়েছে। সারাদিন বিভিন্ন শাখা নদীতে মাছ ধরে বিক্রি করে একদিনের সংসার চালানোর মত টাকা রোজগার করা যায় না। হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নাফিউল ইসলাম জিমি বলেন নাব্যতা সংকট দুর করতে হলে প্রয়োজন নদী ড্রেজিং ও খনন করা। এতে করে সকল প্রকার সমাস্য সমাধান হবে। গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, নদী ড্রেজিং ও খনন করা একটি দীর্ঘ মেয়াদি পরিকল্পনা। সরকারের উপরের মহলের সিদ্ধান্ত ছাড়া এটি সম্ভব নয়।


পুরোনো সংবাদ

গাইবান্ধা 864728050612284430

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item