পীরগাছার কর্মকর্তারা যথাসময়ে কর্মস্থলে উপস্থিত না হওয়ায় ভূক্তভোগীরা হয়রানির শিকার


রংপুর প্রতিনিধিঃ

কর্মস্থলে যথাসময়ে উপজেলা কর্মকর্তারা উপস্থিত না হওয়ায় অফিসে আগত ভূক্তভোগীরা চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে। কোন কাজের জন্য একাধিকবার অফিসে এলেও সময় মতো কর্মকর্তাদের সাথে স্বাক্ষাত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ভূক্তভোগীরা।

বুধবার(১৭ ফেব্রুয়ারি) রংপুরে পীরগাছা উপজেলা পরিষদের ২০টি দপ্তরে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন সময় অনুযায়ী অফিসে উপস্থিত হয়ে দাপ্তরিক কাজ শুরু করলেও উপজেলা সহকারি ভূমি কর্মকর্তা জান্নাতআরা ফেরদৌস সকাল ১০.০৫ টায় অফিস কার্যক্রম শুরু করেন। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আশরাফুজ্জামান ১০.৩৩ টায় অফিসে আসলেও অন্য দুই কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা ও মৎস কর্মকর্তা ১০.৩৩ টায় আফিসে আসেন। এরপর ১০.৫০ টায় আসেন উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং তার একটু আগে উপজেলা তথ্য প্রযুক্তি কর্মকর্তা এসে তার দপ্তরের তালা নিজেই খুলেন। উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা তার নিজ অফিসে না গিয়ে উপজেলা তথ্য প্রযুক্তি কর্মকতার রুমে গিয়ে ১২.৩০ টা পর্যন্ত খোশ গল্পে মেতে উঠেন। উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা একজন অডিটরসহ ১১.৫০ টায় নিজ অফিসে আসেন। অনেক বয়োবৃদ্ধ পেনশন সুবিধাভোগী যথাসময়ে অফিসে গেলেও কর্মকর্তাদের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিজের ইচ্ছা মতো করে অফিসে আসা-যাওয়া করে থাকেন। 

এদিকে উপজেলা প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা ক্যাম্পাসে আবাসন সুবিধা ভোগ করলেও উপজেলা প্রকৌশলী ১০.৪৬ টায় তার নিজ দপ্তরে আসলেও অন্য দুই কর্মকর্তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা পরিষদের ২০টি দপ্তরের মধ্যে ৮ টি দপ্তরের কর্মকর্তাগণ দাপ্তরিক কার্যক্রমে ব্যস্থ থাকলেও অন্য কর্মকর্তারা ১২.০০ টা পর্যন্ত নিজ নিজ দপ্তরে আসেননি। পল্লী দারিদ্র বিমোচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় তিনি নেই। পিয়ন বলে স্যার মাঠে আছে। উপজেলা আনছার ভিডিপি কর্মকর্তাকে তখন পর্যন্ত অফিসে পাওয়া যায়নি। 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ১.০০ টায় এসে ২.৩০ টায় চলে যান। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা, পরিসংখ্যান কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তাসহ আরো অনেকে দাপ্তরিক কাজে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থি থাকেন। পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তাকে সকালে পাওয়া না গেলেও বিকালে তাকে অফিসে দেখা যায়।

উপজেলা প্রাণী সম্পদ অফিসের ভেটেরেনারি সার্জন কর্মকর্তা গত ১১ নভেম্বর থেকে নেই। উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ থাকায় অতিরিক্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন ডাঃ মনোজিৎ কুমার। তিনি এখানে ছাড়াও কাউনিয়া প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করে আসছেন। উপজেলা কর্মকর্তারা অফিস ত্যাগের নিয়মনীতিকে তোয়াক্কা না করে নিজ খেয়াল খুশি মতো ২.০০টার পর চলে যায়। অনেক সময় নিজ অফিসে কর্মচারীরাও জানেনা।

উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও যথাসময়ে দাপ্তরিক কাজে অফিস না করায় ভূক্তভোগীরা চরম হয়রানির শিকার হচ্ছে। অনেক ভূক্তভোগী কোন কোন অফিসে এর প্রতিবাদ করলে অফিস কর্মচারী দ্বারা লাঞ্চিত হতে হয়।

সাবেক কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী জানান, উপজেলা কর্মকর্তাদের মনে হয় কোন দায়বদ্ধতা নেই। তারা নিজ খেয়াল খুশি মত আসেন আবার নিজ ইচ্ছায় যথাসময়ের আগেই চলেও যান। উপজেলা পরিষদে মনে এটা দেখার কেউ নেই।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ শামসুল আরেফীন এর সাথে ক্ষুদে বার্তা দেয়ার পর তার সাথে মোবাইলে কথাা হলেও তিনি ব্যস্ত থাকায় কোন কথা বলতে পারেননি।###


পুরোনো সংবাদ

রংপুর 7558842166062822608

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item