নীলফামারীতে এই প্রথম সমলয় চাষাবাদে ট্রে- পদ্ধতিতে বোরো বীজতলা তৈরিতে সফলতা


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,,নীলফামারী॥
জেলা সদর উপজেলায় বোরো ধানের ফলন বাড়ানোসহ একযোগে কর্তন করার লক্ষ্যে সমলয় চাষাবাদের জন্য ট্রে -পদ্ধতি বীজতলা তৈরি করেছে কৃষকরা। ভালো মানের চারা উৎপাদনের জন্য উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে এই প্রথম ট্রে-তে বীজ বপন করছেন বোরো চাষীরা।

  নীলফামারী সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরুনীবাড়ি ব্লক এলাকায় দেখা গেছে এ বীজতলা তৈরির নতুন এক ভিন্ন চিত্র। বুধবার সমলয় চাষাবাদে  ট্রে- পদ্ধতিতে বোরো বীজতলা তৈরির সফলতা দেখতে আসেন কৃষি মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব শাহ্ ইমাম আলী রেজা। এসময় নীলফামারীর কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কামরুল হাসান সহ উপস্থিত  কর্মকর্তারাও সমলয়ে বোরো বীজতলার বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করেন। সংশ্লিষ্টতরা জানান এই ব্লকে ৭৭ জন বোরো চাষী সরকারের প্রনোদনার আওতায় এসে এই সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন। এর মধ্যে বিধবা নারী কৃষক রয়েছে ২২জন।

সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, বোরো মৌসুমে উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিনামূল্যে হাইব্রিড বীজ সহ বিভিন্ন সহযোগীতা করছে সরকার।  স্বল্প জমিতে অধিক ধান উৎপাদন করার লক্ষ্যে  মানুষের খাদ্য চাহিদা পুরণ করতে চায় বর্তমান সরকারের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষি মন্ত্রণালয়ের এমন নির্দেশনায় নীলফামারী সদর উপজেলায় সরকারের প্রনোদনার আওতায় প্রথমবারের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে সমলয় পদ্ধতিতে বোরো ধান চাষাবাদের ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়। এরই মধ্যে সরকারি কৃষি প্রণোদনা কার্যক্রমের আওতায় কৃষকরা নতুন মাত্রায় ট্রে-তে বীজতলা তৈরি করেছেন।তারা মেশিন দিয়ে মাটিভর্তি ট্রে-তে বপন করছে সুরা-১৪ হাইব্রিড জাতের ধানবীজ। সুত্র মতে ৩০ দিনের মধ্যে ট্রেতে লাগানো বীজের চারাগুলো তৈরী হয়ে যাবে। এরপর ওই ৭৭ জন কৃষকের ৫০ একর  জমিতে কৃষি বিভাগের মাধ্যমেই ধানের চারাগুলো লাগিয়ে দেয়া হবে ট্রান্সপ্লান্টার মেশিন দিয়ে। জমির আগাছা পরিস্কার হবে মেশিনে। ধান কাটা ও মাড়াই করে দেয়া হবে বড় হারভেস্টর যন্ত্রের মাধ্যমে। যা সব কিছু সরকারী ভাবে বিনামূল্যে কৃষকরা এই সুবিধা পাচ্ছে।

তরনীবাড়ি ব্লকের কৃষক মোস্তফা, নুর আমিন,বিধান চন্দ্র রায়, জাহাঙ্গীর আলম,সামছুল ইসলাম,নুরনাহার সহ অন্যান্য কৃষকরা জানায়, বোরো ধান চাষাবাদে আগে কখনো ট্রে-তে ধানচারা আমরা করিনি। আমাদের কৃষি বান্ধন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে স্থানীয় কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় এই প্রথম আমরা ট্রে-তে বীজ বপন করছি। সরকারের এই পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা ভালো চারা ও অধিক ফলন পাবো এমন আশা করছি। এবার আমনের ধানের বাজার অনেক ভালো। তাই এলাকার সকল কৃষক বোরো ধান আবাদে বেশী মনোযোগী হয়েছে।

তরনীবাড়ি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম রায়কে দেখা গেলো তিনি ওই ৭৭ জন কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, বোরো ধান সমলয় চাষাবাদের লক্ষ্যে প্রাথমিকভাবে ৪ হাজার ৫০০ ট্রে-তে বীজতলা তৈরির লক্ষামাত্রা নেয়া হয়েছে। এটি অর্জনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হয়। তিনি আরও জানান বর্তমান সরকারের এ কার্যক্রমে সহজে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষকদের অধিক ফলন ঘরে তোলা সম্ভব হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জেলা সদরের তরুনীবাড়ি ব্লকে ৭৭ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে বোরো ধানের সমলয়ে চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। আশা করছি ভালো ফলাফল আসবে।

কৃষি মন্ত্রনালয়ের উপ সচিব শাহ্ ইমাম আলী রেজা জানান, বেশী বেশী ধান উৎপাদনে বোরো মৌসুমে অ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে এই প্রথম সমলয় চাষাবাদের জন্য ট্রে পদ্ধতিতে বোরো বীজতলা তৈরি করা হচ্ছে। এতে  হাইব্রিড চাষ বাড়ানো হয়েছে। রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলার ৫টি উপজেলায়  কৃষকদের প্রনোদনার অংশ হিসাবে পরীক্ষামুলক এই পদ্ধতি গ্রহন করা হয়েছে। এই চাষের বীজ ও সার বিনামূল্যে দিয়েছে সরকার। প্রথম পর্যায়ে সারা দেশের ৬৪টি জেলার প্রতি উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে ৫০ একর জমিতে এ পদ্ধতিতে চাষ হচ্ছে। জমি চাষের বীজতলা তৈরি থেকে ধান কেটে মাড়াই পর্যন্ত হবে যন্ত্রের মাধ্যমে। যাদের জমি নেওয়া হয়েছে, তাদের সব কাজে অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে। 

নীলফামারীর কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ওবায়দুর রহমান মন্ডল জানান, আমনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে চলতি বোরো মৌসুমে রংপুর কৃষি অঞ্চলে চার লাখ ৯৬ হাজার ৫১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এরমধ্যে রংপুর জেলায় এক লাখ ৩০ হাজার ১০০ হেক্টর, গাইবান্ধা জেলায় এক লাখ ২৫ হাজার ৫০০ হেক্টর, কুড়িগ্রাম জেলায় এক লাখ ১২ হাজার ৭১৫ হেক্টর, নীলফামারী জেলায় ৮১ হাজার হেক্টর ও লালমনিরহাট জেলায় ৪৭ হাজার ২০০ হেক্টর। এই সকল জমিতে বোরো আবাদের জন্য ২২ হাজার ৯৪৩ হেক্টর জমিতে বীজতলার প্রয়োজন হলেও বীজতলা তৈরী হয়েছে ২৪ হাজার ৮৬৬ হেক্টরে। যা প্রয়োজনের তুলনায় এক হাজার ৯২৩ হেক্টর বেশী। সুত্র মতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী বোরো চাষ সফল হলে রংপুর কৃষি অঞ্চলের ৫ জেলায় ২১ লাখ ৫৪ হাজার ২৮৬ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হবে।#


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 4258928504585162634

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item