রংপুরে নয় দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন : নতুন করে মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি


রংপুর প্রতিনিধিঃ

মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইনসহ নয় দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ রংপুর জেলার সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন চাঁদ। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হকের পদত্যাগ ও জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তৈরির চলমান প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিও তুলেছেন।রোববার বিকেলে রংপুর প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজাদুল ইসলাম ইয়াছিন টুনু সহ অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাগণ । লিখিত বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর হোসেন চাঁদ বলেন, বিজয়ের ৪৯ বছর অতিবাহিত হতে চলেছে। কিন্তু আজও মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধারা পরিচয়হীন ও অস্থায়ী হিসেবেই রয়ে গেছে। আর এরই মধ্যে চলেছে তালিকা তালিকা খেলা। মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডারগণের মতে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা (এফএফ, এমএফ, বিএলএফ, কাদেরীয়া ও হেমায়েত বাহিনী) প্রায় এক লাখ তেত্রিশ হাজারের মতো। এই সংখ্যার শিল্পী, কলা-কৌশলী, খেলোয়াড়, সাংবাদিক, মুজিবনগর সরকারের কর্মচারীসহ সর্বমোট এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের উর্ধ্বে হতে পারে না। অথচ তা আজ দুই লাখ আটত্রিশ হাজারে পরিণত হয়েছে এবং প্রক্রিয়া চলমান আছে।তিনি অভিযোগ করেন, সামরিক বাহিনীতে মুক্তিযুদ্ধের পরে ভর্তি হয়ে অনেক রাজাকারও মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। ১৯৭৪ সালে ভারত হতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা দেশে আনলেও তা দীর্ঘদিন অযন্ত ও অবহেলায় ফেলে রাখার দশ বছর পর কল্যাণ ট্রাস্টে হস্তান্তর করা হয়েছিল। যা তৎকালীন কল্যাণ ট্রাস্টেও এমডি আমিন আহমেদ চৌধুরী নষ্ট হওয়া তালিকা থেকে এফএফ এর প্রায় সত্তর হাজারের মতো তালিকা প্রকাশ করেছেন। আর কিছু পঠন অযোগ্য ফরম কল্যাণ ট্রাস্টে রক্ষিত আছে, যা উদ্ধোরের গবেষণা না করে উক্ত ফরমগুলো ঘষামাঘা করে দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দ মতো অথবা আর্থিক সুবিধা নিয়ে নিত্য নতুন মুক্তিযোদ্ধা তৈরি চলমান রয়েছে।মোজাফফর হোসেন চাঁদ বলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাজার হাজার ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও তা আমলে না নিয়ে ও তদন্ত না করেই বঙ্গবন্ধু সজ্ঞায় অস্ত্রপচার করে জামুকা নামক সংগঠনের আইনের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তৈরি চলমান রয়েছে। যা অর্থ ও ক্ষমতার বদৌলতে যে কেহ মুক্তিযোদ্ধা হতে পারে। অপরদিকে যে সমস্ত ব্যক্তিবর্গ ১৯৭১ সালে ভারতে আত্মীয় স্বজন, হোটেল ও বিভিন্ন ক্যাম্পে ক্যাম্পে ঘুরে বেড়িয়েছে এবং প্রশিক্ষণরত মুক্তিযোদ্ধা ও স্মরণার্থীদের রেশনে ভাগ বসিয়েছিল। আজকে তারাই আত্মত্যাগী মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বহন করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যাচাই-বাছাই এ সম্পৃক্ত থেকে রাজাকারসহ রাজনৈতিক স্বার্থে ডিও লেটারের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দীয় ব্যক্তিবর্গকে মুক্তিযোদ্ধা বানাচ্ছেন। এধরণের কর্মকান্ড দুঃখজনক, ঘৃণিত ও গর্হিত কর্ম বটে।এসময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর পদত্যাগ ও জামুকার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধা তৈরির প্রক্রিয়া বন্ধের দাবি জানিয়ে নয় দফা তুলে ধরেন মোজাফফর হোসেন চাঁদ। নয় দফার মধ্যে রয়েছে- জাতীয় যাদুঘর ও মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্ট্রের রক্ষিত তালিকার স্বীকৃতি দিয়ে স্থায়ী সনদ দিতে হবে। মুক্তিযুদ্ধ ওমুক্তিযোদ্ধা শব্দদ্বয়ের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে। মুক্তিবার্তা (লাল বহি) সহ সকল সামরিক/বেসামরিক গেজেট জাতীয় সংসদে অথবা মন্ত্রী পরিষদের সভায় বাতিল করে মুক্তিযোদ্ধা সুরক্ষা আইন করতে হবে। সরকারি চাকরিসহ সকল উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে বঙ্গবন্ধুর দেয়া ৩০% কোটা বহাল রাখতে হবে। বীরমুক্তিযোদ্ধা কলঙ্কিত করার দায়ে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল বাতিল করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর সংজ্ঞা সমন্বিত রেখে আমলা নির্ভর সকল সংজ্ঞা বাতিল করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধে অবদানের জন্য নিজ নিজ কর্মের ভিত্তিতে সম্মানীত করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের বেহাত হওয়া সম্পদ উদ্ধার এবং লোপাটকারীদের আইনের আওতায় আইনে হবে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য চিকিৎসা ভাতার টাকা মেডিকেলে না দিয়ে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ নিজ ব্যাংক হিসাবে প্রদান করতে হবে। এদিকে সংবাদ সম্মেলনে অক্ষেপ করে নব্বই উর্ধে বয়সের মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বলেন ২৮ মার্চ তীর ধনুক নিয়ে রংপুর ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করেছি । পাকবাহিনীর গুলিতে অনেক সহযোদ্ধাদের হারিয়েছি । 


এপ্রিলে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে ভারত যাই শিলিগুড়ি সুভাষ পল্লীতে তাপুরহাট ক্যাম্পে অবস্থান করি । কংগ্রেস সভাপতি সাধারন সম্পাদক যথাক্রমে অরুণ বাবু এবং গান্ধি দত্তের সহযোগিতা পাই ।মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬ নম্বর সেক্টর উদ্ধোধন করেছি । তিনি বলেন দীর্ঘ প্রায় ৫০ বচছরের মাথায় এসে আমি এখন মুক্তিযোদ্ধা কিনা সে বিষয়ে আমাকেই এখন জামুকায় গিয়ে সাক্ষি নিয়ে গিয়ে প্রমান দিতে হবে । অথচ গত ৪ বছর আগে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কালে রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটিতে অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করেছি । তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে বলেন দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি ।আওয়ামীগের বিভিন্ন দায়িত্বশীল পদে থেকে দায়িত্ব পালন করেছি । অথচ জীবনের শেষ সায়াহ্নে এসে নাতি পুতি ছেলে মেয়ে আত্মীয়স্বজনদের কাছে জাল ভুয়া মুক্তি যোদ্ধা হিসেবে নতুন করে পরিচিতি করার অপচেষ্টা করছেন । বিষয়টি সরাসরি প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছে প্রবীণ এই নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধা । তিনি অরো বলেন শুধু আমার ভাগ্যেই এই অপবাদ আসেনি । একই অবস্থা হয়েছে রংপুর সিটি মেয়র প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধা সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, সদরুল আলম দুলু , মুকুল মোস্তাফিজার রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাপ যে কিনা কোম্পানী কমান্ডার ছিলেন । এছাড়াও রংপুর সদর ৭৬জন এবং বদরগঞ্জ উপজেলার ৩৬জন মোট১১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নতুন করে প্রমান হাজির করতে বলা হযেছে ।###


পুরোনো সংবাদ

রংপুর 3388386205617495450

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item