সৈয়দপুরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ


তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

নীলফামারীর সৈয়দপুরে বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের এক নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য (মেম্বার) ও ডিলারের বিরুদ্ধে  খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চাল আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহেদুল, আব্দুল খালেক, শ্রী অশ্বিনী চন্দ্র, শ্রী রণজিৎ চন্দ্র শীল ও মো. মজিদুল সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে পৃথক পৃথকভাবে লিখিত অভিযোগ করেছেন। যদিও  সুবিধাভোগীদের চাল ওজনে কম দেয়ার অভিযোগের তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ডিলার আবু সাঈদ চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরীর ডিলারশীপ বাতিল করাসহ জামানত বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে ইতোমধ্যে। 

অভিযোগ- ১ :  নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁতীপাড়ার বাসিন্দা মো. মজিদুল। তিনি সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ১০ টাকা কেজি দরের চাল ক্রয়ের একজন সুবিধাভোগী। তাঁর কার্ড নম্বর : ৩২৮। সুবিধাভোগীর তালিকাভূক্ত হওয়ার পর তিনি  মাত্র দুই বার চাল উত্তোলন করতে পেরেছেন। পরবর্তীতে অফিসে প্রয়োজন আছে বলে তাঁর কার্ডটি নিয়ে নেয় সংশ্লিষ্ট  ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য (মেম্বার) মো. মোতালেব হোসেন। এর পর সুবিধাভোগী  মজিদুল ইউপি সদস্যের কাছে তাঁর কার্ডটি ফেরত চাইলে নানা রকম তালবাহানা শুরু করেন। এভাবে বেশ কিছুদিন যাওয়ার পর ইউপি সদস্য কার্ডটির জন্য জিডি করার পরামর্শ দেন সুবিধাভোগী মজিদুলকে। কিন্তু জিডি না করায় তাঁর কার্ডটি ফেরত পাননি তিনি অদ্যাবধি। ফলে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ক্রয় থেকে বঞ্চিত রয়েছেন মজিদুল। পরবর্তীতে বিভিন্নভাবে খোঁজখবর নিয়ে এবং বিশ্বস্ত সূত্রে মজিদুল জানতে পারেন সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেন  ও ডিলার মো. আবু সাঈদ চৌধুরী ওরফে বাবু চৌধুরী যোগসাজশে চাল উত্তোলনপূর্বক তা আত্মসাত করে আসছেন। এ অবস্থায় তিনি গত ২০ অক্টোবর সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য ও ডিলারের বিরুদ্ধে তাঁর কার্ডের চাল উত্তোলন করে আত্মসাতের লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগ-২: শ্রী রণজিৎ চন্দ্র শীল। বোতালাগাড়ী ইউপির ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাপিতপাড়ার বাসিন্দা। তিনিও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির একজন সুবিধাভোগী। তাঁর কার্ড নম্বর: ৩৫৪। তাঁর নাম সুবিধাভোগীর তালিকা উঠার পর মাত্র একবার চাল উত্তোলন করেন তিনি। এরপর ইউপি সদস্য গ্রাম পুলিশকে দিয়ে রনজিৎকে জানায় তাঁর কার্ডটি বাতিল করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাঁর কার্ডটি নিয়ে যান তিনি। গত ১২ অক্টোবর খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় সুবিধাভোগী রনজিৎ কৌতুহলবশত চাল বিতরণের সময় ডিলার পয়েন্টে  গিয়ে দেখতে পান তালিকায় তাঁর নাম রয়েছে। এ সময় তিনি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্যকে তাৎক্ষণিক ঘটনাটি জানালে তাকে চাল প্রদান করা হয়। আর কার্ডটি হারিয়ে গেছে মর্মে রনজিৎকে থানায় একটি জিডি করতে বলেন মেম্বার। পরবর্তীতে ইউপি সদস্য  চলতি বছরের গত ১৮ অক্টোবর কার্ডটি তাঁর কাছে রয়েছে  বলে রনজিৎকে জানান এবং সেটি নিয়ে আসতে বলেন। পরবর্তীতে রনজিৎ চন্দ্র শীল ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনের বিরুদ্ধে তাঁর কার্ডের চাল আত্মসাতের বিষয়ে ইউএনও বরাবরে লিখিত অভিযোগ দেন।

অভিযোগ - ৩ : সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপাড়ার আব্দুল খালেক। দরিদ্র এ ব্যক্তির নামে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরের চালের একটি কার্ড ইস্যূ হয়। তাঁর কার্ড নম্বর:২৯৮।  তিনি পর পর দুই মাসে যথারীতি ত্রিশ কেজি করে চালও উত্তোলন করেন। পরবর্তীতে তিনি চাল উত্তোলণের জন্য ডিলার পয়েন্টে যান। এ সময় তিনি কার্ড পাওয়ার যোগ্য নয় বলে ডিলার কার্ডটি নিয়ে নেয়।  বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনকে অবহিত করলে তা সমাধানের আশ্বাসও দেন। কিন্তু আজ অবধি  তাঁর চালের কার্ড হাতে পাননি আব্দুল খালেক।  সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন তাঁর কার্ডটি বহাল রয়েছে।  তিনি আরো অবগত হন ইউপি সদস্য ও ডিলার মিলে তাঁরকার্ডের বিপরীতে চাল উত্তোলন করে আত্মসাত করছেন। এ নিয়ে গত ২১ অক্টোবর তিনি সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে একটি  লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 শুধু মজিদুল, রনজিৎ কিংবা আব্দুল খালেকের চালের কার্ডের চাল উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হচ্ছে না। চালের কার্ড কেড়ে নেওয়া হয়েছে  ধুলাতিপাড়া জাহেদুল ও নাপিতপাড়া শ্রী অশ্বিনী চন্দ্র শীলসহ আরো অনেকেই। এছাড়াও ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. মোতালেব হোসেনের ০১৭৪০৮০১৪০৫ নম্বর মোবাইল ফোনটি ১৮ জন সুবিধাভোগীর চালের কার্ডে ব্যবহারেরও একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ রকম ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর আওতায় ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রিতে নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডে সদস্য ও ডিলারের বিরুদ্ধে।

অভিযোগে জানা গেছে, বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মোতালেব হোসেন ও ডিলার মো. সাঈদ  চৌধুরী যোগসাজশে গেল ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে এভাবে বেশ কিছু সংখ্যক সুবিধাভোগীদের কার্ডের চাল অতি গোপনে উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারার মাধ্যমে আত্মসাত করে আসছেন। আগামীতে ওই ওয়ার্ডের সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করলে এ সব ঘটনা  আরো বেরিয়ে আসবে বলে জানা গেছে।

এ নিয়ে  শুক্রবার সকালে মুঠোফোনে  ইউপি সদস্য মোতালেব হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আসন্ন। তাই এটি আমার বিরুদ্ধে স্বার্থান্বেষী মহলের একটি ষড়যন্ত্র । তারা আমার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে এ রকম চক্রান্ত শুরু করেছে। আমার পরিবারের কোন সদস্যের নামে চালের কার্ড নেই। একাধিক চালের কার্ডে তাঁর মুঠোফোন নম্বরটি ব্যবহার প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,  কোন কার্ডের  আমার মোবাইল নেই। কেউ আমার মুঠোফেনের নম্বর দিয়ে ভূয়া তালিকা তৈরি করে অফিসে জমা দিয়েছেন। তদন্ত করলেই সব বেরিয়ে আসবে। তিনি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সভাপতি মো. নাসিম আহমেদ জানান, অনিয়মের দায়ে ডিলার মো. সাঈদ চৌধুরীর ডিলারশীপ বাতিল করাসহ জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পরবর্তী তদন্তে ওই ডিলারের বিরুদ্ধে সরকারি চাল আত্মসাতের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর ইউনিয়ন পরিষদের ওই সদস্যের বিরুদ্ধে সুবিধাভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।

 সৈয়দপুর  উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান  ও উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির উপদেষ্টা মো. মোখছেদুল মোমিনের সাথে। তিনি জানান, সরকারের কার্যক্রমকে বিতর্কিত করার জন্য ইউপি সদস্য ও  ডিলার এমন কাজটি করেছেন। তিনি জানান,  তদন্তসাপেক্ষে এদেরকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে।


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 6708015974866332847

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item