প্রতিদিনের বৃষ্টি ও বাতাস দেখে কৃষকদের মুখে নেমে এসেছে দুশচিন্তার আবছায়া


এ.আই.পলাশ.চিলাহাটি,নীলফামারী প্রতিনিধিঃ একদিকে করোনা ভাইরাসের প্রকোপে পুরোবিশ্ব মৃত্যুর থাবার মুখে পড়ে আছে। যার ফলে দিনদিন বেড়েই চলেছে মৃত্যুর সংখ্যা। করোনা ভাইরাসের কারনে মানুষের মধ্যে এক আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। যার কারনে সব মানুষের মনের মধ্যে একটাই ভীতি কাজ করে যে, এই বুঝি আমাকে করোনা ভাইরাস আক্রমন করল। আর, অন্যদিকে ঘুর্নিঝড়ের কারনে কৃষকরা ঘরে তুলতে পারছে তাদের আবাদি ফসল। রোজকার এই বৃষ্টি ও বাতাসের কারনে জমিতে পরে থাকা ধান, গম, ভুট্টা ও বাদাম জাতীয় ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে দিনকেদিন। যার কারনে কৃষকরা দুশচিন্তায় পরে গেছে যে, তারা কিভাবে এইসব ফসল ঘরে তুলবে আর মিলারদের কাছে বিক্রি করবে। কারন ফসল পরিপূর্নভাবে না শুকালে কোন মিলার সেই ফসল কিনবে না। যার কারনে দুশচিন্তার আবছায়া পরেছে কৃষকদের মুখে।
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা সহ চিলাহাটি এলাকার হাজার হাজার কৃষকদের ঠিক একি অবস্থা। তারা না পারছে ফসল কাটতে, না পারছে সেই ফসল ঘরে তুলতে। যার কারনে কঠিন বিপাকের মুখে পরে আছে এই দিশেহারা কৃষকরা। প্রতিদিনের এই বৃষ্টি ও বাতাসের কারনে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কেটে রাখা ফসল ভেজা থাকার কারনে, সেই ফসলের গাজা বেরিয়েছে। যা দেখে খুব চিন্তায় আছে এলাকার কৃষকরা। এই মৌসুমে ধান আবাদকারি এক কৃষক মনোয়ার হোসেন (৬০)-এর সাথে কথা বললে তিনি জানান, “এক বিঘা (৩০ শতক) জমিতে আবাদ করতে আমাদের খরচ হয় ৮/৯ হাজার টাকা। এবং ফসল উৎপাদন হয় ১৭/১৮ মন। প্রতি মন ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করে ১১,৯০০ টাকা হয়। খরচের হিসাব বাদ দিলে আমাদের ৩৯০০/২৯০০ টাকা লাভ হয়। যা দিয়ে আমাদের সংসারের খরচ চালাতে হয়। কিন্তু, এই আবহাওয়া দেখে আমরা প্রতিটি কৃষক বিপদের সম্মুখিন হয়ে পড়েছি। কারন ধান কেটে আমরা ঘরে তুলেছি, কিন্তু সেই ধান পরিপূর্নভাবে না শুকানোর কারনে ধানে গাজা বেরিয়েছে। এই অবস্থায় যদি কোন কৃষক ধান বিক্রি করতে যায়, তাহলে কোন মিলার বা হাট-বাজারে তাদের ধান সংগ্রহ বা বিক্রি করতে পারবে না”। অপরদিকে, বাদাম আবাদকারি এক কৃষক আব্দুল মোনাব (৬৫)-এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, “এক বিঘায় বাদাম আবাদ করতে আমাদের মোট খরচ হয় ৮ হাজার টাকা। ফসল উৎপাদন হয় ৭/৮ মন। প্রতি মন ৩০০ টাকা দরে বিক্রি করে ২১,০০০টাকা হয়। খরচ বাদ দিয়ে আমাদের লাভ হয় ১৩,০০০ টাকা। কিন্তু, ঘূর্নিঝড়ে কারনে বাদামের গোড়া পচে যাওয়ায় বেশিরভাগ বাদাম মাটির নিচে পরে আছে”। ভুট্টা আবাদকারি আর একজন কৃষক আমিনার রহমান (৪০) বলেন, “একবিঘায় ভুট্টা আবাদ করতে খরচ হয় ১০,০০০ টাকা। ৫০০ টাকা দরে প্রতি মন বিক্রি করে ২০,০০০ টাকা হয। খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয় ১০,০০০ টাকা। গাছ থেকে ভুট্টা ছিড়ে নিয়ে রোদে শুকিয়ে তারপর বিক্রি করি। কিন্তু, এই বৃষ্টির কারনে আমরা এখনও ভুট্টা গাছ থেকে ছিড়তে পারিনি। যার কারনে গাছের মধ্যেই ভুট্টার পচনক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাই আমরা খুব চিন্তায় আছি যে, এইসব ফসল কেটে না শুকিয়ে ঘরে রাখতেও পারছি না। আবার সেই ফসল ঠিকভাবে না শুকিয়ে রাখলে ফসলের গাজা বের হচ্ছে। ফসল জমিতে রাখতে গেলে বৃষ্টির পানির কারনে সেখানেই ফসলগুলো পচে যাচ্ছে”। আবহাওয়ার এই বিরুপ পরিবর্তনের কারনে প্রতিটি জেলার কৃষকরা অনেক বিপদের সম্মুিখন হচ্ছে। তারা না পারছে ফসল ঘরে তুলতে, না পারছে সেই ফসল বিক্রি করতে। যার কারনে প্রতিটি কৃষকের মুখে নেমে এসেছে দুশচিন্তার আবছায়া।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 3115628845119505542

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item