আফগানদের বিপক্ষে টাইগারদের দাপুটে জয়


অনলাইন ডেস্ক



ভারতের বিপক্ষে নিজেদের সবশেষ ম্যাচে দারুণ পারফরম্যান্স করে বাংলাদেশের মনে যেন খানিক ভয়ই ঢুকিয়ে দিয়েছিল আফগানিস্তান। কিন্তু সেসবকে থোড়াই কেয়ার করে আফগানদের স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।
সাউদাম্পটনে সাকিব আল হাসানের ঘূর্ণিতে এই বিশ্বকাপে তৃতীয় জয় পেয়েছে তারা। আফগানদের বিপক্ষে ৬২ রানে জিতে সেমিফাইনাল খেলার আশাও বাঁচিয়ে রাখলো মাশরাফি মুর্তজার দল।
ব্যাটে-বলে ম্যাচের অবিসংবাদিত নায়ক সাকিব আল হাসানই। ব্যাট হাতে ফিফটি আর বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে গড়েছেন এক গাদা রেকর্ড। গুঁড়িয়ে দিয়েছেন আফগানদের।
সাকিবের ঔজ্জ্বল্যের পাশেও আলাদা করে চোখে পড়ে মুশফিকুর রহিমের আলো। ব্যাটিংয়ের জন্য সম্ভবত এবারের বিশ্বকাপের কঠিনতম উইকেটে বাংলাদেশ ২৬২ পর্যন্ত যেতে পারল তো তার সৌজন্যেই! সাকিব ৫১ রানে ফেরার পর মুশফিকের ৮৭ বলে ৮৩ রানের ইনিংসই টেনে নেয় দলকে।
এই উইকেটে ২৬৩ রান তাড়া ছিল ভীষণ কঠিন। আরও কঠিন করে তোলেন সাকিব। উইকেট নিয়েছেন নিজের প্রথম ওভারে, মাঝে, শেষে। আফগানরা থমকে গেছে ২০০ রানেই।
২৯ রানে ৫ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। বাংলাদেশকে উপহার দিয়েছেন বিশ্বকাপে প্রথম ৫ উইকেট। এবারের আসরে সব দল মিলিয়েই এখনও পর্যন্ত সেরা বোলিং পারফরম্যান্স।
ম্যাচের প্রথম ভাগে ফিফটির পথে আবার উঠে গেছেন এবারের বিশ্বকাপে রান সংগ্রহের চূড়ায়। আর ফিফটি ও ৫ উইকেট মিলিয়ে নাম লিখিয়েছেন রেকর্ড বইয়ে। বিশ্বকাপে একই ম্যাচে ফিফটি ও ৫ উইকেট ছিল আগে কেবল যুবরাজ সিংয়ের।
আগে ব্যাট করে মুশফিকুর রহীমের ৮৩ ও সাকিব আল হাসানের ৫১ রানের ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ পায় ২৬২ রানের লড়াকু পুঁজি। যা কি-না ঢের প্রমাণিত হয় আফগানদের জন্য। সাকিবের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে আফগানিস্তান অলআউট হয় ২০০ রানে। টাইগাররা জয় পায় ৬২ রানের ব্যবধানে।
লক্ষ্য ২৬৩ রানের। এ রান তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ওপেনিং জুটি চোখ রাঙাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে'র প্রথম ১০ ওভার নির্বিঘ্নেই কাটিয়ে দেন গুলবাদিন নাইব আর রহমত শাহ। ১১তম ওভারে এসে বল হাতে নিয়েই এই জুটিটা ভেঙে দেন সাকিব আল হাসান।
সাকিবের বলটি মিডঅনে তুলে মারতে গিয়েছিলেন রহমত শাহ। জায়গা থেকে কিছুটা পেছনে সরে গিয়ে ক্যাচ নেন তামিম ইকবাল। ৩৫ বলে আফগান ওপেনার করেন ২৪ রান।
পরের ১০ ওভারে ৩০ রানের জুটি হাসমতউল্লাহ শহীদি আর গুলবাদিন নাইবের। ধুঁকতে ধুঁকতে এগিয়ে চলা হাসমতউল্লাহ শহীদি ২১তম ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউটের হাত থেকে বেঁচে যান। তবে মোসাদ্দেকের ওভারের পঞ্চম বলেই পড়েন স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে। পা-টা একটু বেরিয়ে এসেছিল শহীদির। মুশফিক চোখের পলকে স্ট্যাম্পিং করে দেন। ৩১ বল খেলে শহীদি তখন ১১ রানে।
নেতৃত্বের ঝলক দেখালেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। ওপেনিংয়ে নেমে গুলবাদিন নাইব যেন মাটি কামড়ে ধরেছিলেন। শেষ পর্যন্ত মাশরাফির দুর্দান্ত ক্যাপ্টেনসিকে আটকা পড়ে গেলেন আফগান অধিনায়ক।
শর্ট মিড অফে লিটনকে নিয়ে এসেছিলেন মাশরাফি। সেখানেই ক্যাচ দেন নাইব। চোখের পলকে সেই ক্যাচটি নিয়ে নেন লিটন। আফগান অধিনায়ক ৭৫ বলে ৪৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন এক বুক হতাশা নিয়ে।
ওই ওভারেই শূন্য রানে মোহাম্মদ নবীকে বোল্ড করেন সাকিব। বাংলাদেশের সহ-অধিনায়কের করা আর্মার ডেলিভারিটি বুঝতেই পারেননি নবী। ব্যাট-প্যাডের ফাঁক গোলে তা সরাসরি আঘাত হানে স্ট্যাম্পে। রানের খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফিরে যান নবী।
অনেকক্ষণ ধরে উইকেটে থিতু হয়েছিলেন সাবেক অধিনায়ক আসগর আফগান। রানরেটের চাপটাও টের পাচ্ছিলেন ভালোভাবেই। তাই তো ইনিংসের ৩৩তম সাকিবের বলকে মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা হাঁকানোর ব্যর্থ চেষ্টা করে বসেন তিনি।
ফল হয় যা হওয়ার তাই। জায়গামতো দাঁড়িয়ে থাকা সাব্বির রহমানের হাতে ক্যাচে পরিণত হন আসগর। আউট হওয়ার আগে ৩৮ বল থেকে ২০ রান করেন তিনি। এরপর সরাসরি থ্রোতে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলি খিলকে সাজঘরে ফেরত পাঠান লিটন দাস।
তবে সপ্তম উইকেটে পাল্টা প্রতিরোধের আভাস দেন সামিউল্লাহ শিনওয়ারি ও নাজিবউল্লাহ জাদরান। দুজন মিলে বলের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে গড়ে ফেলেন ৫৬ রানের জুটি। তাদের প্রতিরোধ ভাঙতে ফের বল হাতে হাজির হন সাকিব।
ইনিংসের ৪৩তম ওভারে সাকিবকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন নাজিবউল্লাহ। সুযোগের অপেক্ষায় থাকা মুশফিক বল গ্লাভসে জমিয়ে উইকেট ভাঙতে সময় নেননি একদমই।
এ উইকেটের সঙ্গে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে পাঁচ উইকেট নেয়ার কৃতিত্ব দেখান সাকিব। একইসঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে মাত্র দ্বিতীয় ক্রিকেটার হিসেবে একই ম্যাচে ফিফটি ও পাঁচ উইকেট নিলেন সাকিব। তার আগে ২০১১ সালের বিশ্বকাপে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এ কৃতিত্ব দেখান যুবরাজ সিং।
সাকিবের বোলিং স্পেল শেষ হয় ১০ ওভারে এক মেইডেনের সহায়তায় ২৯ রান খরচায়। মাঝে রশিদ খানকে মাশরাফির হাতে ক্যাচ বানান মোস্তাফিজ। সাকিবের স্পেল শেষ হবার পর দাওলাত জাদরানকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন কাটার মাস্টার।
ইনিংসের ৪৬তম ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে যায় আফগানরা। তবু একা খানিক লড়াই করেন শিনওয়ারি। কিন্তু অপরপ্রান্তে মুজি উর রহমান আউট হয়ে গেলে তিনি অপরাজিত থেকে যান ৪৯ রানে। ইনিংসের ৩ ওভার বাকি থাকতেই অলআউট হয়ে যায় আফগানরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৬২/৭ (লিটন ১৬, তামিম ৩৬, সাকিব ৫১, মুশফিক ৮৩, সৌম্য ৩, মাহমুদউল্লাহ ২৭, মোসাদ্দেক ৩৫, সাইফ ২*; মুজিব ১০-০-৩৯-৩, দওলত ৯-০-৬৪-১, নবি ১০-০-৪৪-১, গুলবাদিন ১০-১-৫৬-২, রশিদ ১০-০-৫২-০, রহমত ১-০-৭-০)।
আফগানিস্তান: ৪৭ ওভারে ২০০ (গুলবাদিন ৪৭, রহমত ২৪, শাহিদি ১১, আসগর ২০, নবি ০, শিনওয়ারি ৪৯*, ইকরাম ১১, নাজিবউল্লাহ ২৩, রশিদ ২, দওলত ০, মুজিব ০*; মাশরাফি ৭-০-৩৭-০, মুস্তাফিজ ৮-১-৩২-২, সাইফ ৮-০-৩৩-১, সাকিব ১০-১-২৯-৫, মিরাজ ৮-০-৩৭-০, মোসাদ্দেক ৬-০-২৫-১)।
ফল: বাংলাদেশ ৬২ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাকিব আল হাসান

পুরোনো সংবাদ

খেলাধুলা 3655425872169394446

অনুসরণ করুন

মুজিব বর্ষ

Logo

সর্বশেষ সংবাদ

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item