চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেল রুটে ১ আগষ্ট থেকে মালবাহী ট্রেন চালু- ট্রায়ালে এলো ভারতীয় ইঞ্জিন


এ.আই.পলাশ.চিলাহাটি প্রতিনিধিঃ
 আগামী পহেলা আগষ্ট থেকে খুলে দেয় হচ্ছে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের রেলপথের আরেকটি নতুন দুয়ার। দীর্ঘ ৬৫ বছর পর ফের চালু হচ্ছে সম্ভাবনাময় চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথে পণ্যবাহী ট্রেন। এ পথে পণ্যপরিবহনে ১৫০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হবে।
আজ বৃহস্পতিবার(২৯ জুলাই/২০২১) ভারতীয় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের দুটি ইঞ্জিন ভারতের নিউ জলপাইগুড়ি থেকে সকাল ১০টা ১০মিনিটে ছেড়ে হলদীবাড়ি সীমান্ত দিয়ে নীলফামারীর চিলাহাটি সীমান্ত জিরো পয়েন্টে পৌঁছায় ১১টা ৪৫ মিনিটে। সেখানে ভারতীয় সীমান্ত ইমিগ্রেশনে আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ৩৮মিনিটে বাংলাদেশের চিলাহাটি রেলস্টেশনে পরীক্ষামুলক যাত্রা সম্পন্ন করে। এ সময় ভারতীয় উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের দুটি ইঞ্জিনের সঙ্গে আসেন ট্রেন পরিচালক ও ইঞ্জিন চালক সহ অন্যান্যরা। এরা হলেন গৌরব বুথা, লিটু রাজ, অর্কদাস, রাকেশ কুমার, মুকেশ কুমার সিং, অরিজিৎ রায়, এমপি. চৌধুরী, ডি.একান্দ চৌধুরী। তাদের ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করে নেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে ডিপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রকৌশলী নাজমুল হক রকি, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে উর্দ্ধতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী সুলতান মৃধা, পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে সৈয়দপুর রেল অফিসের উর্ধ্বতন প্রকৌশলী/ওয়ার্কস (আইডাবøু) প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম, নীলফামারীর ডোমার থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান, চিলাহাটি রেলষ্টেশন মাষ্টার আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ। 
পরে বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন শেষে দুপুর ১টা ৫৮মিনিটে নিউ জলপাইগুড়ির উদ্দেশ্যে ইঞ্জিন দুইটি চিলাহাটি রেলওয়ে ষ্টেশন ছেড়ে যায়। 
এসময় ভারতীয় রেলওয়ে প্রতিনিধি জেষ্ঠ্য গুডস গার্ড মুকেশ কুমার সিং জানান, আগামী পহেলা আগষ্ট থেকে এই পথে দুই পণ্যবাহী ট্রেন চালু হতে যাচ্ছে। শুরুতে পণ্যবাহী ট্রেনে ভারত থেকে পাথর ও গম আসবে। এমন কি এই পথে অক্সিজেনবাহী ট্রেনও চলাচল করতে পারে।  


ভারতীয় প্রতিনিধিদের সুত্র মতে, ট্রেন চালুর আগে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় রেলের গার্ড ও চালকদের। নিয়ম অনুযায়ী ট্রেন পরিষেবা চালুর আগে নতুন রুটটির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য গার্ড ও চালকরা এক বা দুটি ইঞ্জিন নিয়ে রুট পরিদর্শন করেন। রেলের পরিভাষায় যাকে লার্নিং রোড(এলআর) বলে। এদিন গার্ড ও লোকো পাইলটের দলে ছিলেন চারজন রেলের সিনিয়ার গুডস গার্ড, একজন লোকো পাইলট (প্যাসেঞ্জার), তিনজন লোকো পাইলট (গুডস) এবং চরজন অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো পাইলট। সীমান্তে উপস্থিত ছিলেন কাস্টমের সুপার ইনটেন্ডেন্ট রিমা মাংগার, বিএসএফের ১৮০ ব্যাটালিয়নের সেকেন্ড ইন কমান্ড প্রভাত, এনজেপির এরিয়া ম্যানেজার আসিফ আলি সহ আরও অনেকে। এদিন প্রশিক্ষণ সুষ্ঠুভাবে স¤পন্ন হওয়ায় তারা খুশি। রেলমন্ত্রক, শুল্ক এবং অভিবাসন দপ্তরের কর্মীরা। 

উল্লেখ যে, এর আগে ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশে চিলাহাটি থেকে ভারতের হলদিবড়ি পর্যন্ত পন্যবাহী ট্রেন চলাচলের উদ্ধোধন করা হয়েছিল। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে তা উদ্ধোধন করেছিলেন দুই দেশের প্রধান মন্ত্রী যথাক্রমে শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদী। এ ছাড়া চলতি বছরে বাংলাদেশের সুবর্ণজয়ন্তী এবং বাংলাদেশ-ভারত ক‚টনেতিক স¤পর্কের ৫০ বছর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় এসেছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সে সময় ২৭ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং নরেন্দ্র মোদি যৌথভাবে ঢাকা থেকে নিউ জলপাইগুড়ি পর্যন্ত আন্তঃদের্শীয় যাত্রীবাহী মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্ধোধন করেন। যাত্রীবাহী ট্রেনটি উদ্ধোধন করা হলেও করোনা পরিস্থিতিতে যাত্রী বাহী ট্রেনের চাকা আপাতত থামিয়ে রেখেছে। অনুকুল পরিবেশ আসলেই দুই দশের পতাকা উড়িয়ে চলাচল শুরু করবে মিতালী।  
সংশ্লিষ্ট সুত্র মতে বর্তমান পরিস্থিতি ভারত বাংলাদেশের বিভিন্ন রেলসীমান্ত দিয়ে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করছে। সে ক্ষেত্রে এবার চিলাহাটি-হলদিবাড়ি সীমান্ত রুটে  আর বাধা নেই পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলে। ৬৫ বছর পর ফের হুইসেল বাজিয়ে ১ আগস্ট ৩০ ওয়াগন পণ্য নিয়ে বাংলাদেশে আসবে ভারতীয় ট্রেন। তার আগে আগে বৃহ¯পতিবার দুই ইঞ্জিন নিয়ে নিউজলপাইগুড়ি ও হলদিবাড়ি থেকে বাংলাদেশের নীলফামারীর চিলাহাটি পর্যন্ত লার্নিং রান স¤পন্ন করলো ভারতীয় ট্রেন চালক ও ট্রেন পরিচালনকদ্বয়। তারাই   পহেলা আগস্ট পণ্যট্রেন নিয়ে বাংলাদেশে আসবেন।
সুত্র মতে দুই দেশের  পণ্যবাহী ট্রেন চলাচলের ক্লিয়ারেন্স দেয়া হয়েছে। পহেলা আগস্ট গম ও পাথর নিয়ে ৩০ বগির পণ্য ট্রেন বাংলাদেশে আসবে। যার গন্তব্য হবে বঙ্গবন্ধু সেতুর পশ্চিম তীর পর্যন্ত। সৈয়দপুর পার্বতীপুরও পণ্য নামতে পারে। তবে ভারতীয় ইঞ্জিন চিলাহাটি পর্যন্ত এসে থেকে যাকে। চিলাহাটি থেকে বাংলাদেশের ইঞ্জিন নিয়ে যাবে নির্দিষ্ট গন্তব্যে। পণ্য খালাস শেষে ফের এসে ওয়াগন নিয়ে যাবে ভারতীয় ইঞ্জিন।
অপর দিকে উভয় দেশের তরফে যাত্রী ট্রেন চলাচল সকল ব্যবস্থাই ঠিকঠাক রয়েছে। রয়েছে যাত্রী চালানোর গ্রিন সিগন্যাল। করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে যা থেমে রয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন। যাত্রী ট্রেন চালু হলে বাংলাদেশের ভ্রমণপিপাসু মানুষের ঢল নামতে ভারতের উত্তরের জনপদ দার্জিলিংসহ অন্যান্য দর্শনীয় স্থানে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ দার্জিলিং ভ্রমণ করে থাকেন। তাদের যেতে হয় অনেক পথ ঘুরে এবং ব্যয়ও বেশি হয়ে থাকে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পথে রেল সচল হলে পণ্যবাহী কোন ট্রেন বাংলাদেশে আসতে ১৫০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হবে। সেক্ষেত্রে মাত্র ৬০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই বাংলাদেশে আসা সম্ভব হবে।
বর্তমানে বিরল-রাধিকাপুর দিয়ে ২১০ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বর্তমানে চারটি রেলপথে প্রতিদিন ভারত থেকে গড়ে ৪টি পণ্যবাহী ট্রেন বাংলাদেশে আসছে।
উল্লেখ্য, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কলকাতা থেকে উত্তরপূর্ব ভারতের পথে কোন যাত্রীট্রেন দর্শনা কিংবা বেনাপোল দিয়ে প্রবেশ করে তা বাংলাদেশের ভেতর দিয়ে চিলাহাটি হয়ে হলবাড়ি পৌছাবে। তাতে কমপক্ষে ২০০ কিলোমিটার পথ সাশ্রয় হবে ভারতের। 



পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 2086916918794380696

অনুসরণ করুন

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item