বর্তমান সরকারের ডিজিটাল সেবায় নীলফামারীতে অনলাইনে শতভাগ জমির রেকর্ড, খতিয়ান প্রাপ্তির উদ্বোধন


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয় ,নীলফামারী॥ ভূমি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের প্রক্রিয়া জোরেশোরে শুরু করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নীলফামারী জেলার রেকর্ডরুম শাখার ভুমির রেকর্ড সিএস,এসএ খতিয়ান ই-সেবার মাধ্যমে অনলাইনে শতভাগ প্রাপ্তির আনুষ্ঠানিকভাবে শুভ উদ্ধোধন করা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার(১ অক্টোবর/২০২০) দুপুরে রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এই কার্যক্রমের উদ্ধোধন করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, শতভাগ অনলাইনে সেবা বিশেষ করে ভূমি সংক্রান্ত ই-সেবা তৈরি বিশেষ করে ভূমি রেকর্ডের ভুমি জড়িপ ও রেকর্ড প্রণয়ন এবং সংরক্ষণ(প্রথম পর্যায়ে বিদ্যামান মৌজা,ম্যাপস সিএস,এসএ খতিয়ান অনলাইনে সংরক্ষন করা হবে এবং প্রাপ্তীর ক্ষেত্রে অনলাইনে সরবরাহ করা হবে। সেই সঙ্গে বিভিন্ন সেবা ই-সেবায় রূপান্তিত হবে।
সূত্র মতে, এ জেলার ৬ উপজেলায় ৩৭০টি মৌজার ৫ লাখ ৬৪ হাজার ৫৫৩টি ডাটা সংরক্ষন করা হয়েছে অনলাইনে।
উদ্ধোধনকালে প্রধান অতিথি রংপুর বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদ নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ দৃশ্যমান। বর্তমান যুগে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি। আজ সবাই ডিজিটাল বাংলাদেশের সুবিধা ভোগ করতে সম হচ্ছে। জিজিটাল পদ্বতিতে অনলাইনে শতভাগ ভূমি জরিপ ও রেকর্ড প্রণয়নে নীলফামারী জেলা আজ থেকে মডেল জেলা হিসেবে গড়ে উঠলো।
বিভাগীয় কমিশনার আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী মাননীয় শেখ হাসিনার জিডিটাল বাংলাদেশের কার্যক্রম অনলাইনে ভূমিখতিয়ান দিয়ে আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। ২০০৮ সাল থেকে ডিজিটাল বাংলাদেশের শ্লোগান জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌছিয়ে দেয়ার যে উদ্যোগ প্রধানমন্ত্রী নিয়েছেন তা বাস্তবায়নের শেষের দিকে। আগামী ২০২১ সালের মধ্যে যে ভিশন-মিশন রয়েছে তা সম্পূর্ণ হবে বাংলাদেশ বিশ্বের মাঝে আরো একটি রোল মডেল হয়ে দাড়াবে। আর এই কার্যক্রমে অনলাইন ভিত্তিক কাজে নীলফামারী আজ আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। নীলফামারী জেলায় কর্মরত যে বিসিএস সদস্যরা রয়েছেন তারা তাদের যে বিষয় শিক্ষা অর্জন করেছেন তা কাজে লাগিয়ে নীলফামারীকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহবান জানান।
তিনি আরো বলেন, রংপুর বিভাগের আটটি জেলা নিজেদের শিক্ষা, চিকিৎসার, বাসস্থান সহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজেদেরকে রোল মডেল হিসেবে গড়ে তুলেছে। উত্তরবঙ্গ আজ মঙ্গা থেকে অনেক দূরে চলে গিয়েছে। উত্তরা ইপিজেডে ৪০ হাজারের বেশি শ্রমিক কাজ করছে। তার মধ্যে ৭০ ভাগ নারী। কর্ম সংস্থানের দিক দিয়েও নীলফামারী এগিয়ে আছে। নীলফামারী জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে দীপ্তিমান নীলফামারী এগিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে দিক নিদের্শনামূলক বক্তব্য রাখেন।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোঃ হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান(বিপিএম,পিপিএম), নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক(ডিডিএলজি) আব্দুল মোতালেব সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক(রাজস্ব) খন্দকার মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মির্জা মুরাদ হাসান বেগ, ছয় উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার(ভূমি) ও জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট সহ কর্মকর্তা ও কর্মচারী। এ ছাড়া সিএস ও এসএ রেকর্ডের খতিয়ান অনলাইনে সর্বচ্চো ১ লাখ ডাটা এন্ট্রি করায় মনোয়ার হোসেন শাহকে শুভেচ্ছা স্মারক ও সনদপত্র প্রদান করেন বিভাগীয় কমিশনার।
এর আগে সকালে রংপুর বিভাগীয় কমিশনার সার্কিট হাউসের আধুনিক সম্মেলন কক্ষের উদ্বোধন করেন। এরপর তিনি উত্তরা ইপিজেড পরিদর্শন, জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের হেল্প ডেক্স পরিদর্শন, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত পরিদর্শন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও গোড়গ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন। বিকালে বিন্ন্যাদিঘিতে (নীলসাগর) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বৃক্ষরোপণ ও মাছের পোনা অবমুক্তকরণ, নীলফামারী অফিসার্স কাব ও ডিসি গার্ডেন পরিদর্শন করেন তিনি।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 4219982437295929927

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item