সৈয়দপুর - রংপুর রুটে বাস-মিনিবাসে যাত্রী পরিবহনে ন্যূনতম সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছেনা

তোফাজ্জল হোসেন লুতু,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

 সরকারি নির্দেশনা সত্ত্বেও সৈয়দপুর-রংপুর ও সৈয়দপুর- দিনাজপুর রুটে বাস- মিনিবাসে যাত্রী পরিবহনে সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। অথচ গণ-পরিবহণে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলতে কোন রকম তদারকি নেই সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর। এতে করে বৈশ্বিক প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের শঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে।

করোনা ভাইরাসের কারণে প্রায় দুই মাস গণপরিবহণ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল। গত ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে বাস-মিনিবাস চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। যদিও  তখন সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে বাস-মিনিবাস চলাচল করতে সরকারি  নির্দেশনা জারি করা হয়। সরকারি নির্দেশনায় বলা হয়, বাস-মিনিবাসে আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হবে। অর্থাৎ একজন যাত্রীকে বাস-মিনিবাসের দুইটি সিটের (আসন) একটি সিটে বসিয়ে অন্যটি ফাঁকা রাখতে হবে। যাত্রী সাধারণ সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করবেন। বাস-মিনিবাসে আসন সংখ্যার বাইরে দাঁড়িয়ে কোন যাত্রী পরিবহণ করা যাবে না। তবে ভাড়ার ক্ষেত্রে পূর্বের নির্ধারিত ভাড়ার শতকরা ৬০ ভাগ বেশি দিতে পারবেন।

প্রথম দিকে কিছুটা হলেও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহণে যাত্রী পরিবহন করা হলেও বর্তমানে তা আর মানা হচ্ছে না। গত শুক্রবার (৭ আগস্ট) সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সৈয়দপুর-রংপুর রুটে একটি গেটলক বাসে যাত্রী হয়ে এ সত্যতা মিলেছে। এ সময় দেখা যায়, বাস-মিনিবাসগুলোতে সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্য বিধি মানার কোন বালাই নেই। ঠিক আগের মতো বাস-মিনিবাসগুলোতে প্রতিটি আসনে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে। বাস-মিনিবাসগুলোর আসন সংখ্যার বাইরেও দাঁড়িয়ে যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুন। অর্থাৎ  করোনার আগে সৈয়দপুর-রংপুর রুটে বাস-মিনিবাসে ভাড়া নেওয়া হতো ৫০ টাকা। যদিও সরকারি পরিপত্র অনুযায়ী প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া এক টাকা ৪২ পয়সা। সে হিসেবে সৈয়দপুর -রংপুর রুটে বাস মিনিবাসে একজনের ভাড়া দাঁড়ায় ৫৬ টাকা আশি পয়সা। কিন্তু বর্তমানে করোনাকালে প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে এ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে ১০০ টাকা।

গত শনিবার সকাল সোয়া ১০ টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দিনাজপুর থেকে রংপুরগামী শাপলা পরিবহণের একটি গেটলক মিনিবাস এসে সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দাঁড়ায়। এ সময় বাসটির আসনের বাইরেও অনেক যাত্রী বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ওই মিনিবাসের আসনে বসা ও  দাঁড়িয়ে থাকা মাত্র অল্প কয়েকজন যাত্রী সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে নেমে যান। এ সময় সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে বিভিন্ন বয়সী অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ ওই বাসটিতে যাত্রী হয়ে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য বাসটির ফটকে ভীড় করে ঘিরে ধরেন। এ সময় সুপারভাইজার মো. এন্তাজুল হক চিৎকার করে বার বার বলছিলেন বাসে কোন আসন (সিট) খালি নে;: কেউ বাসে উঠবেন না। কিন্তু তাঁর কথার কোন কর্ণপাত নেই। আর সেখানে কে শোনেন কার কথা। তারপরও লোকজন হুঁড়োহুঁড়ি করে বাসটিতে উঠেন পড়েন। এ সময় আসনের বাইরেও দাঁড়িয়ে থাকেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। মোট কথা ভেতরে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। এরপর সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটে বাসটি রংপুরের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। তখন ওই বাসের ইঞ্জিন কভারে বসে যাত্রী হন আমাদের সৈয়দপুর প্রতিনিধিও। এ সময় দেখা যায় বাসের যাত্রী মধ্যে অর্ধেকেরও মুখে নেই কোন মাস্ক। বাসের হেলপার সুপারভাইজারের থুতনিতে মাস্ক ঝুলতে দেখা যায়। এ সময় কথা হলে সুপারভাইজারের সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,  আমরা বাসের নির্দিষ্ট আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহণ করতে চাই। কিন্তু যাত্রীরা তো তা মানতে চান না। তারা  অফিস আছে, হাসপাতালে রোগী আছে ,রোগী খুব গুরুতর অবস্থা এ রকম নানা অজুহাতে অনেকটাই জোরজবরদস্তি করে বাসে উঠে পড়েন। তবে সরেজমিনে বাসে বসে তাঁর সত্যতাও পাওয়া গেছে।

 বেলা দেড়টায় রংপুর মেডিক্যাল মোড়ে বসে দেখা যায় শাপলা পরিবহন নামের বাসটি রংপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে মাত্র দুইজন যাত্রী নিয়ে মেডিক্যাল কলেজ মোড় সংলগ্ন এলাকায় এসে দাঁড়ায়। এ প্রতিনিধি আবারও ওই বাসের যাত্রী হয়ে উঠেন। তবে এবারে বাসের ভিতরে একটি আসন নিয়ে বসেন। এর অল্প সময় পরই পুরো বাসটিরই আসনই যাত্রী দিয়ে পরির্পূণ হয়ে যায়। তখন আসনের বাইরেও অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে থাকেন। দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীরা বাসের ভেতরে গাদাগাদি ও ঘেঁষাঘেষি করে দাঁড়ান। এর মধ্যে সুপারভাইজার বাসের ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীদের ঠেলে ঠেলে ভেতরে ঢুকে ভাড়া আদায় করছিলেন।এ সময় যাত্রীদের মধ্যে সামাজিক দূরত্ব কিংবা স্বাস্থ্য বিধির কোন বালাই ছিল না।

  এ সময় কথা হয় সৈয়দপুর শহরের উপকণ্ঠের শাইল্যার মোড়ের বাসিন্দা মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন,  ভাই কি আর বলবো। ছোট ভাইয়ের বউয়ের মেয়ে হয়েছে রংপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে। ভাতিজিকে দেখতে যাব বলে গত  শুক্রবার বাড়ি সৈয়দপুর বাস টার্মিনালে এসে প্রায় দেড় - দুই ঘটনা অপেক্ষা করেও বাসে উঠতে পারেনি। দিনাজপুর থেকে পর পর তিনটি গেটলক মিনিবাস সৈয়দপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে এলেও যাত্রী সাধারণের ভীড়ের কারণে বাসে উঠতে পারেনি। আর কারোনা ভাইরাসের সংক্রমণের ভয়ে গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে বাসে উঠতে সাহসও দেখায়নি। শেষে বাড়ি ফিরে যেতে অনেকটাই বাধ্য হয়েছি। তাই আজ সকাল সকাল বাস টার্মিনালে এসে দেখি একই অবস্থা। উপায়ান্তর না পেয়ে অনেক ঠেলাঠেলির পর বাসে ইঞ্জিন কভাবে বসে রংপুরে যেতে হয়েছে। এখন আবার একই বাসে বাড়ি ফিরছি। দেখেন না বাসের ভিতরে কি অবস্থা। কি আর করা বাড়ি তো ফিরতেই হবে। 

 নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক এক নেতা  বর্তমান করোনাকালে প্রতিটি যাত্রীদের কাছ থেকে দ্বিগুন ভাড়া নেওয়ার কথা অপকটে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমরা বাস-মিনিবাস চালক ও সহকারিদের নির্দেশ দিয়েছি আসনের অর্ধেক যাত্রী পরিবহনের। বাস-মিনিবাসের চালক ও তাদের সহকারিরাও চেষ্টা করেন সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে আসন সংখ্যার অর্ধেক অর্থাৎ দুইটি আসনে একজন করে যাত্রী পরিবহণের। কিন্তু যাত্রী সাধারণই সামাজিক দূরত্ব মানতে চাইছেন না। তারা প্রতিটি আসনে বসে এমনকি দাঁড়িয়েও যেতে দ্বিধাবোধ করছেন না। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে যাত্রী সাধারণের মধ্যে এতোটুকু করোনা ভাইরাস ভীত নেই। 

এ ব্যাপারে রংপুরের তারাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জের (ওসি) ০১৭৬৯-৬৯০৬০৪ নম্বর মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তাঁর মন্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8429022310910571558

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item