নীলফামারীতে সুইসাইড নোটের সুত্র ধরে আকলিমা হত্যা রহস্য উদঘাটন॥সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী প্রতিনিধি॥
নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের মৎস্য খামারের পেছনের বাঁশঝাড় থেকে গত ২৩ আগাষ্ট সকালে অজ্ঞাত পরিচয়ে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশের কোমড়ে পাওয়া যায় একটি সুইসাইড নোট। ডার্বি সিগারেটের ফয়েল পেপারে ওই সুইসাইড নোটটিতে লেখা ছিল, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ি না’। পরে পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে তার নাম আকলিমা বেগম (২৫)। সে কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর গ্রামের মৃত আবেদ আলীর মেয়ে।

ওই সুইসাইড নোটের সুত্র ধরে পুলিশ ওই হত্যা রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে বলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবী করেছেন নীলফামারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান (বিপিএম,পিপিএম)।

আজ শনিবার(২৯ আগষ্ট/২০২০) বিকাল ৩টায় নীলফামারী পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ওই সংবাদ সম্মেলন হয়। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(প্রশাসন) এবিএম আতিকুর রহমান,  সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল প্রমুখ। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রায় আট বছর আগে দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার হাবরা ইউনিয়নের রসুলপুর গ্রামের আনিছুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলামের(২৮) সঙ্গে বিয়ে হয় আকলিমার। তাদের রয়েছে এক ছেলে দুই মেয়ে। (ছেলের বয়স ৬ বছর। এক মেয়ের বয়স ১৮ মাস, আরেক মেয়ের বয়স ২মাস।) পারিবারিক কলহের কারনে স্বামী শরিফুল ইসলাম বাচ্চাদের রেখে আকলিমাকে ঘটনার ১০ থেকে ১২দিন আগে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। এ অবস্থায় আকলিমা বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। কিন্তু বাবার বাড়িতে পরিবারের লোকজন তাকে মেনে না নিয়ে গালমন্দ করে। এ অবস্থায় ক্ষোভে ও দুঃখে আকলিমা গত ২২ আগাষ্ট বাবার বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। ঘুরতে ঘুরতে সে কামাপুকুর মৎস্য খামার এলাকায় গেলে সেখানে একই গ্রামের কাঙ্গালু পাড়ার আনারুল ইসলাম(৩৫), মো. শুভ (২০) ও মো. হৃদয় (১৮) তাকে ডেকে নেয়। এবং তাকে খাবার ও টাকা দিতে চায়। এক পর্যায়ে তারা তাকে পার্শ্ববতি বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। মেয়েটি ঘটনার কথা জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে তারা তাকে স্বাস রোধে হত্যা করে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করে। এবং আনারুল নিজ হাতে সুইসাইড নোট লিখে আকলিমার কোমড়ে গুজে দেয়। 

পুলিশ সুপার বলেন, নিহত আকলিমার মা মমতাজ বেগম বাদি হয়ে ২৩ আগষ্ট নিহতের স্বামীকে আসামী করে মামলা করেন। আমরা তার স্বামীকে ওই মামলায় গ্রেফতার করি। এবং মেয়েটির সুইসাইড নোটের সুত্র ধরে ওই এলাকায় ডারবি সিগারেট খায় এমন ৫০ থেকে ৬০ ব্যাক্তিকে চিহ্নিত করি। সুইসাইড নোটের লেখার সাথে তাদের হাতের লেখা মেলানোর চেষ্টা করি। এবং সাদা পোষাকে গোয়েন্দা নজরদারী শুরু করি। এক পর্যায়ে আনারুল ইসলামের হাতের লেখা সঙ্গে সুইসাইড নোটের লেখা মিলে যায়। আমরা তাকে গ্রেফতার করলে সে ঘটনার সঙ্গে তাদের তিন জনের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। পরে আমরা মো. শুভকেও গ্রেফতার করি। তারা দুইজন গতকাল শুক্রবার(২৮ আগষ্ট/২০২০) ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবান বন্দি দেয়। তাদের সঙ্গে মো. হৃদয়ের সম্পৃক্ততা থাকার কথা স্বীকার করে। হৃদয় পলাতক রয়েছে তাকে গ্রেফতারের অভিযান অব্যহত আছে।

এ সময় সৈয়দপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মেয়েটি স্বামীর বাড়িতে আশ্রয় পেল না, ভাইয়ের বাড়িতে আশ্রয় পেল না, বাহিরে সমাজও তাকে জায়গা দিল না। যে কারনে তাকে আজ এই নির্মম পরিনতির শিকার হতে হলো। #


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8848883240781200011

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item