পার্বতীপুরে আসবে ভারত থেকে পাইপ লাইনে জ্বালানী তেল॥ রংপুর-নীলফামারীতে দেওয়া হবে গ্যাস সংযোগ

এম এ আলম বাবলু, পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের পার্বতীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের রেলহেড ডিপোতে ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে আসবে জ্বালানী তেল এবং সেই সাথে দেশের উত্তরাঞ্চলের রংপুর ও নীলফামারী জেলায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হবে। গ্যাস সংযোগ দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যেই প্রাথমিক কাজ শুরু করেছে জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে পার্বতীপুরের রেলওয়ে হেড ডিপো পরিদর্শনে এসে এ কথা বলেন জ্বালানী মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র সচীব আনিছুর রহমান। তিনি বলেন গ্যাস লাইন বগুড়া পর্যন্ত আছে। ওই লাইন রংপুর ও নীলফামারীর ইপিজেড পর্যন্ত নেওয়া হবে। তিনি ৫২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ পাইপ লাইন নির্মান কজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প পরিচালক টিপু সুলতান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ মিথুন মুন্নী, পদ্মা ওয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুদুর রহমান, মেঘনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর সাইফুল্লাহ আল খালেদ, যমুনার ব্যবস্থাপনা পরিচালক গিয়াস উদ্দীন আনসারী, মধ্যপাড়া কঠিন শিলা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবিএম কামরুজ্জামান, বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী কামরুজ্জামান প্রমুখ।
জানা গেছে, বর্তমানে দেশের উত্তরাঞ্চলের দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুরে অবস্থিত পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের রেলওয়ে হেড ডিপোতে জ্বালানী তেল রেলের ট্যাঙ্ক ওয়াগানে পরিবহন করা হয়। আমদানীকৃত, ইষ্টার্ণ লিমিটেড এবং স্থাণীয় অন্যান্য উৎস হতে প্রাপ্ত জ্বালানী তেল চট্টগ্রামের প্রধান স্থাপনায় মজুদ করা হয়। সেখান থেকে পানি পথে দৌলতপুর ডিপো ও খুলনা পাঠানো হয়। সেখান থেকে ট্যাঙ্ক ওয়াগানের মাধ্যমে পার্বতীপুরের রেল হেড ডিপোতে পাঠানো হয়। এতে সময় লাগে কমপক্ষে এক সপ্তাহ। তাছাড়া এ ভাবে তেল পরিবহন করা ব্যয়বহুল এবং ঝুকিপূর্ণ। ফলে সরকার ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে তেল আমদানীর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। ভারতের নুমালীগড় হতে শিলিগুড়ি রেল টার্মিনাল পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার পাইপ লাইন রয়েছে। এখন শিলিগুডি মার্কেটিং টার্মিনাল হতে পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩০ কিলোমিটার পাইপ লাইন নির্মান করা হবে। এর মধ্যে ভারত অংশে ৫ কিলোমিটার ও বাংলাদেশ অংশে ১২৫কিলোমিটার। পাইপ লাইন নির্মানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৫২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকার ব্যয় করবে ৩০৩ কোটি রুপি ও বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন ব্যয় করবে ১৫০ কোটি টাকা। ১০ ইঞ্চি ব্যাসের এই পাইপ দিয়ে বছরে ১০ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল পরিবহন করা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, পাইপ লাইন নির্মানের জন্য ইতোমধ্যে ভূমি অধিগ্রহনের কাজ শুরু হয়েছে। পাইপলাইন নির্মিত হলে অল্প সময়ের মধ্যে ভারত থেকে পার্বতীপুর রেলহেড ডিপোতে জ¦ালানী তেল (ডিজেল) চলে আসবে। আর এখান থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলের ১৬ টি জেলায় তা সরবরাহ করা হবে। এতে করে একদিকে সময় লাগবে কম, অপরদিকে পরিবহন ব্যয় ও সিস্টেমলস অনেক কমে যাবে। এছাড়াও বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় বিদেশ থেকে জ¦ালানী তেল আমদানী করা হয় এতে করে তা পার্বতীপুরে পৌঁছতে সময় লাগে প্রায় এক মাস। ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধান মন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি পাইপ লাইন নির্মান কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন। পরে ২০১৯ সালের ২৯ নভেম্বর কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন ভারতীয় হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলী দাশ।
ভারত থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে পার্বতীপুরে জ্বালানী তেল আসা শুরু হলে এই এলাকার তেল সরবরাহ যেমন সহজ হবে তেমনই এই এলাকার মানুষও সহজে জ্বালানী তেল সুবিধা ভোগ করবেন। সেই সাথে রংপুর ও নীলফামারীতে গ্যাস সরবরাহ করা হলে এলাকার সার্বিক চিত্র পাল্টে যাবে।

পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 1918385083606915438

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item