আন্তর্জাতিক নারী দিবসের অপরাজিতার মঞ্চে সম্মাননা পেলেন এক বীরাঙ্গনা ও ১১৮ বছরের বৃদ্ধা

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী॥ ব্যস্ততা, দুশ্চিন্তা, হতাশা, আক্ষেপসহ নানা কারণে মনের জোর কমে যায়। মনের দুর্বলতা প্রকাশ পায় আমাদের দৈনন্দিন কাজে। মনের দ্বিধার কারণে সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি আমরা। মনের জোর বাড়াতে পারলে অনেক সাধারণ সমস্যা সহজেই কাটানো যায়। মানসিকভাবে নিজেকে শক্ত করে গড়ে তোলার কথা বললেন ১১৮ বছরের বৃদ্ধা ময়মন বেওয়া। আর স্বাধীনতা যুদ্ধে তিনদিন তিনরাত পাকিসেনাদের হাতে নির্যাচিতা বীরাঙ্গনা নারী শাহেলা বেগম বললেন শেখ মুজিবের দেশ পেয়েছি বাংলাদেশ।
আন্তর্জাতিক নারী দিবসে  রবিবার(৮ মার্চ/২০২০) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিল্পকলা একাডেমির সম্মেলন কক্ষে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের পরিবারের আয়োজনে অপরাজিতা নারীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে এই দুই নারী তাদের জীবনের কথা শোনালেন। এই দুই নারীর হাতে তুলে দেয়া হয় ক্রেষ্ট, পেডেল ও ১০ হাজার টাকা করে প্রাইজবন্ড।
জেলা প্রশাসক পত্নী ফাতেহা শিরিন চৌধুরীর সভপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নূর। বিশেষ অতিথি ছিলেন নীলফামারী ২৩ আসনের সংরক্ষিত সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিম, রংপুর বিভাগের ভারপ্রাপ্ত বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন, জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোকলেছুর রহমান(বিপিএম,পিপিএম) ও বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ডাঃ শহীন আখতার।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শতশত নারী ও অতিথিরা অপরাজিতা দুই বৃদ্ধা নারীর জীবনের কথা শুনে অভিভুত হয়ে পড়েন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নুর বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবসে নীলফামারীর সব থেকে বয়স্কো নারী ও বীরাঙ্গনাকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি নিজেকে ধন্য মনে করছি। তিনি বলেন স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল বীরাঙ্গনাকে আমাদের বঙ্গবন্ধু নিজের মেয়ে বলে গ্রহন করেছেন। শতবর্ষী নারী এমন একজন জননীকে অনুষ্ঠানে পেয়ে অবাক হতে হয়।
আগামীতেও এমন নারীদের আমরা জেলায় জেলায় সম্মাননা প্রদানের আয়োজন করতে পারি।
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের পাইটপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল বাকির স্ত্রী বীরঙ্গনা মোছাঃ শাহেলা বেগম। তার বীরাঙ্গনার গেজেট নম্বর ১৯৪। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে তার স্বামী ও দেবরকে খুঁজতে এসে না পেয়ে পাকিসেনারা তাকে তুলে নিয়ে যায়। তিনদিন আটকিয়ে চলে তার উপর পাশবিক নির্যাতন। জন্ম নেয় মেয়ে সন্তান। দেড়মাস বয়সে সে সন্তান মারা যায়। বর্তমানে তার তিন মেয়ে এক ছেলে রয়েছে।
নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার  বিলুপ্ত ছিটমহলের বাসিন্দা ময়মনা বেওয়া তার বক্তব্যে বলেন দীর্ঘ ৬৮ বছর ছিলেন পরিচয়হীন এখন তিনি আর ছিটমহলের বাসিন্দা নন। তিনি বলেন, আমি সেই আমি নই। আমি এখন বাংলাদেশের গর্বিত নাগরিক। ময়মনা জানান বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পেয়ে তার দুঃখ দুর্দশা দূর হয়েছে। ৬৮ বছরের বন্দী জীবন অবসানের ৫ বছর অতিবাহিত হয়েছে। ছিটমহলের বন্দী জীবনে তিনি কখনো মনোবল হারাননি।  এই ৫ বছরে তিনি শেখ হাসিনা সরকারের দেয়া অনেক সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তাই শেষ বয়সে এই বৃদ্ধা তার মনোবল জাগ্রত করে জানালেন তার বয়স ১১৮ বছর চলছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও অসুখ বিসুখে কোনদিন ইনজেকশন নেননি। তবে বয়সের ভারে তিনি দুর্বল হলেও মনোবল হারাননি।
১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্বামী বাবর আলী  দেওয়ান মারা যান। ১৪ বছর বয়সে তার বিয়ে হয়েছিল। ৭ ছেলে ও ৭ মেয়ের জননী তিনি। এর মধ্যে ২ ছেলে ও ৪ মেয়ে মৃত্যুবরন করেছে। বেঁচে আছে ৫ ছেলে ৩ মেয়ে। নাতি-নাতনি পুতি সহ তার পরিবারের বর্তমানে সদস্য সংখ্যা ৮৮ জন। বৃদ্ধার বড় ছেলে লাল মামুদ ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার খেতাব পেয়েছেন ।
বৃদ্ধা ময়মনা এখন স্বামীর ভিটায় বাস করেন।স্বামীর কবর বিলুপ্ত ছিটমহলের ভেতরে থাকায় স্বামীর ভিটা ছাড়েননি তিনি। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃদ্ধা ১১৮ বছর বয়সে আজ বিলুপ্ত ছিটমহলের এক জীবন্ত ইতিহাস বৈকি! #

পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 8309854618406263432

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item