জলঢাকা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে ক্লিনিক স্থাপনের বরাদ্দ নিয়ে অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি॥ নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে একটি বেসরকারি হাসপাতাল চালু করা হয়েছে।  শনিবার(৩০ নভেম্বর) দুপুরে এটি চালু করা হয়।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, উপজেলা সড়কে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটির ভেতরে দোকান ঘরের সব কিছু ডিজাইন ভেঙ্গে ফেলেছে লিজ নেয়া ক্লিনিক মালিক।
যারা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনটি ক্লিনিক করেছে তারা সকলেই ২০ দলীয় জোটের বিএনপি, জামায়াত শিবির ও কল্যান পাটি ও ন্যাপের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
এলাকাবাসী জানায়, ২০১৭ সালে ২১ অক্টোবর দুপুরে জলঢাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বর্জন করে চলে গিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। অনুষ্ঠানে জামায়াত-সমর্থিত এক নেতার উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সেখান থেকে চলে যান মন্ত্রী। এরপর থেকে ভবনটি তালা লাগানো ছিল।
জলঢাকার বেশ কিছু মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করে জানায়, এখন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধাদের কোন কমিটি নেই। মুক্তিযোদ্ধাদের সকল কার্যক্রম দেখেন ডিসি (জেলা প্রশাসক) স্যার ও ইউএনও(নির্বাহী অফিসার) স্যার। কিন্তু ভবনটির নিয়ন্ত্রন থেকে যায় সাবেক উপজেলা কমান্ডার হামিদুল ইসলামের কাছেই। আমরা জানতে পারি সাবেক কমান্ডার প্রশাসনকে ফাঁকি দিয়ে ভবনটি ভাড়া দেয় উপজেলা বিএনপি সমর্থিত কল্যানপার্টির সভাপতি আসাদুজ্জামান স্টালিন ও তার বড় ভাই উপজেলা ন্যাপের সভাপতি সেলিমকে। তারা আবার শেয়ারে পার্টনার নেয় উপজেলার সাবেক শিবির নেতা রাজু, বিএনপি নেতা রোকন চৌধুরী, আব্দর রহিম সহ ১০/১২জনকে।
অভিযোগ ওই ক্লিনিক গড়তে ভবনটির প্রথম ও দ্বিতীয় তলার ভেতরে নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণকাজ করিয়ে নিচতলায় হাসপাতালের চিকিৎসকদের চেম্বার ও কার্যালয় কক্ষ হিসেবে তৈরী করা হয়েছে। দ্বিতীয় তলা রোগীদের কেবিন ও অস্ত্রোপচারের কক্ষ হিসেবে। যা সম্পূর্ন অবৈধ। এলাকাবাসী জানায়, ক্লিনিকটির নাম দেয়া হয়েছে আমাদের হাসপাতাল।
এ ব্যাপারে জলঢাকা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার হামিদুর রহমানের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথা হয়। বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বর্তমানে উপজেলায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের কোন কমিটি নেই। তবে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সটি আমার নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ৬টি করে ১২টি দোকান ছিল। কিন্তু কোন ভাড়া পাওয়া না যাওয়ায় আমি উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আসাদুজ্জামান স্টালিন ও তার বড় ভাই সেলিমকে ভবনের প্রথম ও দ্বিতীয়তলা ভাড়া দিয়েছি মাসে ৩৪ হাজার ১৬ টাকায়। তৃতীয় তলা আমাদের অফিস। তিনি বলেন শুনেছি যারা ভাড়া নিয়েছে তারা ১০/১২জনকে শেয়ার দিয়েছে। কত বছরের জন্য ভাড়ার চ্যুক্তি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এখনও চ্যুক্তি হয়নি। তবে হবে।
ভবনের ভেতরের ডিজাইন ভেঙ্গে ক্লিনিকের ডিজাইন করা হয়েছে কেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না ডিজাই ঠিক রেখে তারা বেশ কিছু বাথরুম করেছে।
অভিযোগ উঠেছে যারা লিজ নিয়েছে তারা বিএনপি, জামাত শিবির, কন্যাল পাটি ও ন্যাপ করেন জানেন কিনা প্রশ্নে তিনি বলেন, না এটা আমার জানা নেই। কারন আমি মুক্তিযোদ্ধা মরহুম সাহাদাৎ এর ছেলে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক ও তার বড় ভাইকে দিয়েছি।
এ জন্য দরপত্র আহবানের নিয়ম রয়েছে সেটি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না করা হয়নি। ম্যানুয়াল অনুযায়ী মুক্তিযোদ্ধা বা তাদের কোন সন্তান ভাড়া চাইলে তারা অগ্রাধিক পাবেন। সেটাই করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে উদ্ধোধন অনুষ্ঠানে তিনি সহ উপস্থিত ছিলেন জেলার সাবেক কমান্ডার ফজলুল হক ও উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহেদ বাহাদুর।
এ ব্যাপারে আসাদুজ্জামান স্টালিন ও তার বড় ভাই সেলিমের সঙ্গে কথা বলার চেস্টা করা হলে তাদের পাওয়া যায়নি এমন কি মোবাইলও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকে জানান ওই অনুষ্ঠানে উপজেলা কল্যান পার্টির সভাপতি ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের আহবায়ক আসাদুজ্জামান স্টালিন নিজেকে ওই ক্লিনিকের নির্বাহী পরিচালক দাবি করে বলেন, এটি ব্যাক্তি মালিকানাধীন বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হলেও এর মূল লক্ষ সেবা প্রদান। মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবার অঙ্গীকার নিয়ে নীলফামারীর জলঢাকায় আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করলো “আমাদের হাসপাতাল”।
জেলা গণপূর্ত বিভাগ সুত্র মতে, অনুমোদিত নকশা অনুযায়ী কাজ শেষ করে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে ২০১৭ সালে ভবনটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে নকশা পরিবর্তন করা হলে তারা করেছে। #

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 1315021507746864329

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item