শেখ কামাল স্টেডিয়ামে শেখ কামালের ম্যুরাল উদ্বোধন করলেন নুর

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ১৪ সেপ্টেম্বর॥ 
জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাই প্রয়াত শেখ কামালের ম্যুরাল উদ্ধোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার বিকালে  নীলফামারীর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের পূর্ব গ্যালারীর মধ্য মাথায়  এই ম্যুরালের  আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্ধোধন করেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী নীলফামারী সদর আসানের একাধারে ৫ বারের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জামান নুর। ম্যুরাল উদ্ধোধনের পর সেখানে পুস্পমাল্য অর্পণ করা হয়।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) আজাহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম আতিকুর ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মমতাজুল হক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন সহ প্রমুখ। এ সময় নুর বলেন, শেখ কামাল ছিলেন এককালের আধুনিক ক্রীড়া অঙ্গনের রূপকার। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাইয়ের সেই ক্রীড়াঅঙ্গনের আধুনিক স্বপ্ন বাস্তবায়নে নিরলশ ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সে কারনে আজ বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গন সফলতার মুখ দেখছে। প্রতিটি ক্রীড়ায় বাংলাদেশের দেশ বিদেশে অংশ নিয়ে সুনাম অর্জন করছে। প্রধান মন্ত্রী আমাদের নীলফামারীতে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম তৈরী করে দিয়েছেন। যে স্টেডিয়ামকে আমরা শেখ কামালের নামে উৎসর্গ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ নীলফামারীর শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে শেখ কামালের  ম্যুরাল স্থাপন করা হলো ।
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক আরিফ হোসেন মুন জানান শেখ কামালের ম্যুরাল নির্মানের সম্পূন্ন ব্যয়ভার বহন করেন আসাদুজ্জামান নুর এমপি। 
উল্লেখ যে নীলফামারী শহরের সরকারী কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ১৯৮৪ সালে নির্মিত হয় স্টেডিয়াম।  বাংলাদেশের অন্যান্য সকল ক্রীড়া ভেন্যুর মতই এই স্টেডিয়ামটি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অধিভুক্ত ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার তত্বাবধায়নে রয়েছে। ২০১৭ সালের ১২ নবেম্বর জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ কর্তক এই স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তন করে 'নীলফামারী জেলা স্টেডিয়াম' হতে 'শেখ কামাল স্টেডিয়াম' করা হয়।সংস্কারের আগে ও পরে নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়ামটি ২০১৪ সালের অক্টোবর মাসে চৌদ্দ কোটি উনআশি হাজার টাকা ব্যয়ে সংস্কার শুরু হয়ে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে সমাপ্ত হয়।  এই সংস্কার কার্যে ৭৫০ ফিট গ্যালারী বর্ধিত করণ, নতুন ভিআইপি স্ট্যান্ড তৈরী, মাঠ সমতল করণ ও নতুন ঘাস রোপন করা হয় এবং স্টেডিয়ামের ধারণ ক্ষমতা ২০,০০০-এ উন্নীত করা হয়।স্টেডিয়ামটি সংস্কারের সময় এগারো ধাপ বিশিষ্ট গ্যালারি তৈরী হয়। তবে ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট  অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ২১ হাজার ৩৫৯টি টিকেট বিক্রি হয়। যা এখন পর্যন্ত এই স্টেডিয়ামের সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতার রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত। এ ছাড়া এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন(এএফসি)-এর অনুদানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন(বাফুফে) স্টেডিয়ামের উত্তরাংশে একটি (৪০ মিটার লম্বা ও ২০ মিটার চওড়া) কৃত্রিম ঘাসের মাঠ(মিনি আর্টিফিসিয়াল টার্ফ) স্থাপন করেছে। বাংলাদেশে স্থাপন করা তৃতীয় এই আর্টিফিসিয়াল টার্ফ। প্যাভিলিয়নের তিন তালায় ৪৮ জন ক্রীড়াবিদের আবাসন ব্যবস্থা ও সাংবাদিকদের জন্য একটি প্রেসবক্স রয়েছে।
নীলফামারী শেখ কামাল স্টেডিয়ামটি ২০১৮ সালের ২৯ আগস্ট  আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম হিসাবে আখ্যায়িত হয় প্রথম ফিফা আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ-শ্রীলংকা প্রীতি ফুটবল ম্যাচের মধ্যে দিয়ে। এ ছাড়াও ২০১৮ সালের ২১ সেপ্টেম্বর এখানেবসুন্ধরা কিংস ও মালদ্বীপেরনিউ রেডিয়েন্ট ক্লাবের মধ্যে প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়া ২০১৮ সালের ৩০ এপ্রিল এই ভেন্যুতে বাংলদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে 'জেএফএ অনূর্ধ্ব-১৪ মহিলা জাতীয় ফুটবল চ্যা¤িপয়নশিপ-২০১৮-এর নীলফামারী জোনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়।অপর দিকে এই স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ(ফুটবল) ভেন্যু। ২০১৯ সালের ২৩ জানুয়ারী হতে এখানে নিয়মিত বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ খেলা অনুষ্ঠিত হয়। । এই ভেন্যুটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের জনপ্রিয় ভেন্যু এবং দল বসুন্ধরা কিংস এর হোমগ্রাউন্ড। স্টেডিয়ামটি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবল প্রতিযোগীতার চতুর্দশ ভেন্যু।এ বাদেও এই স্টেডিয়ামে ক্লাব প্রীতি ম্যাচে ভারতের মালদা সোনালী অতীত ক্লাবও নীলফামারী সোনালী অতীত ক্লাব অংশ নেয়।#

পুরোনো সংবাদ

খেলাধুলা 7232703499299085474

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item