প্রতীক্ষার অবসান, ৫৬ বছর পর খুললো বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের উত্তর দুয়ার


এ.আই.পলাশ.চিলাহাটি প্রতিনিধিঃ

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী বাদে প্রতীক্ষার অবসান। আন্তর্জাতিক সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ ভূ-খণ্ডে প্রবেশ করল ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রেন। রবিবার হলদিবাড়ির  খালপাড়া সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের চিলাহাটিতে পৈাছে ট্রেনটি।

বিকাল ৫টা ৩০ মিনিটে ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের একটি রেলইঞ্জিন ৩৯টি পাথরের ওয়াগান ও একটি গার্ড ব্রেক নিয়ে চিলাহাটি রেলস্টেশনে পৌছায়। এ সময় ভারতীয় রেলইঞ্জিনে আসা ব্যক্তি নির্মল গোরামি, নরদ পোদ্দার, মুকেশ কুমার সিং ও মনজিৎ পাল চৌধুরীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানায়, বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম, বিভাগীয় প্রকৌশলী ক্যারেজ এন্ড ওয়াগান মমতাজুল ইসলাম, বিভাগীয় লুকো মোটিভ প্রকৌশলী আশিশ কুমার, বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় বানিজ্যিক কর্মকর্তা নাসিরুদ্দিন, আনোয়ার হোসেন, ডোমার থানার অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজার রহমান, ওসি তদন্ত সোহেল রানা, চিলাহাটি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ নুরুল ইসলাম, চিলাহাটি বিজিবির কোম্পানী কমান্ডার খোদাবকস, চিলাহাটি স্টেশন মাস্টার আশরাফুল ইসলাম সহ রেলবিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ। 

তার আগে সকালের দিকে ট্রেনটি হলদিবাড়ি স্টেশনে পৌঁছোনোর পর কাষ্টমস ও বিএসএফের তরফে প্রয়োজনীয় নথি যাচাইয়ের পাশাপাশি যাবতীয় নিয়ম-কানুন সম্পন্ন হওয়ার পর বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ বাংলাদেশের পথে রওনা দেয় ট্রেনটি। 

সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশের চিলাহাটি স্টেশনে ট্রেন পৌঁছোনোর পর সেখান থেকে ফিরে যায় ভারতীয় ইঞ্জিন।

উল্লেখ্য যে, ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া ভারত-বাংলাদেশের রেলপথ দিয়ে নীলফামারী জেলার চিলাহাটি রেলস্টেশন হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন পর্যন্ত পাসপোর্টের মাধ্যমে যাওয়া-আসা করতো বাংলাদেশ ও ভারতের মানুষ। পরবর্তীতে আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে চিলাহাটি থেকে প্রায় সাত কিলোমিটারেরও বেশি রেললাইন তুলে ফেলে বাংলাদেশ রেলওয়ে। সাময়িক কিছুদিন বন্ধের পর শুরু হয় দুই দেশের ভ্রমনকারীদের পাসপোর্টের মাধ্যমে পায়ে হেঁটে চলার পথ। এবং সেটাও বন্ধ হয়ে যায় ২০০২ সালের ২৮শে জুন। দীর্ঘদিন বন্ধ হয়ে পরে থাকা ভারতের হলদিবাড়ি-বাংলাদেশের চিলাহাটি রেলপথ পুনরায় নতুন করে রেললাইন বসানোর কাজ শুরু করে বর্তমান সরকার। বিশেষ করে ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশের সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে চিলাহাটি রেলস্টেশন পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত রেললাইন বসানোর কাজটি অতিদ্রæত সম্পন্ন করা হয়। এলাকার হাজার হাজার মানুষ দীর্ঘ ৫৬ বছর পর পুনরায় ভারতীয় যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন যাতায়াত করবে এই আনন্দেই দিশেহারা। অবশেষে গত বছরের ১৭ই ডিসেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রেলপথটির শুভ উদ্বোধন করে বাংলাদেশের একটি রেলওয়ের ইঞ্জিন ভারতীয় মালবাহী ৩০টি খালি ওয়াগান ও ২টি গার্ড বগি নিয়ে ভারতের হলদিবাড়ি রেলস্টেশনে পৌছে দিয়ে বাংলাদেশের রেলওয়ের ইঞ্জিনটি চলে আসে। দীর্ঘ ৭ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর বাংলাদেশ রেলওয়ে বিভাগীয় প্রকৌশলী-২ আব্দুর রহিম সাংবাদিকদের বলেন, এই রেলপথ দিয়ে প্রথম পর্যায়ে পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করবে। পরবর্তিতে করোনা পরিস্থিতি ভাল হলেই যাত্রীবাহী ট্রেনও চলাচল করবে।

অপরদিকে, ভারতের ডামডিম রেলস্টেশন থেকে পাথর আমদানী করে বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার খাঁন এন্ড সন্স এজেন্সি। প্রথম পর্যায়ে এই রেলপথ দিয়ে ৩৯টি ওয়াগানে পাথর আসা ওয়াগানগুলো কাস্টমস্ কর্তৃপক্ষ কাগজপত্র যাচাইয়ের জন্য রেলস্টেশনেই ওয়াগানগুলো রেখে আমদানিকারক ব্যক্তিকে নীলফামারী অফিসে কাগজপত্র নিয়ে যোগাযোগ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 


পুরোনো সংবাদ

প্রধান খবর 988718757695357514

অনুসরণ করুন

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item