সৈয়দপুরে পুলিশ কর্মকর্তাকে মারপিট করার অভিযোগে ব্যবসায়ীর সহোদর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলা ॥ গ্রেপ্তার


তোফাজ্জল হোসেন লুতু, সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:

 নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারি আদেশ অমান্য ও সরকারি কাজে বাঁধা এবং এক পুলিশ পরিদর্শককে (তদন্ত) মারপিট করে জখম করতঃ প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শণের ঘটনায় শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর দুই ছেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৪ জুলাই) রাতে সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম বাদী হয়ে থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলার আসামীরা হচ্ছে, সৈয়দপুর শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের ছেলে ব্যবসায়ী আতিফ হোসেন (২৮) ও আতিক হোসেন (২৬)। তারা বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

 মামলার আর্জি সূত্রে জানা গেছে, সরকার ঘোষিত কঠোর লকডাউনের প্রথম দিন গত শুক্রবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. রমিজ আলমের  উপস্থিতিতে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)  মো. আতাউর রহমান তার সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে সৈয়দপুর বিমানবন্দর সড়কের ক্যান্টনমেন্ট বাজার মোড়ে  ভ্রাম্যমান আদালতের ও তল্লাশির দায়িত্ব পালন করছিলেন। আর এ সময় সৈয়দপুর শহরের  নতুন বাবুপাড়ার বাসিন্দা ও শহীদ ডা. জিকরুল হক সড়কের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের দুই ছেলে ব্যবসায়ী আতিফ হোসেন (২৮) ও আতিক হোসেন (২৬) তাদের ব্যবহৃত সিলভার রঙের একটি প্রাইভেট কার নিয়ে বেপরোয়া গতিতে শহরের উল্লিখিত স্থানে পৌঁচ্ছেন। এ সময় পুলিশ সদস্যরা সিগন্যাল দিয়ে তাদের প্রাইভেট কারটি তল্লাশির উদ্দেশ্যে গতিরোধ করেন। এ সময় কঠোর লকডাউনের মধ্যে সরকারি বিধি-নিষেধ অমান্য করে গাড়ি বের করার অভিযোগে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. রমিজ আলম ব্যবসায়ী আতিফ হোসেনের এক হাজার টাকা জরিমানা করেন। আর এতে ব্যবসায়ী আতিফ হোসেন ক্ষিপ্ত হয়ে ভ্রাম্যমান আদালতের জরিমানা অর্থ পরিশোধ না করে সেখান থেকে গাড়ি নিয়ে দ্রুতগতিতে সটকে পড়ার অপচেষ্টা চালান। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে তারই সরকারি গাড়ি নিয়ে সৈয়দপুর থানার পুরিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর  রহমানের নেতৃত্বে ধাওয়া করে পুলিশ সদস্যরা ব্যবসায়ী আতিফ হোসেনের প্রাইভেট কারটিকে শহরে বঙ্গবন্ধু সড়কের বিসিক শিল্প নগরী সংলগ্ন পঁচানালা ব্রীজের ওপর গতিরোধ করতে সক্ষম হয়। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে এসে ব্যবসায়ী আতিফ হোসেন উত্তেজিত হয়ে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আতাউর রহমানের পরিহিত সরকারি পোষাক টেনে ছিঁড়ে দেয় এবং তাকে কিল ঘুষি মেরে জখমপ্রাপ্তও করেন। এ সময় পুলিশ পরিদর্শক আতাউর রহমানের সঙ্গীয় অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা তাকে রক্ষা করতে গেলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এতে দুই ব্যবসায়ীও যৎসামান্য আহত হন। পরে তাদের সেখান থেকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নির্দেশে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানে পুলিশ প্রহরায় চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সরকারি আদেশ অমান্য, সরকারি কাজে বাঁধা দান, কর্তব্যরতপুলিশ কর্মকর্তাকে মারপিট করে জখম করতঃ প্রাণনাশের হুমকি প্রদর্শণের অভিযোগে ব্যবসায়ী আতিফ হোসেন  ও আতিক হোসেনকে আসামী করে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। গতকাল ২৪ জুলাই সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. রেজাউল করিম বাদী হয়ে থানায় ওই মামলাটি দায়ের করেন। মামলা নম্বর: ২৫। 

 সৈয়দপুর থানার অফিসার  ইনচার্জ (ওসি) মো. আবুল হাসনাত খান শহরের বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর  আলতাফ হোসেনের দুই ছেলের  বিরুদ্ধে থানায় মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আসামীরা  বর্তমানে পুলিশ প্রহরায় স্থানীয় ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে, একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ ঘটনাটি নিয়ে গতকাল শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত আওয়ামী লীগর ও এর সহযোগী অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় হাতেগোনা কয়েকজন নেতা সৈয়দপুর উপজেলা ও  জেলা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে অনেক দেন-দরবার ও তদবির করেন। কিন্তু উপজেলা ও  জেলা পুলিশ প্রশাসন ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় নেতাদের কোন কথায় কর্ণপাত করেননি। বরঞ্চ তারা আইনের যথাযথ প্রয়োগের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। ফলে দীর্ঘ সময় প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেন দরবার ও তদবিরের পরও নীলফামারীর সৈয়দপুরে বর্ণাঢ্য ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেনের দুই ছেলের শেষ রক্ষা হয়নি। আর  শহরের এমন একজন ব্যবসায়ী দুই ছেলে বিরুদ্ধে থানায় মামলার বিষয়টি “টক অফ দ্যা টাউনে” পরিণত হয়েছে। গতকাল শনিবার গোটা শহরে সব শ্রেণী পেশার মানুষ এ ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা করেন। সেই সঙ্গে ঘটনার পর থেকে এ ঘটনাটি নিয়ে বর্তমান সময়ের সবচেয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও তোলপাড় চলছে। এ ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় (ফেসবুক) নানা রকম মন্তব্যের ঝড় বইছে।


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 1973434303216441575

অনুসরণ করুন

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item