তারুণ্যের চোখে ভোগডাবুরী ইউনিয়নের বাজেট


নিজস্ব প্রতিনিধিঃ
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার ভোগডাবুরী, কেতকীবাড়ী, গোমনাতী এবং বামুনিয়া এই ৪টি ইউনিয়নের ৪’শতাধিক যুব সংগঠিত হয়ে যুব জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, স্থানীয় সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ও সেবার মান উন্নত করার লক্ষ্যে ১৫ টি যুব সংগঠনের মাধ্যমে কাজ করে আসছে। উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা (ইউএসএস), একশনএইড বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় যুব সংগঠনগুলো রিফ্লেকশন একশন দলের অংশগ্রহনমূলক পদ্ধতিতে দারিদ্রের কারন অনুসন্ধান, সমাজ কাঠামো ও প্রতিষ্ঠান বিশ্লেষনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থা ও অবস্থান সম্পর্কে সচেতন হয়ে নিজেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে অংশগ্রহনমূলক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়ন করার জন্য বহুমুখী কাজ করে যাচ্ছে। যুব সংগঠনেরে সদস্যগণ সমাজে বিদ্যমান নানা সমস্যা ও অধিকারহীনতার কারন মানবাধিকারের ভিত্তিতে রিফ্লেকশন একশন প্রক্রিয়ায় বিশ্লেষন করে থাকে। বিশ্লেষনে প্রাপ্য তথ্য ও দেশের প্রচলিত আইন ও নীতিমালা পর্যালোচনা করে যুব সদস্যগণ জনকল্যাণে বিদ্যমান আইনের সংস্কার ও নতুন আইন প্রনয়নের লক্ষ্যে বিকল্প প্রস্তাবনা তৈরী করে জনমত নিয়ে নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করার লক্ষ্যে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে থাকে। ১৮৭০ সালে ৫ সদস্য বিশিষ্ট পঞ্চায়েত দিয়ে চৌকিদারি পঞ্চায়েত আইনদ্বারা স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) যাত্রা শুরু হয়। কালের বিবর্তনে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অধ্যাদেশ জারি করার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে আসছে। স্বাধীনতার পরবর্তি সময়ে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) ১৯৮৩ এর ৫১ ধারামতে ইউনিয়ন পরিষদ তহবিলের সংগতি অনুযায়ী দায়িত্ব সম্পাদনের লক্ষ্যে স্বীয় অধিক্ষেত্রে পাঁচশালা বার্ষিক ও বিভিন্ন মেয়াদে পরিকল্পনা প্রনয়ণ ও বাস্তবায়ন করবে। এই অধ্যাদেশ অনুযায়ী কতিপয় ইউনিয়ন পরিষদ উক্ত কাজটি করলেও অধিকাংশ ইউনিয়ন পরিষদ এই কাজটিকে গুরুত্ব দেয়নি। পরবর্তিতে স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ প্রনয়ণ করা হয় এবং এই আইনের ৪৭ ধারার উপধারা (১) ও (২) অনুযায়ী পঞ্চবার্ষিকী উন্নয়ন পরিকল্পনা করার নির্দেশনা রয়েছে এবং এই পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার জন্য প্রতিবছর একটি বাজেট পরিকল্পনা গ্রহন করে বাস্তবায়ন করতে হবে। স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৫৭ ধারায় বাজেট তৈরী করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং অংশগ্রহনমূলক বাজেট তৈরী এবং তা বাস্তবায়ন করার  সুষ্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার বাস্তবায়নে বাংলাদেশ বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহন ও বাস্তবায়নে নিরলস কাজ করে আসছে। এই টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্যতম মূলমন্ত্র হলো, অর্থ্যাৎ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাউকে পেছনে রেখে কাঙ্খিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই, যুব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠিকে ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন। 

জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট বিষয়ে যুব সদস্যদের যে ধারনা, জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট হলো একটি কৌশল যার মাধ্যমে নারী পুরুষ ও লিঙ্গভিত্তিক অন্যান্য গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য চিহ্নিতকরণ এবং সমতা প্রতিষ্ঠা করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের বাজেট পরিকল্পনায় এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী পুরুষ ও লিঙ্গভিত্তিক অন্যান্য গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য দুর করার মাধ্যমে সমতা প্রতিষ্ঠা করা। জেন্ডার বাজেট সবসময় নারী পুরুষ ও লিঙ্গভিত্তিক অন্যান্য গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্যের কথা বলে ও তা দুর করার জন্য নীতিমালায় সুস্পষ্ট দিক নির্দেশনা থাকে। বাজেট প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে সেই জনসেবা নিশ্চিত করা হয় যা জেন্ডার সমতা নিশ্চিত করা হয়। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট হলো পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অর্থায়নের একটি ধারাবাহিক আবর্তিত প্রক্রিয়া। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটের সাথে অংশগ্রহন বিষয়টা ওতোপ্রতোভাবে যুক্ত। অর্থাৎ বাজেট আলোচনা, প্রনয়ণ ও মনিটরিং প্রক্রিয়ায় সকল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহন। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেটে বিভিন্ন লিঙ্গভিত্তিক জনগোষ্ঠীর চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়ে বরাদ্দ নিশ্চিত করা হয়। তাই বাজেটের সকল আর্থিক তথ্য বিভিন্ন লিঙ্গভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক পৃথক করে উল্লেখ করা উচিত। জেন্ডার সংবেদনশীল বাজেট বলতে সবক্ষেত্রে শুধু বরাদ্দ বাড়ানোয় নয় বরং যেসব খাত, কর্মসূচি বা দপ্তরের কাজের ফলে জেন্ডার সমতা নিশ্চিত হয় শুধু সে সকল ক্ষেত্রে বাজেট বাড়ানো বরাদ্দ। জেন্ডার সংবেদনশীল তৈরী ও বাস্তবায়ন হলে জনগন অনেক সুবিধা পাবে। যেমন, সরকার বরাদ্দ সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য হ্রাস করতে ইউনিয়ন পরিষদ অবদান রাখতে পারবে, বাজেটের সকল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাজেট সংশ্লিষ্টদের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে, বাজেট ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধি ও দায়িত্বশীলতার কারনে সরকার অধিক পরিমানে বরাদ্দ দিতে পারবে এবং সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে, বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারী সম্পদ বন্টনের ক্ষেত্রে সমতার নীতি প্রতিফলন হবে। যুব ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে ইউনিয়নের উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সাথে সম্পৃক্ত করার উদ্দেশ্যে ১নং ভোগডাবুরী ইউনিয়ন পরিষদের ২০২১-২২ অর্থ-বছরের বাজেটে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডে ২৭টি এফজিডি (ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশন) এর মাধ্যমে চাহিদা সমূহ গ্রহন করা হয়। শিক্ষা বিষয়ক ক্ষেত্রে ওয়ার্ড ভিত্তিক শিক্ষা কমিটির সক্রিয়করণ ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখা, সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত ও আলাদা আলাদা টয়লেট তৈরী করা, করোনাকালীন এই দূর্যোগে তৃণমূল ও প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের জন্য অনলাইন শিক্ষা গ্রহনের সুবিধা নিশ্চিত করা, দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষাথূীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ হতে শিক্ষা উপকরণ ও শিক্ষাবৃত্তি চালু করা। স্বাস্থ্য বিষয়ক ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নারীদের জন্য আলাদা বসার ব্যবস্থা ও ব্রেষ্ট ফিডিং কর্ণারের ব্যবস্থা করা, দরিদ্র কিশোরীদের জন্য বিনামূল্যে স্যানিটারি প্যাড সরবারহ করা, ইউনিয়ন পরিষদ ভিত্তিক জরুরী রোগী সরবারহের জন্য এ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা, সকল কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে নিরাপদ পানি সরবারহ ও নারী পুরুষদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট নিশ্চিত করা, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোকে ইউনিয়ন পরিষদের তত্ত্বাবধান জোরদার করা। কৃষি বিষয়ক ক্ষেত্রে কৃষকদের আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি বিষয়ক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা ও কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ রাখা, কৃষি পন্য উৎপাদনে জৈব্য প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহিত করা ও নিয়মিত প্রচার চালানো, নারী কৃষক সহ প্রকৃত কৃষকদের এটি তালিকা তৈরী করা ও তাদের কৃষি কার্ড বিতরণ করা, দূর্যোগকালীন সময়ে কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা, প্রানী প্রজনন ব্যবস্থা ইউনিয়ন পরিষদে চালু করা, ভাল উন্নতমানের বীজ ও সার সংরক্ষনের ব্যবস্থা করা ও কৃষকদের মাঝে সরবারহ করা। যুব বিষয়ক ক্ষেত্রে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা তৈরী করা ও প্রশিক্ষনের ব্যবস্থা করা, ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য সেবা কেন্দ্রের মান উন্নত করা ও পিছিয়ে পড়া যুবকদের জন্য আইসিটি সেন্টার চালু করা, যুবকদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য বিকাশের জন্য ক্রিয়া ও বিনোদনমূলক উদ্যোগ গুহন করা, যুবকদের নৈতিক অবক্ষয় রোগে গ্রামীণ লোকজ সংস্কৃতির আয়োজন করা। নারী ও শিশু বিষয়ক ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ রোধে ইউনিয়ন পরিষদে আরো কছোর আইন নিশ্চিত করা ও নিয়মিত প্রচারের জন্য বরাদ্দ রাখা, ওয়ার্ড ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটি সক্রিয়করণ ও নিয়মিত মিটিং বাবদ বরাদ্দ রাখা। পরিবেশ বিষয়ক দাবিসমূহ, পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন ব্যবহার বন্ধ করা ও এলাকাভিত্তিক এবং বাজারে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করা, বজ্রপাত ঝুকি হ্রাসের জন্য তালগাছ রোপন করা। সুবিধাবঞ্চিত ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণী পেশার ব্যক্তিদের জন্য বরাদ্দ বিষয়ক, প্রতিবন্ধি শ্রেণীর মানুষদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা, বাজারহাট পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের বিশেষ বরাদ্দ রাখা, হিজরাদের তালিকা তৈরী ও কাজের সম্পৃক্ত করার জন্য বরাদ্দ রাখা, দলিত সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা চালু করা। সাধারণ চাহিদার মধ্যে রয়েছে, শাহার মোড় থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে ৩টি কাচা রাস্তা সংস্কারের প্রয়োজন, ভিজিডি, ভিজিএফ, মাতৃত্বকালীন ভাতা, বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা সহ সকল ভাতার হার বৃদ্ধি ও সঠিকভাবে বন্টন করা, শিমুলতুলী থেকে পূর্ব দিকে শাহাপাড়া পর্যন্ত কাচা রাস্তা পাকা করা, মাদক চোরাচালান রোধে তদারকি বৃদ্ধি, দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা খাতে পৃথক তহবিল গঠন ও বরাদ্দ রাখা, নিয়মিত ওয়ার্ডসভা, উন্মুক্ত বাজেট আয়োজন ও প্রচারণায় বরাদ্দ রাখা, বউ বাজার থেকে প্রামানিকপাড়া সরকারী প্রাথমিক স্কুল পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার করা, স্ট্যান্ডিং কমিটির নিয়মিত মিটিং করা এর জন্য নিজস্ব অর্থায়নে বাজেট বরাদ্দ করতে হবে। উক্ত বিষয়গুলির উপর মতামত প্রকাশ করে বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের কমিটিরগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় নিয়ে আসতে হবে, প্রকল্প তৈরী ও বাস্তবায়নে জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহন প্রয়োজন, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে যুবকদের সম্পৃক্তকরণ ও দূর্যোগ মোকাবেলা এবং ব্যবস্থাপনায় স্বেচ্ছাসেবক দল তৈরী করা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগির তালিকা ওয়ার্ডভিত্তিক জন অংশগ্রহনের মাধ্যমে প্রস্তুতকরণ।

মঙ্গলবার(২৫শে মে ২০২১ইং) দুপুর ২ টার দিকে ভার্চুয়ালী ভোগডাবুরী ইউনিয়নের উন্মুক্ত বাজেট ঘোষনা করা হয়। ২০২১-২২ অর্থবছরের রাজস্ব বাজেট ৩৬,৮২,০০০ এবং উন্নয়ন বাজেট ৩,২৫,০০,০০০ টাকা । সেখানেই যুব সংগঠনের সদস্যবৃন্দ উপরোক্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরে। 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 967733560420403207

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item