দেশসেরা উদ্ভাবক হাকিমপুর শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান


মেহেদী হাসান ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানকে দেশসেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত করা হয়েছে। 

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ সারাদেশের তিনজন শিক্ষা অফিসার এবং দুইজন সহকারী শিক্ষককে বিভিন্ন উদ্ভাবনী কাজে অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ হিসেবে নির্বাচিত করা হয। এর মধ্যে হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ নির্বাচিত হয়েছেন। করোনা প্রাদুর্ভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের মধ্যেও শিক্ষার্থীদের মাঝে বিকল্প উপায়ে শিক্ষা পৌঁছে দেওয়া এবং শিশু নিপিড়ন প্রতিরোধে “কন্যা শিশু সুরক্ষা সেল” উদ্ভাবন করেছেন তিনি। যা সারা দেশে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।



সম্প্রতি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ও সচিবের উপস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ সারাদেশ থেকে নেওয়া ইনোভেশন শোকেসিং যাচাই-বাছাই করে তাদের নির্বাচিত করা হয়। 

সরেজমিনে কয়েকটি বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয় গুলোতে প্রবেশ করতেই চোখে পড়ে চোখ জুড়ানো বিভিন্ন রঙ্গের আচড়ে পুরো বিদ্যালয় ভবন জলজল করছে। সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতেই দেখা মেলে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল, দেশ স্বাধীন পর্যন্ত বাংলার রং তুলিরর আচরে ছবির মধ্য দিয়ে ফুটেয়ে তুলেছেন ইতিহাস ঐতিহের চিত্র। ইতিহাস সংবলিত বিভিন্ন ছবি দ্বারা শ্রেণিকক্ষ সুসজ্জিতকরণ করে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষ আলাদা আলাদা গ্যালারী করা হয়েছে।


 

মুক্তিযুদ্ধ গ্যালালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণ, সততা স্টোর, নৈতিকতা গ্যালারি,সৌরজগৎ পরিচিতি গ্যালারী, শিশু শ্রেণিতে বসানো হয়েছে উন্নতমানের টাইলস, পতাকা বেদিতে টাইলস, বিদ্যালয়ের এক পাশে শহীদ মিনার নির্মাণ, শিশু পার্ক নির্মাণ,শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন খেলার সামগ্রী রয়েছে,স্কুলের বারান্দায় চোখে পড়বে নানা জাতের ক্যাকটাস।


বিদ্যালয়ের ছাদে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ফুল এবং ফলের গাছ। যা দেখে চোখ জুড়িয়ে যাবে। এসব দেখে শিক্ষার্থীরাও অনেক কিছু শিখতে এবং জানতে পারবেন। শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসানের দিক দিকনির্দেশনায় এই কাজে সফল হতে তাকে সহোযোগিতা করেছেন এ উপজেলার শিক্ষক/মিক্ষিকাগণ। যা দেখে পার্শবর্তী উপজেলাগুলোর শিক্ষকরাও বেশ অনুপ্রানিত হয়েছেন।

হাকিমপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের জুন মাসে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে মাসুদুল হাসান দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় যোগদান করেন। এরপর থেকেই তাঁর তত্ত্বাবধানে উপজেলার প্রতিটি বিদ্যালয়ের চেহারা পাল্টে যেতে শুরু করে। তিনি এই উপজেলার প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুসজ্জিতকরণ করেছেন। করোনাকালীন শিশুদের ক্লাস পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ, বিজ্ঞান উপকরণ সরবরাহ,বিদ্যালয় গুলোতে সিসি ক্যামেরা চালু, করোনাকালীন শিশুদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার এবং সেই ভিডিও ক্লাসগুলো ডাউনলোড করে পেনড্রাইভে করে শিশুদের বিতরণ করার ব্যবস্থা করাসহ শিক্ষাবান্ধব সরকারের প্রতিটি শিক্ষাভিত্তিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। শিশু নিপিড়ন প্রতিরোধে ২০২০ সালে কন্যাশিশু সুরক্ষা সেল নামের একটা ইনোভেশন নিয়ে কাজ করেন এবং কন্য শিশুদের সুরক্ষার জন্য নিজ উদ্যোগে শিশু সুরক্ষা নামে একটি এ্যপস তৈরী করেন এবং সেই এ্যাপসটি শিশুদের অভিভাবকদের স্মার্ট ফোনে দিয়েছেন যার স্বিকৃতি স্বরুপ এর আগেও তিনি দেশসেরা হয়েছেন । 


জানতে চাইলে হাকিমপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান বলেন, করোনারকালে সারা বিশ^্য যখন স্থবির তখন প্রাথমিকের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে উদ্ভাবনী আইডিয়া আহ্বান করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তখন থেকেই এই উপজেলার শিক্ষার্থীদের জন্য করোনাকালে বিকল্প শিক্ষা পদ্ধতি নিয়ে ভাবতে থাকি। সেই ভাবনা থেকেই শিক্ষকবৃন্দের পাঠদানের অডিও ও ভিডিও রেকোডিং প্রান্তিক শিক্ষার্থীদের মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে পৌছে দেয়া হয়েছে। 

করোনাকালীন পাঠদান কার্যক্রম চালু রাখা শীর্ষক ইনোভেশন আইডিয়া নিয়ে কাজ করেছি, যা পরবর্তীতে পাইলটিং-এর জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্তৃক অনুমোদিত হয়। সম্প্রতি এর জন্য প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ইনোভেশন শোকেসিং-এ দেশসেরা উদ্ভাবক ২০২১ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছি। 

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মাদ নূর-এ আলম জানান, করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তার এ অনন্য অবদানের জন্য উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই।করোনা মহামারির এই সময়ে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তিনি অনলাইনে ক্লাস নেওয়া এবং সেই ক্লাসগুলো ডাউনলোড করে শিশুদের পেনড্রাইভে বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। তার এই শোকেসিং পদ্ধতি যদি জাতীয়ভাবে প্রয়োগের ব্যবস্থা করা হয় তাহলে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে বলেও জানান তিনি। 


দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী জানান, শিক্ষা অফিসার মাসুদুল হাসান দিনাজপুর জেলাসহ রংপুর বিভাগের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। তিনি আগের স্টেশনগুলোতেও অনেক ভালো কাজের দৃষ্টান্ত রেখেছেন এবং অনেক ইনোভেটিভ কাজ করেছেন। ভবিষ্যৎতে আরো ভালো কিছু করুক এমটাই আশা রাখেন তিনি।


পুরোনো সংবাদ

শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন 3808208579538509073

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item