সৈয়দপুরে দুইটি নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানা। মালিকের ৭৫ হাজার টাকা অর্থদন্ড, কারখানা সীলগালা


তোফাজ্জল হোসেন লুতু,সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
 নীলফামারীর সৈয়দপুরে দুইটি নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানা আবিস্কার করা হয়েছে। গতকাল রোববার (২ মে) বিএসটিআইয়ের এক ভেজাল বিরোধী অভিযানে শহরের উত্তর নিয়ামতপুর (দেওয়ানীপাড়া) এবং পার্বতীপুর রোড় এলাকায় ওই কারখানা দুইটি সন্ধান পাওয়া গেছে। বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না দিয়ে সংস্থাটির মানচিহ্ন (লোগো) ব্যবহার ও নকল লাচ্ছা সেমাই তৈরি এবং বাজারজাতকরণের দায়ে দুই কারখানা মালিকের ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়াও উল্লিখিত লাচ্ছা সেমাই কারখানা দুইটির বিপুল পরিমাণ লাচ্ছা সেমাই জব্দ করে সে সব সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
 জানা গেছে, চলতি রমজান মাস উপলক্ষে ও আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাণিজ্যিক সৈয়দপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে অসংখ্যক মৌসুমী ও নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানা গড়ে উঠেছে। শহরের অলিগতিতে গড়ে উঠা কারখানাগুলোতে নি¤œমানের উপকরণ ব্যবহার করে অত্যন্ত নোংরা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে  নকল ও ভেজাল লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে নামীদামী ব্র্যান্ডের কোম্পানির মোড়কে সে সব বাজারজাত করা হচ্ছিল। আর বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না থাকলেও এ সব কারখানায় তৈরি লাচ্ছা সেমাইয়ের মোড়কে সংস্থাটির মানচিহ্ন (লোগো) ব্যবহার করা হয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে গতকাল রোববার দুপুরে বিএসটিআই রংপুর বিভাগীয় কার্যালয় পক্ষ থেকে সৈয়দপুর শহরে ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে প্রথমে শহরের উপকন্ঠে উত্তর নিয়ামতপুর দেওয়ানিপাড়ায় তাজ লাচ্ছা সেমাই নামে একটি নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানা সন্ধান মিলে। ওই কারখানায় তৈরি লাচ্ছা সেমাই সুন্দর ও ঝকঝকে প্যাকেটে মোড়কজাত করে তাজা লাচ্ছা সেমাই নামে বাজারজাত করার ঘটনাটি হাতেনাতে ধরা পড়ে। পরে এ ঘটনায়  বিএসটিআইয়ের অনুমোদন না নিয়ে সংস্থার লোগো ব্যবহার ও নকল লাচ্ছা সেমাই তৈরির দায়ে কারখানা মালিক কাওসেন আজাদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় কারখানাটিতে তৈরি দুই টন লাচ্ছা সেমাই জব্দ করে কারখানার একটি গোডাউন সীলগালা করে দেয়া হয়েছে।
এছাড়াও একই দিন বিকেলে শহরের পার্বতীপুর রোড এলাকায় একটি বন্ধ থাকা কমিউনিটি সেন্টার অভিযান চালিয়ে আরও একটি নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানা সন্ধান মিলেছে। ওই  নকল কারখানাটিতে লাচ্ছা সেমাই তৈরি করে কুটুম  স্পেশাল লাচ্ছা সেমাই নামে প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করা হচ্ছিল। অথচ প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুতকারক হিসেবে লেখা হয় ‘দানিয়াল ফুড প্রডাক্টস, মি¯ী¿পাড়া, সৈয়দপুর,ওনীলফামারী। 
 খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুটুম লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক অনেকদিন আগেই মারা গেছেন। অথচ শহরের পার্বতীপুর রোড়ে একটি নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানায় তৈরি সেমাইয়ের মোড়কে ওই বন্ধ কারখানার নাম ও ঠিকানা এবং বিএসটিআইয়ের মানচিহ্ন ব্যবহার করে তা বাজারজাত করা হচ্ছে। এ সব ঘটনায় ওই নকল লাচ্ছা সেমাই কারখানার মালিক মো. আব্দুল খালেকের ২৫ হাজার টাকা জরিমান করা হয় ভ্রাম্যমান আদালত। সেই সঙ্গে কারখানাটি সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।  উল্লিখিত  দুইটি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন সৈয়দপুর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট মো. রমিজ আলম। এ সময় বিএসটিআইয়ের রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের ফিল্ড অফিসার মো. দেলোয়ার হোসেন ও সৈয়দপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়নসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। 

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8912344165484813942

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item