করোনা যুদ্ধে নিজ হাতে তৈরী করে ৩ সহস্রাধিক মাক্স বিতরণ করেছেন নীলফামারীর টেইলার্স আসলাম


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী॥
টেইলার্সের দোকানের সামান্য আয়। সে আয়ে ভালোভাবে সংসার চালানো দায়। এরপরও করোনা দূর্যোগ থেকে মানুষকে রক্ষায় থেমে নেই তিনি। করোনা সেকেন্ড ওয়েভ থেকে দরিদ্র মানুষরা যেনো রক্ষা পায় তাই নিজ খরচে হাতে তৈরী মাক্স বিতরণ করছেন দরিদ্র মানুষের মাঝে টেইলার্স মো. আসলাম (৫৭)। তিনি জেলা শহরের প্রগতিপাড়ার মৃত আকবর আলীর ছেলে ও জেলা শহরের মড়াল সংঘ মোড়ে ‘আঁখি টেইলার্স’ নামে মেয়েদের পোষাক তৈরীর দোকানের মালিক। ওই দোকানের সামনের সড়কে মাক্সবিহীন লোক চোখে পড়লেই নিজ হাতের তৈরী মাক্স পড়িয়ে দেন তিনি। করোনা শুরু থেকে এভাবে তিন সহস্রাধিক মাক্স বিতরণ করেছেন সামান্য আয়ের মানুষটি। 

আসলামের বাবা আকবর আলী কাজ করতেন দর্জির দোকানে। সে সুবাদে ১৪ বছর বয়স থেকে দর্জির কাজ শিখতে শুরু করেন আসলাম। এরপর কাজ করেছিলেন বিভিন্ন দোকানে। এমন কাজের সঞ্চয়ে জেলা শহরের মড়াল সংঘ মোড়ে ‘আঁখি টেইলার্স’ নামে মেয়েদের পোষাক তৈরীর দোকান দিয়ে বসেন তিনি। এখন সে দোকানে তিনিসহ কাজ করছেন তার বড় ছেলে মনোয়ার হোসেন(৩০)। নিজের বাড়ি নেই, থাকেন শহরের প্রগতি পাড়ায় একটি ভাড়া বাসায়। দোকানের সামান্য আয়ে বাড়ি ভাড়া মিটিয়ে দুই ছেলে এক মেয়েসহ পাঁচ সদস্যের সংসার চালাচ্ছেন অতি কষ্টে। সে আয়েরও ভাটা পড়েছে করোনার সংকটে। এরপরও মানুষের সেবার মানষিকতা দমেনি তার। সে মানষিকতা থেকে করোনা সংক্রমণ থেকে মানুষকে রক্ষায় নিজ হাতে তৈরী মাক্স নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করছেন তিনি। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত বিনামূল্যে তিন সহস্রাধিক মাক্স বিতরণ করার কথা জানান।

এসময় তিনি জানান, করোনার দূর্যোগ শুরু হলে মানুষ অনেকটাই রিুপায় হয়ে পড়েন। দূর্যোগ মোকাবেলায় অনেকেই সহযোগিতা হাত বাড়িয়ে দেন। নিজ অবস্থান থেকে অসহায় মানুষকে সহযোগিতার ইচ্ছা জাগে তার। এরপর শুরু করেন কম দামে বিভিন্ন দোকান থেকে ঝুট কাপড় সংগ্রহ করে কাজের ফাঁকে নিজ হাতে মাক্স তৈরী এবং বিতরণের কাজ। তিন স্তর বিশিষ্ট প্রতিটি মাক্স তৈরীতে খরচ হচ্ছে অন্তত ৪০ টাকা। এসব মাক্স প্রতিদিন সামর্থ অনুযায়ী বিতরণ করছেন দরিদ্র এবং নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে। তিনি বলেন, এক সময়ে ছাত্রলীগের আদর্শ ধারণ করে সক্রিয় ছিলাম বিভিন্ন মিছিল মিটিং আর সমাবেশে। সে সময়ে করেছিলাম মানব সেবার অনেক কাজ। সে মানষিকতা বহন করেই চলছি। আর সেটি থেকেই করোনার এ দূর্যোগে আমার সামর্থের মধ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে দরিদ্র মানুষের মাঝে মাক্স বিতরণ অব্যাহত রেখেছি। # 


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 8074523135429395127

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item