কাঁটাতার কেটে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি জুড়ছে রেল লাইন


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, চিলাহাটি থেকে॥
বাংলাদেশ-ভারত দুই বাংলার মধ্যে সরাসরি রেল যোগাযোগ স্থাপনে অবশেষে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার চিলাহাটি ও ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার হলদিবাড়ির আন্তর্জাতিক সীমান্তের নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেললাইন পাতানোর কাজ শুরু করা হয়েছে। 

এ জন্য আজ সোমবার(২১ সেপ্টেম্বর/২০২০) সকাল হতে দেখা যায়- যে দিক দিয়ে রেলপথ পাতানো হবে, সেদিকের সীমান্তের আন্তর্জাতিক কাঁটা তারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। সকালে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বিএসএফ ও বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বিজিবির সদস্যদের উপস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সীমান্তে কাঁটা তারের বেড়া কাটা সহ রেললাইন সম্প্রসারণের কাজ শুরু করে ভারতীয় রেল দপ্তর। 

এ কাজ শুরু হওয়ায় ভারতের উত্তর-পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ কর্মকর্তা সুভানন্দ চন্দা সাংবাদিকদের বলেন, নো-ম্যানস ল্যান্ডে রেলপথ পাতানো শুরু হলো। অচিরেই এই পথে দুই দেশের ট্রেন সরাসরি চলাচল শুরু করবে। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ৭৮২/২ এস আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারের কাছে ১৫ মিটার কাঁটাতারের বেড়া কেটে ফেলা হয়। এই ১৫ মিটার জায়গা দিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনে পাতা হবে রেললাইন। 

সেখানেই ভারতীয় রেল দপ্তর তৈরি করবে গেট। সাড়ে ছয় মিটার উঁচু ওই গেটের উপর দিয়ে থাকবে কাঁটাতারের বেড়া। ১৫ মিটারের মধ্যে রেললাইন পাতার জন্য বরাদ্দ থাকবে ১০ মিটার। আর ৫ মিটার জায়গা থাকবে সীমান্ত রক্ষীদের যাতায়াতের জন্য। বাংলাদেশের রেললাইনের সঙ্গে ভারতের রেলপথ যুক্ত করতে ২০০ মিটার রেললাইন পাতার কাজ করতে হবে। নো-ম্যানস ল্যান্ডের দিকে ১৫০ মিটার ও কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ৫০ মিটার রেলপথ তৈরি করলেই যুক্ত হবে ভারত-বাংলাদেশের এই রেলপথ। যা চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ৩০ তারিখের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এ কাজ। 

প্রকাশ্যে থাকছে যে, ছিটমহল বিনিময় চুক্তির পর ভারত-বাংলাদেশ এই দুই দেশের সরকার ঐতিহ্যবাহী এই রেলপথ পুনরায় চালু করতে উদ্যত হয়। তারই ফলশ্রুতিতে ভারতের হলদিবাড়িতে গড়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মানের রেল স্টেশন। পাতা হয় ৩ দশমিক ৩৪ কিমি রেল লাইন। ঠিক তেমন ভাবেই বাংলাদেশের উত্তরের নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার চিলাহাটি স্টেশনকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। পাশাপাশি চিলাহাটি থেকে ভারতের সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার নতুন রেলপথ নির্মাণ করা হয়। 

গত বছরের(২০১৯) ২১ সেপ্টেম্বর দুই দেশের রেল লাইন পাতার কাজ শুরু হয়। করোনা ভাইরাসের দফায় দফায় লকডাউনের কারনে চলতি বছরের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় পুনরায় এই কাজ শুরু হলে গত ২৮ আগস্ট চিলাহাটির জিরো পয়েন্টে ভারত-বাংলাদেশ সংযোগকারী রেল পথের নির্মাণ কাজের পরিদর্শনে আসেন রেলপথ মন্ত্রী এ্যাডঃ মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি। 

সূত্র মতে, চলতি বছরের ১৬ ডিসেম্বরেই এই রেলপথ চালু করা হবে আনুষ্ঠানিকভাবে। যদি সম্ভব না হয় তাহলে ২০২১ সালের ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দুইদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নরেন্দ্রমোদী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের বন্ধ হয়ে থাকা ওই রেলপথ যোগাযোগের আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন। যার জোড় প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেল।

উল্লেখ যে, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হলেও ভারতের সঙ্গে পূর্ব পাকিস্তানে যাতায়াতের জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন এই রেলপথটি সচল ছিল। ১৯৬৫ সালের পাক ভারত যুদ্ধের সময় থেকে এই পথটি স¤পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। সেই সময় কলকাতা থেকে ট্রেন ছেড়ে বর্তমান বাংলাদেশের চিলাহাটি হয়ে ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশন হয়ে ট্রেন পৌঁছাত শিলিগুড়ি পর্যন্ত। আবারো নতুন আঙ্গিকে এই রেলপথ চালু হতে যাচ্ছে। #


পুরোনো সংবাদ

প্রধান খবর 710988477703911830

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item