কিশোরগঞ্জে আগাম আলু চাষীদের মাথায় হাত


কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী) সংবাদদাতা:
আগাম আলুচাষী লালবাবুর মাথায় বাজ পড়েছে। টানা ৬দিনের অতিমাত্রার বৃস্টি তার রোপিত আগাম আলু ক্ষেতকে তলিয়ে দিয়েছে। অপর দিকে যারা আগাম আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেছিল তাদেরও একই অবস্থা।

আগাম আলু চাষের সুঁতিকাগার হিসেবে পরিচিত নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলা। দেশের সর্বপ্রথম আলু বাজারে আসে এই উপজেলা থেকেই। আলু চাষীরা জানালেন কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সেভেন, বারী-৪০, বারী-৪৬ ও গ্রানুলা জাতের আগাম আলু আবাদ হয়। আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহেই মঙ্গা বা অভাব তাড়ানোর আগাম আমন ধান ঘরে তুলেই আগাম আলু উৎপাদনে মাঠে নেমেছিল তারা। আগাম জাতের আলু রোপণের শুরুতেই ধাক্কা খেতে হয়েছে তাদের। এবার প্রাকৃতিক দুযোর্গের অতিবৃস্টিতে আলুর জমি লন্ডভন্ড হয়ে গেছে।সোমবার সরেজমিনে গেলে আলু চাষীরা জানান, গত ৬দিনের টানা ও অতিবৃস্টির কারনে তাদের প্রস্তুতকৃত আগাম আলু চাষের জমিগুলো পানির নিতে তলিয়ে আছে। কিছু কিছু জমির পানি নামলেও সেই জমি কাঁদা হয়ে রয়েছে। ঝলমলে কড়া রৌদ্র না পেলে জমি শুকাবেনা, পানি নামবেনা। ফলে আগাম আলু চাষ পিছিয়ে পড়ছে। উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের লালবাবু এবার ১০ বিঘা জমিতে আগাম আলু চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করেন। এরমধ্যে তিনি ২ বিঘা জমিতে সেভেন জাতের আলু রোপন করেন। দুই বিঘাতে তার আলুবীজ লাগে ২৬০ কেজি। আগাম আলু বীজ রোপনের পর শুরু হয় টানা অতিবৃস্টি। 

লালবাবু জানান ৬ দিনের বৃস্টির পানিতে জমির আলু বীজ বিনস্ট হয়ে গেছে। গ্রামের লোকজন শিশুরা রোপিত আলুর বীজ পানিতে হাতিয়ে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। ওই বীজে আর আলু হবেনা বলে লালবাবু জানান। এখন কড়া রোদ্র ছাড়া আলু রোপন করা যাবেনা। 

উপজেলার সফল আগামজাতের আলু উৎপাদনকারী চাষী শামীম হোসেন জানালেন, তিনি আগাম জাতের আমন ধান আবাদ করে সেই ধান কাটাই মাড়াই শেষ করেন। তিনি ওই ১৯ বিঘা জমিতে আগামজাতের আলু আবাদের জন্য নিয়ম অনুযায়ী আশ্বিনের প্রথম সপ্তাহে আলুর জমি প্রস্তুতের কাজে হাত দেন। জমির প্রকৃতি ভেদে ৫/৬ চাষ ও বার কয়েক মই দিয়ে ভালোভাবে 

পাইট করে রেখেছে। সঙ্গে মাটি যাতে মোলায়েম ও ঝুরঝুরা করে প্রস্তুত করেন। তিনি জানান, আলুর বীজ রোপনের প্রস্তুতি নিয়েছি। শুধু আমি নই,এলাকার সকল আগাম চাষীরা জমি প্রস্তুত করেন। কিন্তু টানা ৬ দিনের অতিমাত্রার বৃস্টি আমাদের আগাম আলু চাষের প্রস্তুতি লন্ডভন্ড করে দিয়েছে। জমি তলিয়ে গেছে বৃস্টির পানিতে। কাদা পানিতে একাকার জমি। জমি না শুকালে আলু চাষ সম্ভব নয়। আলু চাষী শামীম আরো বলেন ঠিকমতো আগাম আলু চাষ হলে তার ১৯ বিঘা জমিতে খরচ হবে ৪ লাখ টাকা। ভাল দাম পেলে 

আলু বিক্রি হবে প্রায় ১১ লাখ টাকায়। এখন চিন্তায় পড়েছি। জমিতে জমে থাকা বৃস্টির পানি নামতে সময় নিচ্ছে। সেই সঙ্গে রোদের তাপ প্রয়োজন। জমি না শুকালে আলু চাষ সম্ভব নয়।উপজেলার পুটিমারি ইউনিয়নের পোড়াকোট গ্রামের কৃষক অহিদুল 

ইসলাম জানালেন এবার আগাম আলু আবাদ নিয়ে আমরা চিন্তায় পড়েছি। টানা ও অতি বৃস্টির কারনে আগাম আলু চাষ পিছিয়ে যাচ্ছে। এতেঅন্যান্য আগাম আলু চাষীরা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছেন। টানা অতিবৃস্টি আগাম আলু চাষে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

জানা যায়,কিশোরগঞ্জের জমি আলু আবাদের জন্য উর্বর হওয়ায় প্রতিবছর এখানে আগাম ও নমলাজাতের আলুর চাষ করে লাভবান হন আলুচাষিরা। আলু রোপনের পর আগামী ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারে বিক্রি হয়।স্থানীয় কৃষি বিভাগের সুত্রে জানা যায়,চলতি বছরের জন্য এখনও আলু আবাদের লক্ষ্যমাত্রা করা হয়নি। তবে গত বছরে নীলফামারী জেলায় ২১ হাজার ৩৩২ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়। এর মধ্যে সাড়ে ৯ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু উৎপাদন শেষে সেই জমিতে দ্বিতীয় দফায় আলু চাষ করেন অনেক কৃষক। 

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 2738717731410390648

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item