বৌভাতে অতিথি গ্রামের সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা॥ সহযোগীতায় সেইফ ফাউন্ডেশন

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী ॥ বিয়ের পরে নতুন বৌকে দেখার জন্য আয়োজন করা হয় বৌভাত। তবে এবার এটি আয়োজন হয়েছে ভিন্ন রকম। বৌভাত অনুষ্ঠানের অতিথি হয়েছেন গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সুবিধাবঞ্চিত শিশু শিক্ষার্থীরা। অতিথি হয়ে অনুষ্ঠানে এসে তারা পেল নতুন জামা। এরপর আপ্যায়নের পালায় নবদম্পত্তি নিজহাতে তাদেরকে খাওয়ালেন পেটপুড়ে। আপ্যায়নের মেনুতে তাদেরকে দেওয়া হলো ভাত, ডাল, মাংস, মিষ্টি ও কোমল পাণীয়। আতিথিয়তায় তুষ্ট শিশুরা প্রাণভরে গাইল বিয়ের গীত। আনন্দঘন পরিবেশে তারা উপভোগ করলো বৌভাতের অনুষ্ঠান।

স্বাস্থ্য বিধি মেনেরবিবার(২৩ আগষ্ট/২০২০) দুপুরে ব্যতিক্রমি ওই বৌভাত অনুষ্ঠিত হয় নীলফামারী জেলা সদরের কচুকাটা ইউনিয়নের কোরাণীপাড়া আশা শিক্ষা কেন্দ্র চত্ত্বরে। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সেইফ ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ওই নবদম্পত্তি আয়োজন করে অনুষ্ঠানটির।

জেলা শহরের শাহীপাড়ার এটিএম মোস্তফা চৌধুরীর ছেলে নিরাদ আল আশরাফি বিয়ে করেন গত ১৪ আগস্ট। আশরাফি একজন ফিল্ম মেকার। করোনা পরিস্থিতে স্বল্প পরিসরে পারিবারিক আয়োজনে বিয়ে করেন দিনাজপুরের সুইহারির ব্যবসায়ী লূৎফর রহমানের মেয়ে অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রি ফারজানা ইয়াসমিনকে। তারা বিয়ে করলেও বৌভাত অনুষ্ঠানের সুপ্ত বাসনা থেকে যায় তাদের মধ্যে। আর সেটি ভিন্ন আঙ্গিকে বাস্তায়নে পরিকল্পনা করতে থাকেন। তাতে সহযোগিতা করেন সেইফ ফাউন্ডেশন। সে পরিকল্পনায় বাস্তবায়িত হলো ভিন্ন এ আয়োজনটি।

অনুষ্ঠানের অতিথি দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী হুমায়ুন কবীর আনন্দিত বৌভাতে অংশ নিয়ে। সঙ্গে আনন্দিত তার বন্ধুরা। তারা বলে,“অনেক দিনপর ভালো খাবার খেলাম। সাথে নতুন জামা পড়ে আনন্দও করলাম। সকলে মিলে বিয়ার গীত গাইলাম।” তাদের জীবনে এমন আনন্দ এটিই প্রথম বলে জানায় তারা।

শিক্ষার্থীর সঙ্গে ওই অনুষ্ঠানে এসেছিলেন অভিভাবক মুক্তা বেগম। তিনিও আনন্দিত অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে। এসময় বলেন, এলাকায় শিশুদেরকে নিয়ে এমন অনুষ্ঠান আর কখনো দেখিনি। প্রাণভরে বিয়ের অনুষ্ঠান উপভোগ করলো শিশুরা। 

সকলের ন্যায় আনন্দিত নববধু ফারজানা ইয়াসমিন। তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকে শহরে মানুষ হয়েছি। গ্রামের শিশুদেরকে নিয়ে এমন একটি অনুষ্টানে অংশ নিতে পারবো তা কখেনো ভাবিনি। এটি আমার জীবনে মাইলফলক হয়ে থাকবে। 

নিরাদ আল আশরাফি বলেন, ফিল্ম মেকারের কাজে আমি ঢাকায় ছিলাম। করোনা পরিস্থিতিতে আমি নীলফামারীর বাড়িতে অবস্থান করছি। করোনাকালে সেইফ ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন মানবিক কাজে সক্রিয় অংশ নেই। সেখান থেকেই আমার বিয়ের বৌভাত অনুষ্ঠানে অসহায় শিশু শিক্ষার্থীদের খাওয়ানোর চিন্তা আসে। 

আশা শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক আয়শা সিদ্দিকা বলেন,“এমন একটি অনুষ্ঠান উদাহরণ হয়ে থাকবে এলাকায়। অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে শিশুরা অনেক আনন্দ করেছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমরা অনুষ্ঠানটি শেষ করেছি। 

সেইফ ফাউন্ডেশনের প্রধান সম্বনয়কারী রাসেল আমীন স্বপন বলেন, “নিরাদ আল আশরাফি সেইফ ফাউন্ডেশনের একজন দাতা। করোনা কালীন সময়ে সকল মানবিক কাজে তার সক্রিয় অংশগ্রন রয়েছে। মানবিক কাজের অংশে ভিন্ন মাত্রায় বৌভাতের আয়োজনের প্রস্তাবটি সংগঠনের পক্ষে দেওয়া হলে তিনি গ্রহন করেন সেটি। 

তিনি বলেন,“করোনা কালীন সময়ে শিশুরা এক ধরণের মানষিক চাপের মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিধি মেনে  এমন অনুষ্ঠান আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের সে চাপ কিছুটা লাঘব হবে। পাশপাশি এ সময়ের অর্থনৈতিক পরিস্থিতে অনেক অভিভাবক শিশুদের যোগান দিতে পারছেন না ভালো খাবার। অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সে ঘাটতিটাও পূরণ হবে। এমন ভাবনা থেকে এ আয়োজন। করোনা কালীন সময়ে এধরণের আয়োজনে বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। অনুষ্ঠানে শিশু অতিথিদের সঙ্গে একজন করে অভিভাবকসহ ২০০ জন অংশগ্রহন করেছেন বলে জানান তিনি। #


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 2099237270318288872

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item