জোড়া লাগানো জমজ দুই বোন মনি মুক্তার ১২তম জন্মদিন পালন


হাসান জুয়েল বীরগঞ্জ(দিনাজপুর)প্রতিনিধি ॥- 
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে দিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জোড়া লাগানো জমজ দুই বোন মনি মুক্তার জন্ম দিন পালন করা হয়েছে।

রবিবার বিকেলে প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে জন্মদিনে যোগ দিয়েছে তাদের বন্ধু আত্মীয় প্রতিবেশি এবং গণমাধ্যম কর্মীরা।

এদিকে জন্মদিন উপলক্ষ্যে বাবার দেওয়া নতুন পোশাকে মনি মুক্তার চোখে মুখে ছিল আনন্দের ঝিলিক। আর জন্মদিনে শুভেচ্ছা জানাতে ছুটে আসা মানুষের ভালবাসা ছিল বৈশ্বিক মহামারীতে অসহায় পড়া পৃথিবীতে নতুন স্বপ্নের হাতছানি। এই জন্মদিনের উৎসবেকে ঘিরে যেন দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রাম সেজেছে রানীর বেশে।

বিদ্যালয় খুলে দেওয়ার আকুতি নিয়ে জন্মদিনের উৎসবে মনি মুক্তা নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, স্কুলে যেতে পারি বলে সব সময় মন খারাপ থাকে। স্কুৃলের বন্ধুদের সাথে দেখা হয় অনেকদিন ধরে। স্কুল বন্ধ থাকার কারণে তাদের সবাইকে জন্মদিনের দাওয়াত দিতে পারিনি। এ জন্য দ্রুত করোনা মুক্তির প্রার্থনা করেছেন সৃষ্টি কর্তার কাছে। প্রার্থনা করেছেন নিজেদের জন্য এবং পরিবারের সুস্থ্যতা এবং মঙ্গলের জন্য। ভবিষ্যতে চিকিৎসক মানুষের সেবা করতে চান তারা দুজনে।

মনি মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল বলেন, সংসারে টানা পোড়েন থাকলেও মনি মুক্তার জন্মদিন পালনে আমাদের উদ্যোগের কমতি থাকে না। অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে আলাদা ভাবে রেখে দেই তাদের জন্মদিন পালনের জন্য। সেই টাকা থেকে জন্মদিনে দুজনের জন্য একই রকমের জামা কিনে দেই। বাকী টাকা ব্যয় করা হয় জন্মদিনের কেক এবং অতিথি আপ্যায়নে।

উল্লেখ্য, দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের শরৎ চন্দ্র পালের পুত্র জয় প্রকাশ পাল। জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২ শে আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে মনি এবং মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়।

পরে রংপুরের চিকিৎসকগণ ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অস্ত্র পাচারের মাধ্যমে পৃথক করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারী ঢাকা শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়।

অতঃপর ২০১০ সালের ০৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তা ভিন্ন সত্ত্বা লাভ করে। বাংলাদেশের চিকিৎসা বিজ্ঞানে সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস।

মনি-মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল জানান, সে সময় গ্রামের মানুষ এটাকে অভিশপ্ত জীবনের ফসল বলে প্রচার করতে থাকে। সমাজের নানা কুসংস্কারে প্রায় এক ঘরে হয়ে পড়ি। সমাজের নানা অপবাদে গ্রামে আসিনি। হতাশার মাঝে স্বপ্ন দেখি মনি-মুক্তাকে নিয়ে। বিভিন্ন চিকিৎসকের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে থাকি তাদের স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাওয়ার জন্য। আমাদের স্বপ্ন বাস্তব হয় ডা. এ আর খানের কারণে। সেই মানুষটির কারণে আমাদের এই দুই সন্তানের নতুন করে বেঁচে থাকা।

মনি-মুক্তার মা কৃষ্ণা রাণী পাল জানান, ২০০৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র নিয়ে প্রথমে ২১ ফ্রেরুয়ারি পার্বতীপুরে বাবার বাড়িতে আসি। কিছুদিন সেখানে থাকার পর নিজগ্রাম বীরগঞ্জ উপজেলার পালপাড়ায় মনি-মুক্তাকে নিয়ে আসি। সৃষ্টি কর্তার আর্শিবাদে এবং ডা. এ আর খানের সাফল্যে আমরা মনি মুক্তাকে স্বাভাবিক ভাবে ফিরে পেয়েছি। আমরা সব 

পুরোনো সংবাদ

দিনাজপুর 2391121734235930013

অনুসরণ করুন

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item