হাটের ইজারা ছাড়াই ডুপ্লিকেট বই ইস্যু করে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ


মোঃ শামীম হোসেন বাবু, কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ
  ইউনিয়ন সহকারী ভূুমি কর্মকর্তার যোগসাজসে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার গাড়াগ্রাম হাটে ইজারা ছাড়াই ডুপ্লিকেট রশিদ বই ইস্যু করে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।  ফলে একদিকে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার অপর দিকে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে সংশ্লিষ্টরা। এ ঘটনায় স্থানীয়রা নীলফামারী জেলা প্রশাসক বরারর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ টি ইউনিয়নের ১৩টি হাট বাজার (১৪২৮ সনের) ইজারার জন্য গত ২৮-২-২০২১ই তারিখে  সালে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে উপজেলা প্রশাসন। দরপত্র অনুযায়ী ১১ টি হাটবাজার ২ লাখ ৬০ হাজার ১ শ টাকার বিনিময়ে ইজারা প্রদান করা হয়। কিন্তু কিশোরগঞ্জ সদর এবং গাড়াগ্রাম হাট ইজারার মাধ্যমে না দিয়ে স্ব স্ব ইউনিয়ন ভূমি  কর্মকর্তাদের খাস খাজনা আদায়ের নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগম। দরপত্রে গাড়াগ্রাম হাটের ইজারা মুল্য ছিল ২০ লাখ ১৪ হাজার ২৫০ এবং কিশোরগঞ্জ সদর হাটের ইজারা মুল্য ছিল ৩১ লাখ ২২ হাজার ৩৩৯ টাকা। 


গত সোমবার গাড়াগ্রাম হাটে গিয়ে দেখা যায়, করোনাকালীন সময়ে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে গাড়াগ্রাম হাট বাজার কমিটির সভাপতি সেকেন্দার আলী ডুপ্লিকেট বই ইস্যু করে বিক্রিত  গরু এবং ছাগলের রশিদ করছেন। নিয়ম অনুযায়ী ওই ইউনিয়নের ভূমি কর্মকর্তা হাটে উপস্থিত থেকে সরকারী রশিদের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ফি অনুযায়ী টাকা আদায় করার কথা কিন্তু হাটে ভূমি কমকর্তাতো দুরের কথা সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউকে খঁজে পাওয়া যায়নি। হাটে গরু কিনতে আসা এক গরু ব্যবসায়ী জানান, এই হাটে গরু কিনতে আসলে বাজার কমিটির লোকজন গরু প্রতি ৪৫০ টাকা হারে আদায় করেন।  

এ বিষয়ে হাট বাজার কমিটির সভাপতি সেকেন্দার আলী বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে হাট বাজারের খাজনা আদায়ে আমি সহযোগিতা করছি মাত্র। ডুপ্লিকেট বই দিয়ে সরকার নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত ফি আদায়  আদায় করছেন কেন প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আপনি তহশিলদারের সাথে কথা বলেন। 

গাড়াগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা এন্দাদুল হকের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, হাট বাজারের খাজনা আদায়ের কোন রশিদ আমি সরবরাহ করিনি। সব কিছু উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্যার করছেন। খাজনা কার কাছে জমা হচ্ছে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন আমি এ বিষয়েও কিছু জানিনা। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রোকসানা বেগমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী বাংলা ১৪২৮ সনের হাট বাজার ইজারার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা । বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর ১৫ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত ওই দুই হাটের জন্য কেউ দরপত্র না কেনায় নিয়ম অনুযায়ী হাট দুটি খাস খাজনা আদায়ের জন্য ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ইউনিয়ন ভুমি কর্মকর্তার অনুপস্থিতে হাট বাজার কমিটির সভাপতি সেকেন্দার আলী ডুপ্লিকেট রশিদ বই ইস্যু করে খাজনা আদায় করছে জানালে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।   

 উল্লেখ্য যে, ১৪২৬ খ্রিস্টাব্দে নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯ ইউনিয়নের ১৩টি হাট বাজার ইজারা বাবদ রাজস্ব  আয় হয় ২১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৮৯১ টাকা। ১৪২৭ খ্রিস্টাব্দে রাজস্ব আয় হয় ৫১ লাখ ২৩ হাজার ৪৯ টাকা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কিশোরগঞ্জের এক ব্যবসায়ী জানান, গত সপ্তাহে কিশোরগঞ্জ হাটের নিলাম হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা। সে অনুযায়ী ৩৬৫ দিনে ৫২ সপ্তাহে ৫২ লাখ টাকা রাজস্ব আসার কথা ।


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 2732324597046148172

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item