কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসে বসেননা কোন কর্মকর্তা কর্মচারী


মোঃ শামীম হোসেন বাবু,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টির  কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিস না করার কারনে বেহাত হতে বসেছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি।  কোনো কর্মকর্তা কর্মচারী অফিসটিতে না থাকার কারনে আবাসিক ভবনগুলোতে স্থানীয় লোকজন বসবাস করছে।  গোটা অফিসটি জুয়ার আড্ডায় পরিণত হয়েছে।  ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সেচ প্রকল্প । রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। 

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয়  কার্যালয়টিতে সৈয়দপুর  পানি উন্নয়ন বোর্ড ২ ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের ১ এর  অধীনে ২ জন এসডিও, ৬ জন এসও, ৪ জন অফিস সহকারী, ১৬ জন কার্যসহকারী, ১০ জন এমএলএসএস, ২ জন নাইটগার্ড ও ৪ জন সার্ভেয়ার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে অফিসটি শুন্য রয়েছে। কর্মকর্তারা ঠিকমতো অফিসে না আসার কারনে লুট হয়ে যাচ্ছে সরকারের কোটি কোটি টাকার সম্পদ। বর্তমানে কিশোরগঞ্জ উপ বিভাগীয় কার্য়ালয়টি সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড ও রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে পরিচালিত হচ্ছে। 


বুধবার সকালে  কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসটিতে গিয়ে দেখা যায়, উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টিতে কোন কর্মকর্তা কর্মচারী উপস্থিত না থাকার কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত আবাসিক ভবনগুলো জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এমনকি উপবিভাগীয় কার্যালয়টির মুল দ্বিতল ভবনটিও হয়ে পড়েছে জরাজীর্ণ। ভবনের ভিতরে প্রবেশ করে দেখা যায় ভবনের আসবাবপত্রগুলো ভেঙ্গেচুরে গেছে। ভবনের ভিতর উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর অফিস কক্ষগুলোতে ধুলোবালি জমে রয়েছে। এসম কোন কর্মকর্তা কর্মচারীকে চোখে পড়েনি। অফিস কক্ষে তালা থাকায় অফিসের দরজার সামনে আয়েস করে ঘুমাচ্ছে কুকুর। 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অফিসের একজন এমএলএসএস বলেন, স্যারেরা মাঝে মাঝে অফিসে আসলেও দুএক ঘন্টা বসে থেকে চলে যান। অথচ আমাকে প্রতিদিন অফিসের তালা খুলে রাখতে বলেন। 

কিশোরগঞ্জ উপজেলা মোড়ের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, গত কয়েক মাস আগে প্রচন্ড ঝড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের বেশ কিছু গাছ ঝড়ে উপড়ে পড়ে। গাছগুলো টেন্ডারের মাধ্যমে কর্তন করার জন্য পত্রিকায় বিঞ্জাপন দেয়া হয়। টেন্ডারে কাজটি গাছগুলো কর্তনের দায়িত্ব পান রনি মিয়া নামে রংপুরের এক ঠিকাদার। কিন্তু অফিসে কোন কর্মকতা কর্মচারী উপস্থিত না থাকার সুযোগে শিডিউল এর বাইরে ঠিকাদার লাখ টাকার মেহগনী গাছ কর্তন করতে শুরু করে। পরে এলাকাবাসী বাঁধায় ঠিকাদার গাছ কাঁটা বন্ধ করে।  

কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শাহ মোঃ আবুল কালাম বারী পাইলট বলেন, কিশোরগঞ্জ উপ বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়টিতে যাতে করে কর্মকর্তারা বসেন সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তপক্ষের সাথে কথা বলব। 

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী মোফাখারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবনা আপনারা রংপুর বিভাগীয় কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন। 

রংপুর বিভাগের পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিসের তত্তাবধায়ক প্রকৌশলী আব্দুস শহীদের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় কার্যালয়টিতে যাতে কর্মকর্তারা অফিস করেন সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে। 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8589435280229380773

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item