কিশোরগঞ্জে নদী পুণঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ধাইজান নদী




শামীম হোসেন বাবু,কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)সংবাদদাতাঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় নদী পুণঃখননের ফলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ধাইজাননদী । খনন প্রকল্পের কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ধাইজান নদীটি খননের ফলে উপজেলা বিস্তর্ন অঞ্চলের চেহারা পাল্টে গেছে। সেই সাথে নদী খননের ফলে এলাকার হাজার হাজার কৃষককের আবাদী জমিতে বাড়তি উৎপাদন হবে বলে আশা কৃষি বিভাগের। এছাড়াও নদী খননের ফলে জেলেরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।
 সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সুত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে ৬৪ জেলায় ছোট নদী, খাল ও জলাশয় পূনঃখনন প্রকল্পের  অধীনে  নীলফামারীর  জলঢাকা উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দেশিবাই থেকে শুরু করে  কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা হয়ে চাঁদখানা ইউনিয়নের সরঞ্জাবাড়ি পর্যন্ত   ২৮ কিলোমিটার ধাইজান নদীর খনন কাজ চলছে।  খনন কাজে  বরাদ্দ ধরা হয়েছে  ৮ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জলঢাকা উপজেলার কাঁঠালী ইউনিয়নের দেশিবাই থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার  বরাদ্দ ৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা । কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা থেকে  সদর ইউনিয়নের কেশবা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার বরাদ্দ ২ কোটি ৬৩ লাখ টাকা । এবং কেশবা থেকে  চাঁদখানা ইউনিয়নের সরঞ্জাবাড়ি পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার বরাদ্দ ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান জানান, নদী খননের আগে নদীর গতীপথ বিভিন্ন দিক দিয়ে প্রবাহিত হত ফলে কৃষকরা পরিকল্পা করে নদীর পারের জমিতে চাষাবাদ করতে পারতনা। কিন্তু বর্তমানে নদী খননের ফলে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় দুই থেকে তিন হাজার কৃষক নদী পারের ৬ থেকে ৭শ হেক্টর জমিতে বিনামুল্যে নদীর পানি ব্যবহার করে পরিকল্পনা অনুযায়ী আবাদ করতে পারবে । এতে বাড়তি ফলন পাবে কৃষকরা। উল্লেখ্য যে কিশোরগঞ্জ উপজেলায় মোট আবাদী জমির পরিমাণ ১৫ হাজার হেক্টর। মোট কৃষক ৪০ হাজার। 

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম বলেন, নদী পুণঃখননের ফলে নদীতে মাছ ধরে এক থেকে দেড় হাজার জেলে ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা জীবিকা নির্বাহ করতে পারবে।
 সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ বিভাগীয় প্রকৌশলী এবং কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন থেকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা ধাইজান নদীটি খনন না করার কারনে সমতল ভ’মিতে পরিণত হয়েছিল।  বর্ষার সময় নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বিভিন্ন দিক দিয়ে পানি বের হয়ে যেত। ফলে হাজার হাজার কৃষকের ফসল ঘরবাড়ি নদীর পানিতে তলীয়ে যেত।  প্রধানমন্ত্রীর নদী খাল খননের অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যায় করে নদীর খনন কাজ শেষ পর্যায়ে। নদী খননের ফলে নদীর পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্য রক্ষার পাশাপাশি নদী পারের কৃষক জেলে সহ সকলেই এর সুফল ভোগ করবে। পাশাপাশি নদী পারের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। 

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 750787173818040897

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item