নোম্যানস ল্যান্ডে লাইন পাতা হলেই জুড়ে যাবে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দুদেশের রেলপথ


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়॥ আগামী ডিসেম্বরে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে ট্রেন চালাতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ, এমনই কথা বলেছেন রেলপথমন্ত্রী এ্যাডঃ মো. নূরুল ইসলাম সুজন এমপি।
আজ শুক্রবার(১৮ সেপ্টেম্বর/২০২০) সকালে উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে এক অনুষ্ঠানে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ১৬ ডিসেম্বর বা ২৬ মার্চ এই লাইনের উদ্বোধন হবে। মন্ত্রী চিলাহাটি স্টেশনও পরিদর্শন করেন চলতি বছরের ২৮ আগষ্ট বিকালে।
রেল সূত্রের খবর, বাংলাদেশের চিলাহাটির সঙ্গে হলদিবাড়ির রেল যোগাযোগের পরিকাঠামো তৈরি হতে যতটুকু বাকি রয়েছে, তা শুধু নোম্যানস ল্যান্ড এলাকায় রেললাইন পাতা। এই অংশে ভারত এবং বাংলাদেশ দুই দেশের রেল যৌথ ভাবে কাজ করবে। সেখানে লাইন পাতা হলেই জুড়ে যাবে দুদেশের রেলপথ। চিলাহাটি দিয়ে ট্রেন ভারতে ঢুকে প্রথমেই হলদিবাড়ি স্টেশন। তার পরে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন হয়ে নিউ জলপাইগুড়ি (এনজেপি শিলিগুড়ি) যাবে ওই ট্রেন। হলদিবাড়ি এবং জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনের পসিন পরিকাঠামো তৈরি, তেমনি বাংলাদেশের অংশের রেলপাতার কাজ শেষ।
রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, আগামী ডিসেম্বরের আগেই রেললাইনের নির্মাণকাজ সম্পন্ন হবে। এটি উদ্বোধনের জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব। ভারতের অংশে যেটুকু বাকি আছে, তা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানানো হবে।
তিনি বলেন, অবিভক্ত ভারতের রেল যোগাযোগের এটিই প্রধান পথ ছিল। দেশ ভাগ হওয়ার পরও ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত এটি চালু ছিল। কলকাতা থেকে এ পথে ট্রেন চলাচল করত। সেই রেল যোগাযোগ ১৯৬৫ সালের পাকিস্তান-ভারত যুদ্ধের সময় বন্ধ হয়ে যায়।
এসব তথ্য তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের যে সোনালি অধ্যায়ের সূচনা করেছেন, তারই ফলে এ রেলপথ পুনরায় চালুর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গত বছরের জুনে এ প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন কর্মকান্ড বাধাগ্রস্থ হয়েছে। তারপরও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় প্রকল্পটি অনেকটা চলমান। প্রকল্পের মেয়াদ এক বছর বাড়ানো হলেও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিকতায় কাজটি শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশ অংশে লাইনপাতার কাজ শেষ হয়েছে।
এদিকে ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন চন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, “ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশ রেল চলাচল শুরু করতে চায়, এমন খবর আমরা পেয়েছি। আমাদের (ভারত) অংশের পরিকাঠামোর প্রায় সবটুকু সেরে ফেলেছি। কোভিড পরিস্থিতিতে কাজ শেষ করতে বাড়তি সময় লেগেছে। যেটুকু কাজ বাকি, তা কিছু দিনের মধ্যেই শেষ করে দেওয়া যাবে।” তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে রেলপথ জুড়ে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি দিয়ে ট্রেন চলাচল করবে এমন পরিকল্পনা দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার আগে এই পথে দার্জিলিং মেলও চলাচল করত। ফের এই রেলপথ চালু করার ক্ষেত্রে পরিকাঠামো দিক দিয়ে একাধিক অন্তরায় ছিল। হলদিবাড়ি থেকে জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশন পর্যন্ত ২২ কিলোমিটার লাইন ছিল পুরনো। এই লাইনে বেশি গতির ট্রেন চালানো সম্ভব ছিল না। জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে ছিল মাত্র তিনটি লাইন। যার ফলে একসঙ্গে একাধিক ট্রেন চলে এলে দাঁড়ানোর জায়গা দিতে গিয়ে মূল লাইন বন্ধ হওয়ার জোগাড় হত। দুই নম্বর প্ল্যাটফর্মের পরিকাঠামো ছিল না। সব থেকে বড় কথা, জলপাইগুড়ি টাউন স্টেশনে স্বয়ংক্রিয় সিগন্যাল ব্যবস্থা ছিল না। এমন লাইন দিয়ে তাই আর্ন্তজাতিক রুটের ট্রেন চালানো সম্ভব ছিল না। গত কয়েক মাসে সব কটি পরিকাঠামোই করেছে রেল।
রেল সূত্রের খবর, এই লাইনে দুদেশের মধ্যে প্রথমে পণ্যবাহী ট্রেন যাতায়াত শুরু করবে। এই পথে সরাসরি কলকাতার সঙ্গেও ট্রেন চলাচল সম্ভব। যাত্রী-বাহী ট্রেন চালানোর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে রেল কর্তাদের দাবি।
রেলের সূত্র মতে, “একবার রেল চলাচল শুরু হয়ে গেলে অনেক পদপেই করা হতে পারে।”
উল্লেখ যে, গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর চিলাহাটি রেলস্টেশন চত্বরে এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম। চিলাহাটি রেলস্টেশন থেকে সীমান্ত পর্যন্ত ৬ দশমিক ৭২৪ কিলোমিটার ব্রডগেজ রেলপথ নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ৮০ কোটি ১৬ লাখ ৯৪ হাজার টাকা। ২ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার লুপলাইনসহ বাংলাদেশ অংশে রেলপথের মোট দৈর্ঘ্য ৯ দশমিক ৩৬ কিলোমিটার।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5703751010942905398

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

ফেসবুক লাইকপেজ

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item