প্রধান শিক্ষকের বরখাস্ত প্রত্যাহার। প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে তালা।

এ.আই.পলাশ.চিলাহাটি, নীলফামারী প্রতিনিধিঃ প্রধান শিক্ষক রাজিউল আলম বসুনিয়া রাজুর (৪৮)বরখাস্ত প্রত্যাহারের প্রতিবাদে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়েছে এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) সকালে নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার কেতকীবাড়ী ইউনিয়নের উত্তর চান্দখানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে।
এলাকাবাসীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিপূর্বে উক্ত প্রধান শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছিল।
সেই অভিযোগের বক্তব্য থেকে জানা যায় , উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু বিভিন্ন অনৈতিক কাজের সাথে জড়িত। প্রধান শিক্ষক হওয়ার পরও স্কুলে অবৈধ কাজ করার সময় স্থানীয়রা তাকে হাতে নাতে ধরে ফেলে। নারীলোভী এই প্রধান শিক্ষকের কাছে কোন নারী ও অভিভাবকেই নিরাপদ নয়। স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা সাথী আক্তার,আয়োশা আক্তার ও রেজওয়ানা পারভীন জানান, প্রধান শিক্ষক রাজু তাদের মানসিকভাবে নির্যাতন করে থাকেন। কথায় কথায় হুমকি দেন। প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে স্কুলে এসে ক্লাস নিয়ে আমরা চলে যাই। এমন অভিযোগে গত বছর ১৯ ফেব্রুয়ারী স্থানীয়রা প্রধান শিক্ষক রাজুর বিরদ্ধে জেলা প্রশাসক বরাবরে তার বিচারের দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান করেন।
পরে রাজুর  বিরুদ্ধে একাধিক নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে তাকে চাকুরী হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ২০ জুন/২০১৯ দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা।

দীর্ঘদিন বরখাস্ত থাকার পর গত ২৪শে ডিসেম্বর ২০১৯ বরখাস্তটি প্রত্যাহার হয়। পরে তিনি গত বুধবার (১ জানুয়ারী) সকাল ৯টার দিকে অতিগোপনে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পিয়ন মোজাবুল হকের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে হাজিরা খাতায় দ্রুত সই করে সটকে পরে। ঘটনাটি এলাকাবাসী জানতে পেরে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) সকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রধান দরজায় তালা লাগিয়ে দিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে থাকে। সকাল ১১টার দিকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান ফটকে তালা লাগানো দেখতে পায় ।উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি জহুরুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, “এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক রাজিউল আলম বসুনিয়ার বিরুদ্ধে বহু অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগ রয়েছে। তিনি টাকার জোড়ে পার পেয়ে গেলেও এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এলাকার লোকজন তাকে প্রবেশ করতে দেবে না”। অপরদিকে উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষিকা আয়শা খাতুন ও রেজওয়ানা বলেন, “এলাকার লোকজন শান্ত হলেই স্কুলে তারা প্রবেশ করে ক্লাস চালু করবে”। এ ব্যপারে কেতকীবাড়ী ইউপির চেয়ারম্যান জহুরুল হক দিপু বলেন, “শিক্ষার শান্ত পরিবেশকে অশান্ত করেছে এই প্রধান শিক্ষক। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি তারাই ব্যবস্থা নিচ্ছে”। ডোমার উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমির হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই সংবাদ দাতাকে জানান, “এলাকাবাসীর দাবি মেনে নিয়েছি। আগামি ৭ই জানুয়ারি ২০২০ইং পর্যন্ত উক্ত প্রধান শিক্ষক ডোমার উপজেলা শিক্ষা অফিসে অবস্থান করবে। তিনি উক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর প্রবেশ করবে না।”

পুরোনো সংবাদ

শিক্ষা-শিক্ষাঙ্গন 7720889533909083548

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

Logo

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item