বিএসএফের গুলিতে নীলফামারীর নিহত যুবকের লাশের অপেক্ষায় স্ত্রী ও স্বজনরা

ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়, নীলফামারী প্রতিনিধি॥ বিএসএফের গুলিতে নিহত নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালীগঞ্জ গ্রামের যুবক মোঃ বাবলু মিয়ার (২৪) লাশ ও আটক করে নিয়ে যাওয়া আহত কিশোর একই উপজেলার পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের ঝাড়শিঙ্গেশ্বর গ্রামের গোলজার রহমানের ছেলে সাইফুল ইসলামকে (১৫) ঘটনার তিনদিনের ফেরত দেয়নি ভারতের উড়াল সীমান্ত রক্ষী ক্যাম্পের বিএসএফ। নিহত বাবুল মিয়ার  লাশ ও আটক কিশোরকে ফেরতের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে নিহত যুবকের স্ত্রী সহ উভয় পরিবারের স্বজনরা।

আজ বৃহস্পতিবার(৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিহত যুবকের বাড়িতে তার স্বজনরা মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে কুলখানীর আয়োজন করে। এ সময় গনমাধ্যম কর্মীরা মুঠোফোনে কল দিলে নিহত যুবকের বড় ভাই রাসেল মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ সময় নিহত বাবলুর স্ত্রী রজিফা মুঠোফোনে জানান তিনি ও তার স্বামীর বাড়ির স্বজনরা তার স্বামীর লাশ গ্রামে এনে দাফন করতে চান। ভারত থেকে লাশ ফেরত আনার জন্য তারা বাংলাদেশ সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পাশাপাশি বিএসএফের হাতে আটক আহত কিশোর সাইফুলকেও ফেরত চান তার বাবা। উভয় পরিবার বিভিন্ন স্থানে ধর্ণা দিচ্ছেন বিষয়টি নিয়ে।
নিহত বাবলু মিয়ার মা আছিয়া খাতুন বলেন, বিএসএফের গুলিতে ছেলে নিহতের কথা লোক মুখে জেনে ঘটনার দিন থেকে আমি ছেলের লাশের জন্য কালীগঞ্জ ও থানারহাট বিজিবি ক্যাস্পে বারবার গিয়ে তাদের হাত-পা ধরে মিনতি করে আমার ছেলের লাশ ফেরত চেয়েছি। কিন্তু প্রথমে তারা ঘটনাটি লালমনিরহাটের পাটগ্রাম দহগ্রাম সীমান্তে বললেও  এখন বিজিবিরা বলছেন, সীমান্তে কোন বাংলাদেশী নিহতের ঘটনা ঘটেনি। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দ্রুত আমার ছেলের লাশ ফেরত চাই।
উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা এ ব্যাপারে এখন পর্যন্ত বাবলুর লাশের কোনো সন্ধ্যান পাইনি। বিজিবির কোন সহযোগীতা পাওয়া যাচ্ছেনা।
অপর দিকে পূর্বছাতনাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, আহত সাইদুলের পরিবারের কাছে শুনেছি ‘বিএসএফের আওতায় চিকিৎসাধীন থাকা সাইফুলের সঙ্গে তার পরিবারের বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) মোবাইলে কথা হয়েছে। সে  চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভালো আছে বলে জানিয়েছে।
এদিকে  ঘটনাটি নিয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা ৫১ বিজিবির দায়িত্বরতের সঙ্গে কথা বলার চেস্টা করলেও কোন বক্তব্য পেতে ব্যর্থ হয়।
এ ঘটনা নিয়ে বিভিন্নজন বিভিন্ন ভাবে কিছু মন্তব্য করেছে যে নিহত বাবলু বাংলাদেশের নাগরিক নয়। তবে গণমাধ্যম কর্মীরা নিহত বাবলুর বাংলাদেশের জাতীয় পরিপত্র সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। এতে দেখা  যায় বাবলু মিয়ার ছবি সহ ৬৯০৬৮১৫৪৩৩ নম্বরের জাতীয় পরিচয় পত্রে তার জন্ম তারিখ ও  বাবা এবং  মা এর নাম ঠিকানা। সে বাংলাদেশের নাগরিক তা স্পষ্ট হয়ে উঠে।
এলাকাবাসীর দাবি, বাবলু মিয়া ও সাইফুল ইসলাম ঘটনার দিন গত মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) খুব ভোরে বেশ কিছু গরু নিয়ে নীলফামারীর ডিমলা ও লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমানার ভারত সীমান্তের ৭৭২ প্রধান পিলারের কাছে ঘাস কাটতে যায়। তাদের সঙ্গে গরু দেখতে পেয়ে ওপারের উড়াল বিএসএফের ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি ছোড়ে। এতে বাবুল মিয়া ঘটনাস্থলে নিহত ও সাইফুল ইসলাম আহত হয়। বিএসএফ নিহত ও আহত দুইজনকে ভারতে  নিয়ে যায়। এদিকে খবর পেয়ে নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশ নিহত ও আহতদের বাড়িতে গিয়ে  তাদের  পরিবারের কাছে ঘটনার সত্যতা জানতে পেরে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করেন। #

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 5927533652964565042

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

সর্বাধিক পঠিত

শিল্প-সাহিত্য

ফেসবুক লাইকপেজ

তারিখ অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item