নীলফামারীতে সমলয়ে বোরো চাষাবাদে নতুন প্রযুক্তি সরকারের প্রনোদনায় পাইলট প্রকল্পের সফলতা


নির্ণয়,নীলফামারী॥
শ্রমিক সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি ও খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকরণের ‘সমলয়ে’ চাষাবাদে বোরো ধান কর্তন শুরু হয়েছে। নীলফামারী সদরের তরণীবাড়ি গ্রামে সরকারের প্রণোদনার এই কর্মসূচী পাইলট প্রকল্পের শুরুতেই সফলতা পেয়েছে। সরকারের প্রনোদনায় এমন পদ্ধতিতে চাষাবাদের ফলে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষক স্বল্প সময়ে অধিক ফসল উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে বলে জানালেন কৃষি কর্মকর্তারা। 

সোমবার(২৪ মে/২০২১) বিকাল ৫টায় ওই ধান কর্তন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক বিধু ভূষন রায়। এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুবক্কর সিদ্দিক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মাজেদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসান প্রমুখ।

কৃষি বিভাগ জানায়, জেলা সদরের পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরুণীবাড়ী গ্রামে ৭৭ জন কৃষকের অংশগ্রহনে ৫০ একর জমিতে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সমলয় পদ্ধত্তিতে বোরা ধানের আবাদ হয়। কৃষি যান্ত্রিকরণের ওই পদ্ধতিতে সোমবার পাকা ধান কর্তন শুরু হয়েছে। এ পদ্ধতিতে একই সময়ে জমিতে চারা রোপন করে প্রয়োজনীয় পরিচর্যার পর একই সময়ে পাকা ধান কর্তনের ফলে উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। পাশপাশি প্রচলিত পদ্ধতিতে যে খরচ হয় তা কমে নেমেছে অর্ধেকে। স্বাশ্রয় হয়েছে কৃষকদের সময় এবং শ্রম। ওই সময় এবং শ্রম অন্য কর্মক্ষেত্রে কাজে লাগিয়ে বাড়তি আয় করেছেন কৃষক।যান্ত্রিক এ পদ্ধতিতে বিশেষ ট্রেতে বীজতলা তৈরীর পর চারা রোপন থেকে ধান কাটা-মাড়াই এমনকি বস্তায় ভরা পর্য়ন্ত শ্রমিকের কাজটি সম্পন্ন হচ্ছে আধুনিক যন্ত্রের মাধ্যমে। এতে শ্রমিক সংকট দূর হবার পাশাপাশি উৎপাদন খরচ কমেছে। পাশাপাশি যন্ত্রের মাধ্যমে নিরানীসহ অন্যান্য পরিচর্যার কাজ নিবির ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন।

ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাফিজুর রহমান (৫০) বলেন, ‘কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় যান্ত্রিক ওই পদ্ধত্তিতে এবার চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করেছি আমি। প্রচলিত চাষাবাদে যে খরচ, তার অর্ধেক খরচে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে। উৎপাদন ভালো হয়েছে। কৃষিতে যন্ত্রের ব্যবহারে আমার শ্রম এবং সময় স্বাশ্রয় হওয়ায় ওই সময় এবং শ্রম অন্য কর্মক্ষেত্রে লাগিয়ে বাড়তি আয় করা সম্ভব হয়েছে।’

 উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. কামরুল হাসাস জানান, কৃষি যান্ত্রিকরণের প্রক্রিয়া ‘সমলয়ে’ পদ্ধতিতে উপজেলার ৭৭ জন কৃষক ৫০ একর জমিতে একই সময়ে একই জাতের ধান আবাদ করেছেন। এ পদ্ধতি অবলম্বনে কৃষকের অর্ধেক উৎপাদন খরচ স্বাশ্রয় হয়েছে। যন্ত্রনির্ভর পরিচর্যায় বিঘাপ্রতি ফলন হয়েছে ২৯ মন ধান। এটি কৃষি বান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের নতুন পদ্ধতির পাইলট প্রকল্পের বড় সফলতা নিয়ে এসেছে।

সফলভাবে ফসল উৎপাদনের জন্য সমলয়ে চাষাবাদ এই কর্মসূচীর আওতায় কৃষক বোরো বীজ সার ও ফসলের উপকরণ পেয়েছে। প্রদর্শনীতে আবাদ ও উৎপাদনে সফলতা আসায় এই অঞ্চলে বোরো আবাদে কৃষকের আগ্রহ আরও বেড়ে যাবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ। #


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 4464965057052462903

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item