পঞ্চগড়ে দোকানঘরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষ


সাইদুজ্জামান রেজা, পঞ্চগড়:


পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট বাজারে দোকানঘরকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়ে তিনজন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রোববার সকালে টুনিরহাট বাজারের বটতলী এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

আহতরা হলেন- উপজেলার কামাতকাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট প্রধানপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে কামরুল হাসান রয়েল (৩৬), রয়েলের স্ত্রী আশরাফুননাহার (৩২) এবং তেলিপাড়া গ্রামের মৃত মহেন্দ্রনাথ শর্মার ছেলে পরিতোষ শর্মা (৩০)।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাজারের ওই দোকানটি দাবি করে আসছে টুনিরহাট প্রধানপাড়া এলাকার মৃত আশকর আলীর ছেলে হাবিবুর রহমান মিন্টু (৪৫) এবং একই এলাকার মৃত আব্দুল করিমের ছেলে কামরুল হাসান রয়েলের (৩৬)। এ নিয়ে বিরোধ ছিলো দুজনের মধ্যে। এক পর্যায়ে হাবিবুর রহমান মিন্টু (৪৫) দোকানঘরটি বিক্রি করে দেন সরকারপাড়া এলাকার জোসেন আলীর ছেলে হাসিবুল ইসলামের (৪০) কাছে। এতে দুপক্ষের বিরোধ বেড়ে যায়। আদালতে পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়। এর মধ্যে কামরুল হাসান রয়েলের দায়ের করা একটি ‘নিষেধাজ্ঞা’ মামলা খারিজ করে দেয় আদালত।

স্থানীয়রা জানান, ঘটনার দিন ভোরে হাসিবুল ইসলাম লোকজন নিয়ে দোকানঘরটি দখল করতে যান। এতে বাধা প্রদান করে কামরুল হাসান রয়েলসহ তার লোকজন। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ বিষয়ে হাবিবুর রহমান মিন্টু বলেন, ‘দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে দোকানটি আমাদের দখলে ছিলো। আমি দোকানটি বিক্রি করি হাসিবুল ইসলামের কাছে। অনেকদিন ধরে পরিত্যক্ত থাকায় দোকানটি সংস্কার করতে যায় হাসিবুলরা। পরে অবৈধভাবে দখল করতে আসা কামরুল হাসান রয়েলদের সাথে সংঘর্ষ হয়।

তিনি আরো বলেন, এই দোকান ঘরের সকল কাগজপত্র আমাদের পক্ষে থাকায় ইতোপূর্বে পঞ্চগড় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং টুনিরহাট বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আমার পক্ষে প্রত্যয়ণপত্রও দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন স্থানীয় পরিতোষ শর্মার কারনে কামরুল হাসান রয়েল আমার খতিয়ান ও ক্রয়কৃত সম্পদ জোর পুর্বক দখল করার চেষ্টা করছে।


দোকান ঘরটি নিজেদের দাবি করে কামরুল হাসান রয়েল বলেন, আমাদের দোকানঘর দখল করতে আসলে আমরা বাধা প্রদান করি। এতে আমাদেরকে মারধর করে হাসিবুলরা। পরে ৯৯৯ এ ফোন দিলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।


কামাত কাজল দিঘি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জালাল উদ্দিন জানান সংঘর্ষ শুরু হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় পুলিশ প্রশাসন উভয় পক্ষকে শান্ত করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। তবে তেমন কেউ আহত হয়নি।


এদিকে, দুই পক্ষের সংঘর্ষের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। আরিফ হোসেন বলেন, বিষয়টি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দুই পক্ষকেই দোকানঘরের জায়গায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে।

পুরোনো সংবাদ

পঞ্চগড় 400050755198005476

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item