স্বাধীনতা সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠান বর্জন করবে ডোমারের মুক্তিযোদ্ধারা॥ স্মারকলিপি প্রদান


আবু ফাত্তাহ্ কামাল (পাখি) ও নির্ণয়
 “মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে” জাতীয় পতাকা উত্তোলন পর্বে রাজাকার  পরিবারের সন্তান সম্পৃক্ত থাকলে ওই অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার ২৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা। 
আজ মঙ্গলবার(২৩ মার্চ/২০২১) দুপুরে এই দাবী সম্বলিত লিখিত সিদ্ধান্ত নীলফামারী জেলা প্রশাসক ও  ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে পেশ করেন ওই সকল বীর মুক্তিযোদ্ধাগন। বীরমুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে দাবী করা হয় ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান। বিগত ২০১৯ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলন পর্বে তালিকাভুক্ত স্বাধীনতা বিরোধীর সন্তান উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদের নাম ঘোষনা করা হয়। এসময় উপস্থিত বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সকল সদস্যবৃন্দ ওই অনুষ্ঠান বর্জণ করেছিল। করোনাকালিন ২০২০ সালে মহান স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত ছিল। কিন্তু এবার স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর ৫০ বছর উদযাপনে আগামী ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন থেকে ডোমার উপজেলা চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদকে বিরত রাখার অনুরোধ জানানো হয়। 
এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মো. নুরন নবী বলেন, ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদ স্বাধীনতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীর সন্তান, তার হাতে সেদিন সরকারি কর্মসূচিতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হউক এটা আমরা মেনে নেব না। প্রয়োজনে আমরা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে পৃথক কর্মসুচি  ঘোষনা করবো। 
অপর দিকে ডোমার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তোফায়েল আহমেদ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয় থেকে প্রকাশিত রাজাকারের তালিকায় আমার বাবার নাম এসেছিল। তালিকাটি বিতর্কীত হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা স্থগিত করা হয়। ষড়যন্ত্রমুলক আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এসব করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমার বাবা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে কাজ করেছেন, এ কারনে আমরা ৩ ভাই ৩ বোন সকলে আওয়ামী লীগ করি।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা জাতীর শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের সম্মান দেয়া আমাদের কর্তব্য। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে আমরা তাদের সম্মান জানাবো। বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেওয়া স্বারকলিপি পেয়েছি। তাদের অভিযোগ মতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের বাবা স্বাধীনতার স্বপক্ষে কাজ করেননি। কিন্তু গেজেট পাশ না হওয়ায় আমি সেটি বলতে পারবো না। তাদের দেয়া স্বারকলিপি আমরা মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ে পাঠাবো। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। # 


এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোঃ নুরন নবী জানান,গত বিজয় দিবস (২০১৯ ইং) আমরা প্রশাসনের অনুষ্টান বর্জন করেছি । কারণ এক সাগর রক্তের বিনিময়ে  অর্জিত স্বাধীনতার পতাকা কোন রাজাকার সন্তান  উত্তোলন করুক ,তা আমরা চাই না । এবারও যদি ওই রাজাকার পুত্র উত্তোলন করে তাহলে এবারও প্রশাসনের অনুষ্ঠান বর্জন করা হবে । আমরা  আলাদাভাবে অনুষ্ঠান করব ।

এ ব্যাপারে  ডোমার উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শাহিনা শবনম জানান,অনেক মুক্তিযোদ্ধা এসেছিলেন ,গত বিজয় দিবস (২০১৯ইং) এ সমস্যা হয়েছিল । ২০১৯ সালে একটি গেজেট প্রকাশ হয়েছিল ,সেখানে উপজেলার একজনের নাম এসেছিল ,সে পরিপেক্ষিতে মুক্তিযোদ্ধারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছিল । এবারও বর্জন করা নিয়ে স্বারকলিপি প্রদান করে ।

তবে নীতিমালায় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউএনও পতাকা উত্তোলনের কথা বলা হয়েছে । আমি উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে  ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 3739503198291858396

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item