পঞ্চগড়ে হানিফ বাংলাদেশীর সংবর্ধনা ও নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত


মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড় -
হানিফ বাংলাদেশী মার্চ ফর ডেমোক্রেসির ৮০তম দিনের ৬৪তম জেলা পঞ্চগড়ে ২৩ হাজার গণস্বাক্ষর সংগ্রহের সমাপ্তি ঘোষণার মাধ্যমে সংবর্ধনা ও নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৬মার্চ ২০২১) দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের আয়োজনে শেরে বাংলা পার্ক সংলগ্ন পঞ্চগড় মুক্ত মঞ্চে উক্ত গণ স্বাক্ষর সংগ্রহের সমাপ্তি ঘোষণা অনুষ্ঠিত হয়। 

বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাধারন সম্পাদক শেখ নাসির উদ্দীন-এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় প্রধান উপদেষ্টা ইকবাল আমিনী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট মোজাম্মেল হোসেন, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারন সম্পাদক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলা কমিটির সভাপতি সুকুমার বাবু দাস(সাংবাদিক), বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন তোতা মিয়া(সাংবাদিক), বাংলাদেশ ভূমিহীন আন্দোলনের পঞ্চগড় জেলা শাখার তেঁতুলিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম(সাংবাদিক) প্রমূখ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে আগত ভূমিহীন ব্যক্তিবর্গ ও সম্মানিত প্রিন্ট এবং ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিক বৃন্দগণ।         

এসময় উপস্থিত প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ ভূমিহীনদের উদ্দেশ্যে তাঁদের বিভিন্ন বক্তব্য তুলে ধরেন। 

হানিফ বাংলাদেশীর মার্চ ফর ডেমোক্রেসি, “ভোটাধিকার চাই, কার্যকর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ চাই” এসব স্লোগানে গত ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বরে টেকনাফের জিরোপয়েন্ট থেকে তার এ অভিযাত্রা শুরু করে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া বাংলাবান্ধা জিরোপয়ন্টে পৌঁছেন।  

তার এ কর্মসূচি সম্পর্কে হানিফ বলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর ধরে সব শাসকদের দ্বারা জনগণের ভোটাধিকার কম বেশি লুণ্ঠিত হয়েছে, গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা সংকুচিত হয়েছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে জনগণের প্রত্যাশা, ভোটাধিকার ও কার্যকর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। সংবিধান মতে রাষ্ট্রের মালিক জনগণ আর রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠার প্রথম শর্ত ভোটাধিকার। জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার ক্ষমতা জনগণের হাতে থাকলে অন্যায় দীর্ঘায়িত হয় না। ‘এখন জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করার ক্ষমতা জনগণের হাতে নেই, সে কারণে দুর্নীতি দুর্বৃত্তায়ন মাথা ছাড়া দিয়ে উঠেছে।’

জানাযায়, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তিতে ভোটাধিকার ও কার্যকর গণতন্ত্রের দাবিতে দেশব্যাপী জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় নির্বাচনকালীন নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল ও ভোটের নির্বিঘ্ন পরিবেশ সৃষ্টির দাবিতে একক পদযাত্রা শুরু করা মোহাম্মদ হানিফ (৪০) পঞ্চগড়ে ৮০তম দিনের ৬৪তম জেলা পঞ্চগড়ে পৌঁছেন।


হানিফ বাংলাদেশী আরোও বলেন, ‘একসময় পাকিস্তানিরা আমাদের মৌলিক অধিকারসহ ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার কারণেই ১৯৭১ সালে লাখো শহীদের রক্ত, বহু মা-বোনের সম্ভ্রম আর মুক্তিযুদ্ধে লড়াই-সংগ্রামের বিনিময়ে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি। মুক্তিযুদ্ধের আগে আমরা বাঙালিরা ভিনদেশের শাসকগোষ্ঠীর হাতে নানাভাবে শাসিত ও শোষিত হয়েছি। এখন স্বাধীনতার পর আমরা আবার শোষিত ও ভোটাধিকার-বঞ্চিত। যে সরকার যখন ক্ষমতায় আসে, সেই সরকারই দীর্ঘ মেয়াদে টিকে থাকার জন্য জনগণের ভোটাধিকার হরণের চেষ্টা করে।’


হানিফ বাংলাদেশী দাবি করেন, ‘ভোটের প্রতি জনগণের আর কোনো আস্থা নেই। নির্বাচনে নেই উৎসবমুখর কোনো পরিবেশ। নির্বাচনব্যবস্থা এখন প্রশ্নবিদ্ধ। ভোটের প্রতি জনগণের হারানো আস্থা ফেরাতে ও জনগণকে ভোটকেন্দ্রমুখী করতে হলে জাতীয় নির্বাচনের জন্য স্থায়ীভাবে নির্দলীয়-নিরপেক্ষ সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করতে হবে। জাতীয় নির্বাচন ছাড়াও স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচনে নির্বিঘ্ন ভোটের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে পারলে জনগণ আবার ভোটকেন্দ্রে ফিরবে।


নিজের ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও জানিয়েছেন হানিফ। তিনি বলেন, তাঁর বাড়ি নোয়াখালীর সুধারাম উপজেলার নিয়াজপুর ইউনিয়নের জাহানাবাদ গ্রামে। নোয়াখালীর ভুলুয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে ১৯৯৯ সালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন। এরপর চট্টগ্রাম ওমর গনি এম এস কলেজে স্নাতকে ভর্তি হন। পরে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং) ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন। ২০১৬ সালে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার যুব শাখার আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বাংলাদেশ যুব শক্তির আহ্বায়ক পদে আছেন।


এর আগে ২০১৯ সালের ১২ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল ভোটাধিকারের দাবিতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ৩৩দিন হেটে পদযাত্রা করেন। একই বছর ১৪ মে নির্বাচন কমিশনের পদত্যাগের দাবিতে পচা আপেল নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত দুর্নীতি বন্ধের জন্য ৬৪ জেলার ডিসিকে স্বারকলিপি দেন এবং দুর্নীতিবাজদের উদ্দেশ্যে জেলায় জেলায় লালকার্ড প্রদর্শন করেছেন। এমনকি সংসদ ভবনের চারপাশে ১৬বার প্রদক্ষিণ পূর্বক রাষ্ট্রপতিকে স্বারকলিপি দেন। ২০২০ সালের ১১ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর প্রতিকী লাশ নিয়ে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের অনন্তপুর সীমান্ত অভিমুখে পায়ে হেঁটে সীমান্ত হত্যা বন্ধের দাবি জানিয়েছিলেন। 


পুরোনো সংবাদ

পঞ্চগড় 3218979447449034549

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item