নীলফামারীতে কুকুরের কামড়ে ৭৫ জন আহত


নির্ণয়,নীলফামারী॥
নীলফামারী জেলা জুড়ে বিভিন্ন হাটবাজার ও পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত ভয়াবহ মাত্রায় বেড়েছে। কখন বেওয়ারিশ কুকুর কামড় দেয় এ নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন এলাকাবাসী। কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে সোমবার সহ গত তিনদিনে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন শিশু ও নারী সহ ৭৫ জন। তারা সকলেই জলাতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে “র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ” গ্রহণ করেছে।

জেলার  সৈয়দপুর উপজেলা শহরে রবিবার(৭ মার্চ/২০২১) দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কুকুরের কামড়ে ১৭ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। এদের মধ্যে দুই শিশুর মুখমন্ডল ও গলা মারাত্বক ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। শিশু দুইজন হলো উপজেলা শহরের সাহেবপাড়া রেলওয়ে হাসপাতালের পিছনের এলাকার কামালের দুই ছেলে ইসমাইল(৭) ও মিস্ত্রিপাড়ার মিস্ত্রিপাড়ার রাজুর ছেলে হাসান(৬)। সৈয়দপুরে ব্যাপকভাবে কুকুরের কামড়ের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় কুকুর আতঙ্কে মিস্ত্রিপাড়ার সারফরাজ, রাজু, সাবেত, মুন্নাসহ প্রায় ১০/১৫ জন এলাকায় পাহারা দিয়েছে রাত জেগে। মূলতঃ একটি কুকুরই এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তারপরও সাহেবপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, গোলাহাট, ওয়াপদা এলাকায় লোকজন অন্যান্য কুকুর তাড়ানোর জন্য লাঠি হাতে রাস্তায় অবস্থান করছিল। এতে এলাকার পরিচিত কুকুরগুলোর মাঝেও ভীতির সঞ্চার হওয়ায় সারারাত প্রায় কুকুরের কোলাহলশুন্য ছিল এলাকাগুলো। 

অনেকে মনে করেন আগে ডাষ্টবিনে খাবার পেয়ে খেতো কুকুরগুলো। এখন কুকুরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সেইভাবে কুকুরগুলো খাদ্য পাচ্ছেনা। ফলে কুকুরগুলো অভুক্ত হয়ে পড়ে খাদ্যের জন্য মানুষজনকে কামড় দিচ্ছে।

নীলফামারী জেনারেল হাসপাতাল সুত্র জানায় কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে  সোমবার দুপুর দুইটা পর্যন্ত হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করে জলাতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে “র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ” গ্রহণ করেছে ২২জন। এর আগের দুইদিনে কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে একই ভাবে চিকিৎসা ও ও ভ্যাকসিন গ্রহন করে ৫৩ জন। এরমধ্যে শনিবার(৬ মার্চ) ৩০ জন ও রবিবার(৭ মার্চ) ২৩ জন। এ নিয়ে তিনদিনে কুকুরের কামড়ের শিকার হন ৭৫ জন। কুকুরের কামড়ে আহতরা সকলেই জেলার ৬ উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা।

একই সুত্র মতে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে ৩৮৮ ও ফেব্রুয়ারী মাসে ২৮৬ জন কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে  “র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ” গ্রহন করে।

জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ডাঃ মেজবাহুর রহমান জানান, সরকারিভাবে কুকুর কামড়ের “র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ” বিনামুল্যে সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য কুকুর কামড়ের রোগী হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কুকুরের কামড়ে আহতদের  “র‌্যাবিস ভ্যাকসিন ” চারদফায় প্রয়োগ করা হয়। যেদিন ভ্যাকসিন নিবে তার ৩দিন পর দ্বিতীয় ডোজ, ৭ দিন পর তৃতীয় ডোজ ও ২৮ দিনে চতুর্থ বা শেষ ডোজ।

অপর একটি সুত্র জানায়, কুকুরের সংখ্যা বেড়ে গেলে সাধারণত সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলো তা নিধন করত। কিন্তু অমানবিক হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সাল থেকে সারা দেশে কুকুর নিধন বন্ধ আছে।

সংশ্লি¬ষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেড়েছে কুকুরের কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যাও। প্রতিটি কুকুর বছরে গড়ে ১২টি করে বাচ্চা দেয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কুকুরের সংখ্যা যে হারে বাড়ছে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে মানুষের ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে। তাই কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগ দরকার। কারন কুকুরের কামড়ে মানুষজনের মাঝে আতংক তৈরী করছে জলাতঙ্ক রোগের। 

নীলফামারী পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, যেহেতু  উচ্চ আদালতের নির্দেশে ২০১২ সাল থেকে সারা দেশে কুকুর নিধন বন্ধ আছে। সেহেতু  বিকল্প কিছু চিন্তা করতে করবে। যেমন কুকুর বন্ধ্যাকরণের টিকা দেয়া। এতে কুকুরের বংশ বিস্তারের সংখ্যা কমবে।এ ছাড়া কুকুরকে জলাতঙ্ক থেকে নিরাপদ করতে “ডগ ভ্যাক্সিনেশন” বা ব্যাপক হারে কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তিন বছরে তিন রাউন্ড টিকা দিলে কুকুর থেকে মানুষ বা কুকুর ও অন্যান্য প্রাণীতে জলাতঙ্ক সংক্রমণের হার শূন্যের কোঠায় নেমে আসে, যা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। এ ব্যাপারে সরকারি ভাবে পদক্ষেপ দ্রুত গ্রহন করা প্রয়োজন বলে মনে করনে মেয়র।#


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 2446337026048198181

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item