বাদাম বিক্রিতা লতা রায়ের দায়িত্ব নিলেন নীলফামারী সংসদ সদস্য নূর


নির্ণয়,নীলফামারী॥
কুড়ি বছরের লতা রায়। মেধাবী এই মেয়েটি এবার বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি পেয়েছে এ-প্লাস। নীলফামারী সরকারি করেজের ছাত্রী লতা। তার প্রচন্ড মাথার ব্যথা যন্ত্রনা। কনকন করে মাথা। এ কেমন অসুখ তার নিজেও ঠাওর করতে পারেনা। অর্থের অভাবে নিজের চিকিৎসাও করাতে পারছেনা লতা। লতার বয়স যখন সাড়ে ৪ বছর তখন তার মা ভানুমতি রায় মারা যান। বাবা জগন্দ্র রায় দ্বিতীয় বিয়ে করেন জয়শ্রী রানী রায়কে। সেই ঘরে রয়েছে হিমন রায় নামের ১৫ বছরের ছেলে। সংসারে অভাব অনটন থাকায় এখন লতা রায়ের বাবা ঢাকায় ইটভাটিতে শ্রমিকের কাজ করছেন। 

নীলফামারী জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের ডারারপাড় নিজপাড়া গ্রামের মেয়ে লতা রায় বিমাতার সংসারে অত্যাচার সহ্য করে থাকতে হচ্ছে। জীবনের স্বপ্ন সে একজন চিকিৎসক হবে। তাই নিজের ভবিষ্যত গড়তে প্রাইভেট পড়িয়ে নিজের লিখা পড়ার অর্থ জুগিয়েছিল এতোদিন। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসিতে এ-প্লাস পেয়ে সে মেডিকেলে কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করেছে। আগামী এপ্রিল মাসেই মেডিকেলে সুযোগ পাওয়ার লিখিত পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে লতা রায়। কিন্তু বাবার অভাবী সংসারে অর্থ জোগাতে লতা রায় রাস্তায় নেমেছিল বাদাম বিক্রি করতে। লোক চক্ষুর আড়ালে বাদাম বিক্রিতে নেমে তাকে পরিধান করতে হয় বোরখা।

লতা রায় জানান, বিশ্বাস, আশা ও ভালোবাসা জীবনের প্রধান বৈশিষ্ট্য। বিশ্বাসী, আশাবাদী, ভালোবাসায় পরিপূর্ণ মানুষ ব্যর্থ হয় না এবং হতাশাগ্রস্তও হয় না। হতাশা আসে ব্যর্থতার গ্লানি থেকে। সাধারণত মানুষ প্রাপ্তিতে তৃপ্ত ও অপ্রাপ্তিতে অতৃপ্ত হয়। তাৎক্ষণিক লাভ-ক্ষতিকে মানুষ সফলতা ও ব্যর্থতার মানদন্ড মনে করে এবং সেভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। তাই আমি নিজের লিখাপড়ার খরচ জোগাতে বাদাম বিক্রি করতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হই। নীলফামারী শহরে এসে বাদাম বিক্রি করতাম। যা লাভ হতো তা খারাপ ছিলনা। এ ভাবে নিজেকে তৈরী করছিল লতা আগামীদিনে মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে ডাক্তার  হবার স্বপ্নে অর্থের জোগান।

লতা রায়ের বাদাম বিক্রির বিষয় সহ তার পারিবারিক অবস্থা স্থানীয় সাংবাদিকরা জানতে পেরে বিষয়টি অবগত করা হয় নীলফামারী সদর আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সংস্কৃতি মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুরকে। তিনি ঢাকায় থাকায় বিষয়টি সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান ও জেলা যুব মহিলা লীগের সাধারন সম্পাদক ইসরাত জাহান পল্লবীকে  রবিবার(১৪ মার্চ) বিকালে লতার বাড়িতে প্রেরন করেন। সেখানে আসাদুজ্জামান নুর মোবাইলে লতার সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন এবং তার মাথার ব্যথার চিকিৎসা সহ লিখাপড়া দায়িত্ব গ্রহন করেন। পাশাপাশি তাৎক্ষনিকভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় লতা রায়কে।

দ্রুততার সঙ্গে লতা রায়ের এমন দায়দায়িত্ব গ্রহণ করা প্রসঙ্গে লতা বলেন একটি বড় হতাশা থেকে মুক্তি পেলাম। আমাদের সংসদ সদস্য আসাদুজ্জাান নুর আমার সকল দায় দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আপনারা আমার জন্য প্রার্থনা করবেন আমি যেন মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়ে একজন চিকিৎসক হতে পারি। চিকিৎসক হতে পারলে এলাকার গরীব দুখি মানুষজনের চিকিৎসা সেবা দিতে পারবো। # 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8964963901630428546

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item