ডিমলায় বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় পরকীয়া প্রেমিকাকে হত্যা॥ অবশেষে কাঠমিস্ত্রি গ্রেফতার


নির্ণয় ,নীলফামারী॥ কু-লেস নারীর লাশ উদ্ধারের ৬দিনের মাথায় ঘটনা উদঘাটন এবং হত্যাকারী কাঠ মিস্ত্রী প্রেমিক মোস্তফাকে(৩৫) অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা থানা পুলিশ।
আজ মঙ্গলবার(৯ মার্চ/২০২১) আদালতে সেই কাঠমিস্ত্রী ১৬৪ ধারায় তার জবানবন্দীতে বিচারকের কাছে অপকটে স্বীকার করলেন বিয়ের জন্য চাপ দেওয়ায় পরকীয়া প্রেমিকা এক সন্তানের জননী লাভলীকে(২৫) শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে। মোস্তাফা নীলফামারীর ডোমার উপজেলার জোড়াবাড়ি ইউনিয়নের ঝাড়পাড়া গ্রামের নুর রহমানের ছেলে। তার সংসারে স্ত্রী ও দুই ছেলে এক মেয়ে রয়েছে। হত্যার শিকার লাভলী ডোমার উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের কৃষক তইবুর রহমানের স্ত্রী। লাভলীর মরদেহ বুধবার (৩ মার্চ) বিকালে জেলার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজ সুন্দর খাতা গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত হতে ডিমলা থানা পুলিশ উদ্ধার করেছিল। স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি শেষে আদালত মোস্তাফাকে জেলা কারাগারে প্রেরন করেন।
ডিমলা থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম জানান, ভুট্রাক্ষেত থেকে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধারের সময় সুরতহালে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। সেদিন রাতেই নিখোঁজ স্ত্রীর সন্ধানে থানায় আসে ডোমার উপজেলার গোমনাতি ইউনিয়নের আমবাড়ী গ্রামের কৃষক তইবুর রহমান। তিনি মরদেহ দেখে তার স্ত্রী লাভলীকে নিশ্চিত করেন। প্রথমে সন্দেহ হওয়ায় পুলিশ তইবুরকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। লাভলীর স্বামীর মুখেই পুলিশ কাঠমিস্ত্রী মোস্তফার নাম জানতে পারে । এরপরই জেলার পুলিশ সুপার মোখলেছুর রহমানের দিক নির্দেশনায় ডিমলা থানা পুলিশ তদন্ত নেমে পড়ে। তদন্তের এক পর্যায় আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হই কাঠ মিস্ত্রী মোস্তফাকে।
ওসি জানান, হত্যাকারী মোস্তাফা আদালতে তার স্বীকারোক্তি জবাবদন্দীতে বলেছে কৃষক তইবুর রহমান বাড়ীতে আসবাবপত্র তৈরির সুবাদে তইবুর রহমানের স্ত্রী লাভলী বেগমের সঙ্গে পরিচয় হয়। সেই থেকে এক বছর ধরে লাভলীর সঙ্গে তার পরকীয়া প্রেম চলে আসছিল। এক পর্যায়ে লাভলী তাকে ঢাকায় পালিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ের জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। এতে সে প্রথমে রাজি না হলে লাভলী তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকী দেয়। উপায় না পেয়ে সে বুদ্ধি আটে লাভলীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেয়ার জন্য। পরিকল্পনা মাফিক দুইজনই সংসার-সন্তান ছেড়ে নতুন করে ঘর বাধার স্বপ্ন ২ মার্চ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাসা থেকে বেরিয়ে পড়ে। মোস্তফা এক পর্যায় হত্যার চিন্তা বাদ দিয়ে লাভলীকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেয়। তারা রাতের কোচ ধরার জন্য ডিমলার পথে হাটতে দেয়। এমন সময় মোস্তফার স্ত্রী তাকে মোবাইলে ফোন দিয়ে জানায় তাদের একমাত্র মেয়েটি খুব কান্নাকাটি করছে। তাই মোস্তফাকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে বলেন। তার একমাত্র মেয়ে কান্না করছে এ কথা শোনার পর মোস্তফা খুব আবেগপ্রবণ হয়ে ওঠে। আবার লাভলীকে বিয়ে করতে পারবে না জানালে লাভলী তার বিরুদ্ধে মামলা বা বিভিন্নভাবে হয়রানি করবে। এনিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে মোস্তফা। পরে প্রেমিকা লাভলীকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়। এই চিন্তা থেকে ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের নিজ সুন্দর খাতা গ্রামের নির্জন স্থানে লাভলীকে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ একটি ভুট্টাক্ষেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় মোস্তফা। লাভলীকে হত্যার বিষয়ে মোস্তফা আরও বলে ৫ মাস আগে সে লাভলী বেগমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়েছিল। টাকা ফেরত দিতে দেরি হলে লাভলী ও তার পরিবারের লোকজন বাজারের মধ্যে মোস্তফাকে আটক করে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা আদায় করে নিয়েছিল। এ ঘটনাও মোস্তফা প্রতিশোধ নিয়েছে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর মাত্র ৬দিনের নিরলস পরিশ্রমে কু-লেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গ্রেফতারের পর আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 8383367715391645864

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item