একটি ব্রীজের জন্য ৫০ বছর ধরে আশায় বুক বেঁধে আছেন স্থানীয়রা


মোঃ শামীম হোসেন বাবু,কিশোরগঞ্জ,(নীলফামারী) -
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়নের  চাঁড়ালকাঁটা নদীর চেয়ারম্যানের ঘাটে একটি সেতু নির্মানের জন্য ৫০ বছর ধরে আশায় বুক বেঁধে আছেন স্থানীয়রা। কিন্তু দীর্ঘ সময়ে সেতু নির্মাণ না হওয়ায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে তারা। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগের স্বীকার হচ্ছে ওই ইউনিয়নের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ। 

গত শনিবার সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বাহাগিলি ইউনিয়নের ভিতর দিয়ে বয়ে গেছে চাঁড়ালকাটা নদী। এই নদীটি ইউনিয়নটিকে দুইভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। ইউনিয়নটির দক্ষিন দিকে দক্ষিন বাহাগিলি এবং উত্তর দিকে উত্তর বাহাগিলিহিসাবে নামকরন রয়েছে।  উত্তর বাহাগিলি এলাকায় রয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ওইউনিয়ন ভুমি অফিস। ইউনিয়ন পরিষদে সরকারী ভিজিডি,ভিজিএফ,জন্মনিবন্ধন সনদ,মৃত্যু সনদ ও ভুমি অফিসে জমির খাজনা,খারিজসহ বিভিন্ন সরকারী  সেবা নিতে গেলে বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর বাহাগিলি গ্রামের ১৫ হাজার মানুষকে ময়নাকুড়ি বাজার হয়ে চেয়ারম্যানের ঘাট পার হয়ে ইউনিয়ন পরিষদে আসতে হয়। 

উত্তর বাহাগিলি গ্রামের, তাজুল ইসলাম, আমিনুর মিয়া, এন্দাদুল মিয়া, শিফাত আলীসহ অনেকেই বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর বাহাগিলির বাসিন্দাদের যে কোন কাজে ইউনিয়ন পরিষদ কিংবা কিশোরগঞ্জ উপজেলা পরিষদে যেতে হলে নিতাই ইউনিয়নের কাচারীবাজার হয়ে অথবা চাঁদখানা ইউনিয়নের কেল্লাবাড়ি বাজারে উঠে কিশোরগঞ্জ- তারাগঞ্জ আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে ঘুরে কিশোরগঞ্জ বাজারে যেতে হয়। ফলে চেয়ারম্যানের ঘাট দিয়ে পায়ে হেঁটে ১৫ মিনিট আর সাইকেল কিংবা মটর সাইকেলে ১০ থেকে ৫ মিনিটের রাস্তা যেতে একঘন্টা সময় লাগে। পাশাপাশি তিন কিলোমিটারের পরিবর্তে ঘুরতে হয় ১৫ কিলোমিটার। আমরা বাহাগিলিবাসি বার বার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করলেও তারা কোন কর্ণপাত করেনী। তারা সরকারের কাছে চেয়ারম্যানেরঘাটে একটি  ব্রীজ নির্মাণের জোর দাবি জানিয়েছে।

বাহাগিলি ইউনিয়নের উত্তর দুরাকুটি গ্রামের বাসিন্দা ও কারিগরী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ সুজাউদ্দোলা লিপটন বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে চাঁড়ালকাঁটা নদী। তাছাড়া বাহাগিলি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের পরিষদসহ কিশোরগঞ্জ বাজারে আসার জন্য নিজস্ব কোন রাস্তা নেই।  

একই গ্রামের বাসিন্দা আলম হোসেন বলেন, শুকনো মৌসুমে নদীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে অনেক কষ্টে পারাপার করলেও বর্ষার সময় নদীতে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার আর কোন উপায় থাকেনা বাধ্য হয়ে ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়।

বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান শাহ দুলু বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ঘাটে একটি সেতু নির্মানের জন্য দীর্ঘদিন থেকে প্রশাসনের উচ্চ প্রর্যায়ে আবেদন নিবেদন করে আসছি কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা। 

উপজেলা প্রকৌশলী কেরামত আলী নান্নু বলেন, বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ঘাটে জরুরী ভিত্তিতে একটি ব্রীজ নির্মাণ করা দরকার। আমি এ বিষয়ে সরকারের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের লিখিতভাবে জানিয়েছি। 

 বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের ঘাটে  ব্রীজ নির্মাণের বিষয়ে কথা বলার জন্য নীলফামারী ৪ আসনের  সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেলের সাথে কথা বলার জন্য তাঁর মোবাইল ফোনে একাাধিকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 528187939626777816

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item