ডোমার পৌরসভার রাস্তা-ঘাটগুলো এখন বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে


আনিছুর রহমান মানিক, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি>>

নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার পথ-ঘাটগুলো এখন বেওয়ারিশ কুকুরের দখলে। কুকুরের অত্যাচারে জনজীবন অতিষ্ঠ হলেও এ নিয়ে কারো মাথা ব্যথা নেই। স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে বিষয়টি পৌর প্রশাসনের দেখার কথা।  পৌর প্রশাসন বলছে কুকুর নিধনের কোন বিধান নেই।  কুকুরের কামড়ে শিশু, বৃদ্ধ, গরু, ছাগল কেউ রেহাই পাচ্ছে না। শহরজুড়ে যেন কুকুরেরই আধিপত্য চলছে। বেওয়ারিশ কুকুরের দল বেধে মিছিল নিয়ে গোটা শহরের ওলিগলি, রাস্তার মোড়ে ও প্রধান সড়কে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। 

পৌর এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সবুজ পাড়া এলাকার শফিকুলের ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা মূল্যের একটি ছাগল কয়েকটি কুকুর কামড়ে মেরে ফেলে। একই এলাকার ছকিনা বেওয়ার দুটো ছাগলকে কুকুর কামড় দেয়। এর মধ্যে একটি মারা গেলেও অপরটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে। গোডাউন পাড়ার আলম জানান, গত বুধবার তার ৪র্থ শ্রেনীর স্কুল পড়ুয়া কন্যা বৃস্টিকে নিয়ে বাজার যাওয়ার পথে সাহাপাড়া রোডে হটাৎ একটি কুকুর এসে কামড়ে দেই এবং পায়ের মাংস তুলে নেয়। মেয়েটি অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে ভর্তি করি এবং অনেক কস্টে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করি। বই দোকানী আতাউর বলেন, প্রায় রাতে বাড়ি যাওয়ার পথে এলএসডির সামনে কুকুরের তারা খেতে হয়। কলেজ পাড়ার আব্দুস সুবাহান জানান, ভোর রাতে ফজরের নামাজ মসজিদে পড়তে গেলে রাস্তার কুকুররা দল বেধে তারা করে, ভয়ে মসজিদে যেতে পারি না। পূর্ব কলেজ পাড়ার মমিজুলের স্ত্রী অঞ্জনা জানান, গত সপ্তাহে তার ২টি গর্ভবতী ছাগলকে ৪/৫টি কুকুর কামড় দিয়ে ভুড়ি বের করে দেয় ৩ দিনের মাথায় ১টি ও ৭ দিনের মাথায় অপরটি দুটি ছাগল মারা যায়। বাবুলের স্ত্রী  কুসুম বেগম জানান, গত মাসে একদল কুকুর আমার ৩টি ছাগলকে কামড় দেয় তাদের মধ্যে ২টি বাচ্চা মারা যায় চিকিৎসা নেয়ার পর মা ছাগলটি বেঁেচ যায়। কুকুরের অত্যাচারে গরু, ছাগল ও শিশুদের নিয়ে ভীষর দূচিন্তায় থাকতে হয়।     

৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আখতারুজ্জামান সুমন জানান, গত ২ মাস পূর্বে বণ ও পরিবেশ মন্ত্রনালয়ের একটি টিম ডোমার পৌর সভায় ৭দিন কাজ করে কুকুরের শরীরে ভ্যাকসিন প্রয়োগ কেেরছে। পৌরসভার মাসিক মিটিং এ কুকুরের বিষয়টি আলোচনা করবেন তিনি। গার্মেন্টস দোকানী উল্লাস জানান, প্রাইভেট পড়তে আসা স্কুল ছাত্রীরা প্রায় সময় কুকুরের কবলে পড়ে। এতে করে সর্বক্ষণ আতংকিত অবস্থায় চলা ফেরা করে তারা। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাহাপাড়া, গোডাউনপাড়া, কাজী পাড়া, বনোয়ারীর মোড়, কলেজ পাড়া বেলালের দোকান, শালকী ব্রিজ, চিকনমাটির মোড়, কাচাঁবাজার, মাংস হাটি এলাকাসহ পৌর শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দলবেঁেধ প্রতিদিন শত শত বেওয়ারিশ কুকুর ঘুরে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিন কোথাও না কোথাও কুকুরের কামড়ে মানুষসহ গরু, ছাগল আহত হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন না পেয়ে রোগী নিয়ে অনেকে পড়ছেন বিপদে। এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইব্রাহিম জানান, হাসপাতালে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন বরাদ্দ নেই। রোগী এলে প্রাাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, তবে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের জুন মাসে আমাদের একটি টিম উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রায় ৪ হাজার কুকুরকে জাল দিয়ে ধরে শরীরে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। পৌরসভার প্যানেল মেয়র এনায়েত হোসেন নয়ন  বলেন, বিষয়টি অমানবিক হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশে কুকুর নিধন বন্ধ রয়েছে, তাই পৌর কর্তৃপক্ষ কুকুর নিধন করতে পারছে না। তবে পৌর এলাকার অনেক কুকুরের বংশ বিস্তার রোধে জন্ম নিরোধ ইঞ্জেকশন ও জলাতঙ্ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন দেয়া হয়েছে। পর্বতীতে প্রতিকারের কোন বিজ্ঞপ্তি এলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। 


পুরোনো সংবাদ

নীলফামারী 3408752821225204058

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item