নীলফামারীর রামগঞ্জ ট্র্যাজেডির আজ ৭ বছর


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী॥
আজ নীলফামারীর রামগঞ্জ ট্যাজেডির ৭ বছর। তবে আজও দুই ছেলের ছবি হাতে নিয়ে কেঁদে চলেছেন সন্তানহারা মা মেরিনা বেগম। তার দুই ছেলে সহ ৫জনকে হত্যা করা হয়েছিল। তিনি হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের মাধ্যমে ফাঁসি দেখে যেতে চান। 

ঘটনার সাত বছর অতিবাহিত হলেও ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই। মামলার ২০৬ জন আসামীর মধ্যে সকলেই জামিনে আছেন। মামলাটি চার্জ গঠনের অপেক্ষায় পড়ে আছে প্রায় তিন বছর ধরে। দীর্ঘ সময়েও মামলার উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজন ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।




৭ বছর আগে ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর আজকের এই দিনে নীলফামারী সদরের টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জে জামায়াত শিবির ও বিএনপির হামলায় ক্ষতিগ্রস্থ সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি পরিদর্শনে যান নীলফামারী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর। ওই বিকালে টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ বাজারে নুরের গাড়ী বহরে হামলা চালিয়েছিল জামায়াত শিবির ওইদিন  বিএনপি। নুর প্রাণে বেঁচে গেলেও ওইদিন চার আওয়ামী লীগ নেতা ও এক পথচারী সহ ৫ জন নিহত হন। নিহতরা হলেন টুপামারী ইউনিয়নের কৃষকলীগের সভাপতি খোরশেদ চৌধুরী, দুই ভাই ওই ইউনিয়নের যুবলীগের সাংগঠনিক স¤পাদক ফরহাদ শাহ ও ছাত্রলীগ কর্মী মুরাদ শাহ ও আওয়ামী লীগ কর্মী লেবু মিয়া । এ সময় পথচারী বাঁশ বিক্রেতা আবু বক্কর সিদ্দিকও রক্ষা পায়নি হামলাকারীদের হাত থেকে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, জেলা সদরের পলাশবাড়ী ও লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা, মালামাল লুট এবং অগ্নিসংযোগে ক্ষতিগ্রস্থদের পাশে দাঁড়ানোর কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে স্বাধীনতাবিরোধী মৌলবাদী জামায়াত-শিবির চক্র। এ কারণে নুর ভাইকে হত্যার উদ্দেশ্যে ওই হামলা চালায় চক্রটি।

মামলার বাদী নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল আকতার বর্তমানে বদলীজনিত কারণে বরিশালে আছেন। মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বরের ওই ঘটনায় আমি বাদি হয়ে সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রাব্বানীকে প্রধান আসামী করে নামীয় ১৪জনসহ  অজ্ঞাত প্রায় দেড় হাজার জনকে আসামী করে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করি। মামলার তদন্ত শেষে ২০১৫ সালের ১১ মার্চ ২০৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সদর থানার উপ পরিদর্শক মো. মোস্তাফিজার রহমান। মামলাটি নীলফামারী জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে, এখনও স্বাক্ষী শুরু হয়নি।

নীলফামারী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অক্ষয় কুমার রায় বলেন,‘মামলাটি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় তিন বছর ধরে চার্জ গঠনের অপেক্ষায় আছে। ওই আদালতে বিচারক না থাকায় অগ্রগতি হচ্ছে না। সম্প্রতি বিচারকের শূণ্য পদটি পূরণ হয়েছে। মামলার আসামীদের মধ্যে দুই জন মারা গেছেন, বাকিরা জামিনে আছেন।’#


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 3391257447439092171

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item