গৃহকর্মী আখি মনিকে নির্যাতনের অভিযোগে যুগ্ম জেলা জজসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা


রংপুর প্রতিনিধিঃ

রংপুরে যুগ্ম জেলা জজসহ স্ত্রী শাশুরী ও শ্যালিকার বিরুদ্ধে গৃহকর্মীকে নির্যাতনের ঘটনায় মামলা করেছেন নির্যাতিতা কিশোরীর মা শিরিনা বেগম।

মামলা ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, রংপুর নগরীর আদর্শপাড়া এলাকায় গৃহপরিচালিকা ১৪ বছরের কিশোরী আখি মনিকে মিথ্যা টাকা চুরির অভিযোগে অমানুষিক নির্যাতন করেছেন গৃহ কর্তা জেলা যুগ্ম জজ ও তার পরিবারের লোকজন। ঘটনাটি ধামা চাপা দেয়ার জন্য নির্যাতিতা কিশোরীর মা শিরিনের সাথে জেলা যুগ্ম জজ ও তার পরিবার আপোষ মিমাংসা করতে ব্যর্থ হলে অবশেষে সাতদিন পর গত শনিবার(৫ডিসেম্বর) রাতে রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানায় মামলা দায়ের হয়েছে।

মামলাটি দায়ের করেছেন নির্যাতিতা কিশোরীর মা শিরিনা বেগম। এ মামলায় আসামী করা হয়েছে নওগাঁয় কর্মরত যুগ্ন জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল বারী তার স্ত্রী কানিজ কান্তা,শাশুড়ি খালেদা বেগম,শ্যালিকা শাপলা বেগমকে। নির্যাতিত শিশুটি বর্তমানে কোতয়ালি থানার ভিকটিম সার্পোট সেন্টারে রয়েছে। জানাগেছে, নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা ইউনিয়নের মেলাবর গ্রামের তালিকাভুক্ত ভিক্ষুক মৃত বাছেদ আলী ফকিরের মেয়ে আঁখি মনি। আঁখি মনির মা শিরিনা বেগম জানান প্রতিবেশী ডালিম চন্দ্র রায় নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার মেয়ে দুই বছর থেকে গৃহকর্মীর কাজ করতো রংপুর নগরীর আর্দশপাড়া এলাকার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ রেজাউল বারী ও তার স্ত্রী ডাঃ কানিজ কান্তা দম্পতির বাসায়।

গত ২৮ নভেম্বর শনিবার ডালিম চন্দ্র রায় শিশু আখি মনির মা শিরিনা বেগমকে নিয়ে রংপুরের ডাঃ কান্তা বেগমের বাসায় যায় । সেখানে গেলে তারা জানায় তার মেয়ে টাকা চুরি করেছে। তাই তারা তাকে আর বাসায় রাখবে না। এ সময় তার মেয়ে বলছিলো সে টাকা চুরি করেনি। তবুও বাড়ির লোকজন তাকে শারীরিক নির্যাতন ও গোপনাঙ্গে গরম ছ্যাকা দিয়েছে। এ অবস্থায় ডাঃ কান্তা বেগম ও তাঁর স্বামী রেজাউল বারী ৩শ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে মেয়েকে তার মায়ের হাতে তুলে দেয়। নির্যাতিতার মা জানায়, মেয়েকে নিয়ে গ্রামে ফিরে আসি। এখানে এসে মেয়ের শারীরিক অবস্থা খারাপ দেখতে পেয়ে গ্রামবাসিকে ডেকে বিস্তারিত জানাই।

বিষয়টি জানার পর এলাকাবাসি জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিয়ে বিস্তারিত জানায় । এরপর কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ এসে শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে সোমবার বিকেলে গুরুতর অসুস্থ শিশু আখি মনিকে নিয়ে তার মা শিরিনা বেগম রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে ভর্তি হওয়ার জন্য গেলে তাকে ভর্তি না করা হয়নি। বাধ্য হয়ে তিনি মেয়েকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।

তারপর পুরো ঘটনা জানিয়ে নির্যাতিতা গৃহকর্মী আখিমনির মা শিরিনা বেগম কিশোরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে থানা থেকে নারী পুলিশ কনস্টবলের সহায়তায় তাদের শুক্রবার রংপুর কোতয়ালী থানায় পাঠিয়ে দেয়া হয়। কোতয়ালী থানা উর্ধতন কতৃপক্ষের নির্দেশে শনিবার রাতে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজসহ চারজনকে আসামী করে মামলা রেকর্ড করা হয়

রংপুর মেট্রোপলিটন কোতয়ালী থানার ওসি (তদন্ত) রাজিবুর রহমান জানান, এ বিষয়ে আখি মনির মা বাদি হয়ে ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। বিষয়টি তদন্তাধিন আছে।##


পুরোনো সংবাদ

রংপুর 2720457069382914823

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item