চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ উদ্বোধন ১৭ ডিসেম্বর-নীলফামারীতে প্রস্তুতিমুলক সভায় রেলপথমন্ত্রী


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী॥
আগামী ১৭ ডিসেম্বর বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশের চিলাহাটি এবং ভারতের হলদিবাড়ি অংশের মধ্যে নতুন রেল যোগাযোগ উদ্বোধন করবেন। ওই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এটির উদ্ধোধন করবেন। 

আজ বৃহস্পতিবার(১০ ডিসেম্বর) দুপুর ১টায় উক্ত দুই দেশের মধ্যে রেললিঙ্ক উদ্ধোধন ঘিরে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রস্তুতিমুলক সভায় রেলপথ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন এ কথা জানান। 

এসময় রেলপথ মন্ত্রী জানান, উদ্বোধন উপলক্ষে একটি পণ্যবাহী খালি ওয়াগন চিলাহাটি থেকে হলদিবাড়ি গমন করবে। পরবর্তীতে মালবাহী ট্রেন এই রুটে চালানো হবে। পাশাপাশি ২০২১ সালের ২৬ শে মার্চ ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত নতুন যাত্রীবাহী ট্রেন চালু হবে বলে উল্লেখ করেন রেলমন্ত্রী। 

রেলমন্ত্রী জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সরাসরি রেলযোগাযোগ রয়েছে-দর্শনা, বেনাপোল, বিরল ও রহনপুর। এবার যোগ হবে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি। দেশের অন্যান্য রেলপ দিয়ে শুধু যাত্রীবাহি ট্রেন চলাচল করে। চিলাহাটি-হলদিবাড়ি রেলপথ দিয়ে যাত্রী ও পণ্য বাহি দুইটি ট্রেন চলাচল করবে। এতে ভারতের পাশাপাশি ভুটান, নেপাল, চীন, জাপান, মালেশিয়া, সিঙ্গাপুর সহ এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে বানিজ্যের একটি বড় পথ খুলে যাবে।  

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, ৭৫ পরবর্তী সময়ের সরকারগুলো দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে রেল সেক্টরকে একেবারে ধ্বংস করে দিয়েছে। তারা সড়ক যোগাযোগে কিছু উন্নয়ন করলেও রেল যোগাযোগে কোনো উন্নয়ন করেনি। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলসেক্টরকে উন্নয়নে নিয়ে এসেছে। 

রেলপথ মন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের শেষের দিকে ঢাকা থেকে কক্সবাজার নতুন ট্রেন চালানো হবে। তিনি বলেন, ডাবল লাইন ছাড়া রেলপথের উন্নয়ন সম্ভব নয়। কাজেই সারাদেশের গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলোকে ডাবল ও ডুয়েলগেজের লাইনে উন্নত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে।

এরপর রেলমন্ত্রী খুলনা-মংলা রেললাইন, ঈশ্বরদীতে আইসিডি নির্মাণ, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ নতুন রেলপথ নির্মাণ, যশোর থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত নতুন রেলপথ নির্মাণ, সৈয়দপুরে একটি আধুনিক কারখানা প্রতিষ্ঠা করা ইত্যাদি বিষয় উল্লেখ করেন। এর পাশাপাশি সিরাজগঞ্জে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) নির্মাণ বিষয়ে বিস্ত্রিত আলোচনায় তুলে ধরেন। 

নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রস্তুতিসভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাব উদ্দিন সরকার, নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আহসান আদেলুর রহমান আদেল, সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ সংসদ সদস্য রাবেয়া আলিম, রেলের যুগ্ম সচিব আতিকুর রহমান, বাংলাদেশ পশ্চিমাঞ্চন রেলওয়ে মহাব্যবস্থাপক মিহির কান্তি গুহ, অতিরিক্ত মহাব্যস্থাপক (পূর্ব) সরদার সাহাদাত আলী, যুগ্ন মহাপরিচালক (প্রকৌশল) শহীদুল ইসলাম, প্রধান প্রকৌশলী (পশ্চিম) আল ফাত্তাহ মোঃ মাসউদুর রহমান, প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী (পশ্চিম) মুহাম্মদ কুদরত-ই-খুদা, সাবেক সাংসদ এনকে আলম চৌধুরী, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার মোহম্মদ মোখলেছুর রহমান(বিপিএম,পিপিএম), পৌর মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ, ৫৬ বিজিবি নীলফামারী অধিনায়ক লে. কর্ণেল মামুনুল হক, সিভিল সার্জন মো. জাহাঙ্গীর কবির, চিলাহাটি রেললাইন নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রহীম, মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের কেন্দ্রিয় সাধারণ সম্পাদক (সমাজকল্যান) সরকার ফারহানা আকতার সুমিসহ রেলের উর্দ্ধতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, সাংবাদিকগণ প্রমুখ। 

প্রস্তুতি সভা শেষে রেলমন্ত্রী চিলাহাটি- হলদিবাড়ি রেললিঙ্ক স্থানে উদ্ধোধন অনুষ্ঠানের প্যান্ডেল ও ফলক স্থাপনের স্থান পরিদর্শন করেন।

এই রেলপথ লিঙ্ক উদ্ধোধন ঘিরে নীলফামারীর চিলাহাটি ও ভারতের ওপারে হলদিবাড়িতে সাজসাজ রব শুরু হয়েছে। 

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান তৈরি হলেও পূর্ব পাকিস্তান ও ভারতের যোগাযোগে জন্য উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রাচীন এই রেলপথটি ব্যবহার করা হত। ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সময় থেকে এই পথটি স¤পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সীমান্ত এলাকার প্রায় ৯ কিলোমিটার পথে রেললাইন তুলে নেওয়া হয়। তখন কলকাতা থেকে ট্রেন ছেড়ে বর্তমান বাংলাদেশের চিলাহাটি ও ভারতের হলদিবাড়ি স্টেশন হয়ে পৌঁছত শিলিগুড়ি। ২০১১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের সময় দুই দেশের বন্ধ রেলসংযোগগুলো চালুর সিদ্ধান্ত হয়। এর মধ্যে চিলাহাটি-হলদিবাড়ি পথও ছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতে রেলওয়ে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ অংশের ৯ কিলোমিটারে ব্রডগেজ রেললাইন ও অবকাঠামো নির্মাণে ৮০ কোটি টাকার প্রকল্প নেয়। অন্যদিকে ভারতের অংশে সাড়ে তিন কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে প্রকল্প নেয় ভারতের সরকার। এখন দুই প্রান্তেই রেললাইন নির্মাণের কাজ শেষ। 

সুত্র মতে হলদিবাড়ি-চিলাহাটি-জগতি -দর্শনা হয়ে আগে দার্জিলিং মেল চলাচল করতো “দার্জিলিং মেলকে আপাতত হলদিবাড়ি-চিলাহাটি থেকে চালানো সম্ভব নয়। তার বিকল্প হিসেবে নতুন কোনও ট্রেন চালানো যায় কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। # 


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 2913687087297730417

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item