শীতের আগমনে লেপ- তোষক তৈরিতে ব্যস্ত কারিগররা


মেহেদী হাসান উজ্জ্বল,ফুলবাড়ী(দিনাজপুর) প্রতিনিধি:

হিমালয়ের কোলঘেসা উত্তরের জেলাগুলোতে শীতের আগমনী বার্তার সাথে পাল্লা দিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে শীত নিবারণের উপকরণ লেপ-তোষক তৈরি।

প্রতিটি এলাকার কারিগররা শীত জেঁকে বসার আগেই এখন লেপ-তোষক তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। শীত মানেই প্রশান্তির ঘুমের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ঋতু। হঠাৎ করে গত এক সপ্তাহ ধরে এই এলাকায় শীতের আমেজ শুরু হয়েছে। বিকেল থেকে হালকা ঠান্ডা শুরু করে রাতে আর সকালের মৃদুু শীত শীত ভাব বলে দিচ্ছে দরজায় কড়া নাড়ছে শীতের আগমনী বার্তা। 

সেই সাথে সকালের মিষ্টি রোদে মাঠের সবুজ ঘাসের গায়ে লেগে থাকা শিশির বিন্দুর ঝলকানি শীতের সকালের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। আমাদের দেশ ৬ ঋতুর, বাংলাদেশে শীতের আগমনী বার্তা শীত কালে হওয়ার কথা থাকলেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তা ঋতুর সাথে তাল মিলছে না।

গ্রাম বাংলায় আজও একটি প্রবাদ আছে, আশ্বিনে গা করে শিনশিন। কিন্তু প্রকৃতির লীলা খেলায় কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় এখন প্রায় এক সপ্তাহ থেকে সকাল হলেই ঘন কুয়াশার আচ্ছন্ন আর শীতের আমেজ দেখা যাচ্ছে। আবার সূর্য উঠার কয়েক ঘন্টার পরেই রোদের তাপে শীত কুয়াশা দুর হয়ে গরমে ঘাম ঝড়ছে এই এলাকার মানুষের। এদিকে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে প্রায় সারা রাত ধরেই মাঝারী ধরণের শীতের কারণে অনেক বাসা-বাড়িতে শীত নিবারণের জন্য হালকা কাঁথা ও কম্বল ব্যবহার শুরু হয়েছে। 

লেপ-তোষক প্রস্তুতকারী বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা গেছে, মালিক-শ্রমিক এখন লেপ-তোষক তৈরি ও সেলাইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। তারা বলছেন, শীত মৌসুমের শুরুতেই ক্রেতারা দোকানে পছন্দমতো লেপ-তোষক তৈরির অর্ডার দিয়ে রেখেছেন। 

ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে জানায়, ভালো মুনাফা এবং বেশি বিক্রির আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তারা। প্রতিদিনই ক্রেতারাও লেপ-তোষক তৈরির জন্য ভিড় করছেন। জেলা ও পৌর শহরসহ উপজেলার ছোট-বড় হাটবাজারগুলোয় জাজিম, বালিশ, লেপ, তোষক তৈরি ও বিক্রির কাজে শতাধিক কারিগর ও ব্যবসায়ী নিয়োজিত। তবে কেউ কেউ বলছেন এবার তুলার দাম অনেক বেশি। কালার তুলা প্রতিকেজি ৩৫ টাকা, মিশালী তুলা ২০ টাকা, সিম্পল তুলা ৮০ টাকা, শিমুল তুলা ৪৫০ টাকা ও সাদা তুলা ৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। শীতের তীব্রতা বাড়লে লেপ-তোষক তৈরি ও বিক্রি আরও বাড়বে এমনটিই প্রত্যাশা ব্যবসায়ীদের। 

ফুলবাড়ী পৌর বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম  জানান, সময়মতো লেপ-তোষক ডেলিভারি দেয়ার জন্য তারা এখন ব্যতিব্যস্ত। সারা বছরের মধ্যে এ শীত মৌসুমেই তারা কাজের বেশি অর্ডার পান। ফলে এ সময় তাদের কাজ বেশি করতে হয়। এক মৌসুমের আয় দিয়েই তাদের পুরো বছর চলতে হয়। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, কাপড়ের মান বুঝে লেপ-তোষকের দাম নির্ধারণ করা হয়। তারা ৪-৫ হাত লেপের দাম পড়ছে ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা। আর তোষক তৈরিতে দাম পড়ছে ১ হাজার থেকে ১৪০০ টাকার মধ্যে। বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর লেপ-তোষকের দাম একটু বেশি পড়বে। কেননা এ বছর কাপড় ও তুলা বাড়তি দামে কিনতে হয়েছে।  

এদিকে শীত মৌসুম শুরুতেই বিভিন্ন গ্রাম্য পরিবারের গৃহবধূরা কাঁথা সেলাই শুরু করে দিয়েছেন। অনেক পরিবার রয়েছে যারা কাঁথা সেলাইয়ের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। কাটাবাড়ী গ্রামের মরিয়ম জানান, শহরের অনেক মধ্যবিত্ত পরিবার শীত মৌসুম আসার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাছে কাঁথা সেলাই করে দেয়ার জন্য কাপড় সরবরাহ করেন। নকশা ভেদে এক একটি কাঁথা সেলাই করতে মজুরি বাবদ নেয়া হয় ৫শ থেকে ১হাজার টাকা। সাংসারিক ঝামেলা থাকলেও তার মতো অনেক গৃহবধূ কাজের ফাঁকে ফাঁকে এভাবে প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ টি কাঁথা সেলাই করে বাড়তি আয় করছেন। অপরদিকে গরীব পরিবারের মহিলারা পুরান শাড়ি, লুঙ্গি দিয়ে কাঁথা তৈরি করে চলেছেন। তাদের লেপ- তোষকের স্বাদ থাকলেও অনেকের সাধ্য না থাকায় রং-বেরঙের সুতা ও কাপড়  দিয়ে কাঁথা বুনছেন শীত কামড় থেকে নিজেদের সুরক্ষার জন্য ।


পুরোনো সংবাদ

দিনাজপুর 3881873001954250308

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

ফেকবুক পেজ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item