পরিবার থেকেই শুদ্ধাচার শুরু করতে হবে॥নীলফামারীতে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বিষষক সেমিনার অনুষ্ঠিত


ইনজামাম-উল-হক নির্ণয়,নীলফামারী॥
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ও জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সহায়তা প্রকল্প (ফেজ-২) প্রকল্প পরিচালক ড. মোঃ গোলাম ফারুক বলেন, “রূপকল্প ২০২১ অনুযায়ী দেশকে ক্ষুধা, বেকারত্ব ও দারিদ্রমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে এদেশ স্বাধীন করেছিলেন। তাইতো রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে শুদ্ধাচার নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার স্বপ্নকে পুরণ করতে হবে। কারণ ব্যক্তি ও সমাজের মাধ্যমেই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে শুদ্ধাচার কার্যক্রমের সফলতা অর্জিত হবে। একমাত্র শুদ্ধাচারের মাধ্যমে মানুষের মনের পরিবর্তন হবে। 

আজ বুধভার(১১ নভেম্বর/২০২০) দুপুরে নীলফামারী সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সহায়তা প্রকল্প (ফেজ-২) এর কর্মকর্তাদের সাথে ভাচুয়াল জুম এ্যাপের মাধ্যমে ভিডিও কনফারেন্স সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, পরিবার থেকেই শুদ্ধাচার শুরু করতে হবে। দূর্নীতি মুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে শুধু সরকারী বেসরকারী সেবা প্রতিষ্ঠান নয় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবাগ্রহীতাদের দায়িত্ব স¤পর্কে সচেতন হতে হবে। 

দেশের ৮টি উপজেলায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল সহায়ক বিষয়ক কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করে বলেন শুদ্ধাচার বিষয়ক কার্যক্রম নীলফামারী জেলার গুরুত্ব সহকারে পরিচালনা করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়ে বলেন, আইন প্রয়োগ করে ব্যক্তি সংশোধন করা কঠিন কাজ, মানুষের মধ্যে নৈতিকতাবোধ জাগ্রত হলে শুদ্ধাচার কার্যক্রম সর্বক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হবে। 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনেকেই অহেতুক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে থাকি। মিথ্যা হচ্ছে সব অপরাধের মূল, মিথ্যা প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে যুদ্ধ, মারামারি, হানাহানি, কলহের সৃষ্টি হয়। আমাদের কে মিথ্যার মত জঘণ্য অপরাধ থেকে অবশ্যই দুরে থাকতে হবে। সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয় “স্বচ্ছ, জবাবদিহিতা ও দুর্নীতিরোধে সরকারী কাজে শুদ্ধাচার কৌশলপত্র পরিকল্পনা নিয়ে নীলফামারী সদর উপজেলাকে এগিয়ে যেতে হবে। শুদ্ধাচারের নীতি ও কৌশল অবলম্বন করে সরকারী বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করণের জন্য তিনি সরকারী কর্মকর্তাসহ সকলের প্রতি আহবান জানান।


এসময় আমন্ত্রিতদের প্রশ্নের উত্তর দেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের (এনআইএস-২) প্রকল্পের জাতীয় কনসালট্যান্ট শফিউল আলম। তিনি বলেন, স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির উর্ধ্বে থেকে আমাদের সকলকে আত্নসমালোচনা, আত্নসংযম ও আত্নশুদ্ধির চর্চা করতে হবে। তিনি জানান, জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের আওতাধীন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- নির্বাহী বিভাগ ও জনপ্রশাসন, জাতীয় স¤পদ, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়, সরকারি কর্মকমিশন, মহা হিসাব নিরীক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ন্যায়পাল, দুর্নীতি দমন কমিশন ও স্থানীয় সরকার। আর অরাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হচ্ছে- রাজনৈতিক দল, বেসরকারি খাতের শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, এনজিও সুশীল সমাজ, পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যম। তিনি জানান,জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলের মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী সুপারিশগুলো হচ্ছে- সিভিল সার্ভিস আইন প্রণয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কর্মজীবন উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মকালীন প্রশিক্ষণ ও প্রশিক্ষক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমতা বৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বেতন কাঠামো নির্ধারণ এবং ই-গভর্নেন্স প্রবর্তন ও প্রসার। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠিত হবে।


সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এলিনা আকতারের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিদ মাহমুদ, ভাইস চেয়ারম্যান দীপক চক্রবর্তী, শান্তনা চক্রবর্তী, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব নাহিদ সুলতানা, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের অভিযোগ ব্যবস্থাপনা অধিশাখা উপসচিব মো: মখলেছুর রহমান, ই-গভর্নেন্স-২ অধিশাখা উপসচিব ড. উর্মি বিনতে সালাম, জাইকা প্রতিনিধি মারি অনো, কোজু ওয়াকাবায়াশি, প্রকল্পের জনসংযোগ কনসালটেন্ট কুহু মান্নান প্রমুখ। 


প্রকল্প সচিব নাহিদা সুলতানা বলেন, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ও জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা(জাইকা) সহযোগিতায় জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল বা ন্যাশনাল ইন্টিগ্রিটি স্ট্রাটেজি (এনআইএস) প্রণয়ণ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ২০১২ সালে এ প্রকল্প কৌশল মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে গৃহীত হয়।  বর্তমানে এই প্রকল্পের ২য় ফেজের কাজ চলছে। 

প্রকল্পের জনসংযোগ কনসালটেন্ট কুহু মান্নান বলেন, প্রকল্পের দ্বিতীয় ফেজের অধীনে জাতীয় শুদ্ধাচার বিষয়টি দেশব্যাপি ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যে দেশের আটটি বিভাগের আট উপজেলা ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশনকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় আনা হয়েছে। উপজেলাগুলি হলো নীলফামারী সদর, যশোরের চৌগাছা, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, চট্রগ্রামের হাটহাজারি, মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া, ময়মনসিংহের ভালুকা, রাজশাহীর পবনা ও সিলেটের গোলাপগঞ্জ। 


সেমিনারে উপজেলা পর্যায়ে কার্যকরভাবে জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশল (এনআইএস) বাস্তবায়নের  লক্ষ্যে উপজেলার নাগরিকদের মাঝে এনআইএস স¤পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে এনআইএস এর অপরিহার্য উপকরণ সমূহ যেমন সিটিজেনস চার্টার, তথ্য অধিকার, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা  স¤পর্কে সচেতনতা তৈরী করা প্রয়োজন বলে অতিথিরা জানান। 


পুরোনো সংবাদ

হাইলাইটস 3212338211647794927

অনুসরণ করুন

সর্বশেষ সংবাদ

কৃষিকথা

আপনি যা খুঁজছেন

গুগলে খুঁজুন

আর্কাইভ থেকে খুঁজুন

ক্যাটাগরি অনুযায়ী খুঁজুন

অবলোকন চ্যানেল

item